দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে এই প্রথমবার ঢাকার বাইরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসেছেন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর পুণ্যভূমি সিলেটে। বিএনপির নির্বাচনী প্রচারের আনুষ্ঠানিকতারও শুরু এই সফরের মধ্য দিয়েই।
নির্বাচনী প্রচারের বাইরেও ২২ বছর পর তারেক রহমানের এই আগমন ঘিরে সিলেটে বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগও। সব মিলিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যানের আগমনে সিলেটের আজকের সকালটা হয়ে উঠেছে অন্যরকম।

স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ভাষ্য—তারেক রহমানের কাছে সিলেট কেবল একটি সাংগঠনিক অঞ্চল নয়; এর সঙ্গে নানা কারণে অনেক আবেগ জড়িয়ে। প্রথমত, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে সিলেট থেকেই প্রচারাভিযান শুরু করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে সব নির্বাচনে সিলেট থেকে প্রচারাভিযান শুরু করেছেন খালেদা জিয়াও। এর ধারাবাহিকতায় সেই সিলেট থেকেই নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করতে এসেছেন তারেক রহমান। অন্যদিকে সিলেট তাঁর শ্বশুরবাড়িও। দলের নেতার বাইরেও সিলেটের মানুষের কাছে তাঁর জন্য অন্য এক আবেগ কাজ করে।

তারেক রহমানের আগমন ও নির্বাচনী প্রচারাভিযানের প্রারম্ভে শহরের চৌহাট্টায় ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভার আয়োজন করেছে বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শুরু হতে যাওয়া এই সভাই হতে যাচ্ছে বিএনপির প্রথম নির্বাচনী সভা। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। সেখানে আগে থেকেই মঞ্চ তৈরিসহ আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি সেরে রাখা হয়েছে। নানা প্রান্ত থেকে আসা দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সমাগমে সকালের সমাবেশ যেন শুরু হয়ে যায় আগের রাত থেকেই। সময় যত গড়াচ্ছে, জনসমাগমও ততই বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই জনসমুদ্রে পরিণত হতে চলেছে সভাস্থল।
দলীয় নেতা-কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে স্লোগানে স্লেগানে মুখর করে রেখেছেন সভাস্থল। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভিড় বাড়ছে সাধারণ মানুষেরও। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের মিছিল। ব্যানার, লাল-সবুজ পতাকা আর পোস্টারে ছেয়ে গেছে সড়কের দুই পাশ। মাইকে ভেসে আসছে দলীয় গান ও স্লোগান। অনেকেই মাথায় দলীয় ক্যাপ, ব্যাজ পরে সভাস্থলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
হোটেল, রেস্তোরাঁগুলোতেও আজ বাড়তি ব্যস্ততা লক্ষ করা গেছে। সেখানে দূরদূরান্ত থেকে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের আগমনে বাড়তি ছিল প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ করার মতো। চায়ের দোকানেও জমে উঠেছে আলোচনা—তারেক রহমানের বক্তব্য, আসন্ন নির্বাচন এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে। জনসভা শুরুর আগের এই সময়টুকুতে সিলেট যেন অপেক্ষায় আছে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তের।
কুয়াশা কাটিয়ে সকালের রোদ উঁকি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তাপ ছড়াচ্ছে জনতার কণ্ঠে, চোখেমুখে ফুটে উঠছে প্রত্যাশা। ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের দিকে তাকিয়ে পুরো শহর যেন অপেক্ষা করছে—কখন শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত সেই জনসমাবেশ।
বিএনপির নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে গতকাল বুধবার রাতে সিলেটে আসেন তারেক রহমান। তারেক রহমানের সঙ্গে আসেন তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সিলেট বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে সরাসরি চলে যান শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে। জিয়ারত শেষে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে বেশখানিকটা সময় অবস্থান করে হোটেলে ফিরে রাত যাপন করেন।

সকালের সমাবেশ শুরু রাতেই
রাত গভীর হলেও সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ঘুম নেই কারও চোখে। চারদিকে শুধু স্লোগান আর অপেক্ষার উত্তাপ। ২২ বছর পর সিলেটে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান—এই খবরেই যেন জেগে উঠেছে পুরো নগরী।
তারেক রহমানের নির্বাচনী সফর ঘিরে গতকাল সিলেটের রাতের আবহ ছিল এমনই। সকালের সমাবেশ যেন শুরু হয়ে যায় রাতেই। দূরদূরান্ত থেকে দলে দলে নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা এসে জড়ো হয়েছেন মাঠে। কেউ হাতে দলীয় পতাকা, কেউ কাঁধে ব্যানার, আবার কেউ কণ্ঠ ভরে স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তুলেছেন সমাবেশস্থল। ক্লান্তি নেই, নেই বিশ্রামের ভাব। শুধু একটাই প্রশ্ন—কখন আসবেন নেতা, কী বলবেন তিনি?
সমাবেশস্থলের আশপাশের এলাকাতেও নীরবতা ভেঙে যায়। রাস্তার ধারে, দোকানের সামনে, খোলা জায়গায় জটলা বেঁধে আলোচনা চলেছে—রাজনীতি, ভবিষ্যৎ আর প্রত্যাশা। কোথাও বসে চা খাচ্ছেন কয়েকজন, কোথাও আবার মিছিল এসে মিলছে মূল সমাবেশে। রাত যত গভীর হয়েছে, মানুষের ঢল ততই বেড়েছে।
জাফলং থেকে আসা আব্দুল মান্নান মিয়া চোখেমুখে দৃঢ়তা নিয়ে বললেন, ‘নেতার জন্যই এসেছি। এত বছর পর তিনি আসছেন—এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। এবার ধানের শীষকে বিজয়ী করতেই হবে।’
সুনামগঞ্জের কয়েস খান কথায় আবেগ লুকাতে পারলেন না। তিনি বললেন, ‘আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে চাই। তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি।’
এভাবেই একেকজনের কণ্ঠে একেক গল্প, একেক আশা। কেউ এসেছেন পরিবারের সঙ্গে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে, কেউ আবার একাই। কিন্তু সবার অনুভূতি এক—দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয় নেতাকে কাছ থেকে দেখার আগ্রহ।
সমাবেশস্থলে দূর থেকে আসা নেতা-কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাত যাপন করেছেন তাঁরা। কিন্তু কারও চোখে ছিল না ঘুম। প্রিয় নেতাকে কাছ থেকে দেখা ও তাঁর কথা শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা তাঁদের।
সমাবেশস্থলে বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বাইরেও আসছেন জোটের সমর্থকেরা। তাঁরাও স্লোগানে স্লোগানে স্বাগত জানাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে।
জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের স্থানীয় নেতা রায়হান উদ্দিন বললেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা তারেক রহমান...উনি আমাদের সিলেটের জামাই। তাঁর আগমনে আমরা ভীষণভাবে উচ্ছ্বসিত।’
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও এক ঘণ্টা সময় এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আজ সকাল ১০টায় সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে।
দুলাভাইকে স্বাগত জানাল শালা-শ্যালিকারা
আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের পাশের সড়কে ছাত্রদলের একটি মিছিলে কান পেতে শোনা গেল। স্লোগানে স্লোগানে বলা হচ্ছে—‘দুলাভাইয়ের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম, শালা শালীর পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।’
তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে শহরের নিরাপত্তাব্যবস্থাও চোখে পড়ার মতো। নগরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। সেনাবাহিনীর গাড়িও টহল দিচ্ছে শহরজুড়ে।
সফরসূচির তথ্য অনুযায়ী সিলেটের জনসভা শেষ করে ঢাকার পথে যাত্রা শুরু করবেন তারেক রহমান। পথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর আইনপুরে খেলার মাঠে, হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদ মাঠে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব স্টেডিয়ামে, নরসিংদী পৌর পার্ক-সংলগ্ন এলাকায়, নারায়ণগঞ্জেও নির্বাচনী সমাবেশে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গুলশানে অবস্থিত নিজ বাসভবনে প্রত্যাবর্তনের কথা রয়েছে।
সর্বশেষ ২০০৪ সালে বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে সিলেটে এসেছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ দেড় যুগ যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর সিলেট হয়ে দেশে ফিরলেও পুণ্যভুমিতে পা পড়েনি বিএনপির এই শীর্ষ নেতার। এবার সেই আক্ষেপ শেষ হয়েছে সিলেটবাসীর।
সিলেট সফরে বিএনপির চেয়ারম্যানের সফরসঙ্গী— স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াসীন ফেরদৌস মুরাদ এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বেশ কয়েকজন তরুণ নেতা।

বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান স্থানীয় মুরব্বি ও এলাকাবাসীর দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে রাজনীতি করি। ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে আমরা আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষক কার্ড প্রবর্তন করব।’
৪৩ মিনিট আগে
জাতীয় রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে প্রার্থী। কিন্তু এরপরও সাতটি আসনে প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন জামায়াতসহ জোটের...
৮ ঘণ্টা আগে
মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ের একটি গলি। শীতের দুপুরের হালকা রোদ। গলির এক পাশে ডাব বিক্রির একটি ভ্যান। ক্রেতা খুব একটা নেই। নরম রোদে শীত পোহাচ্ছিলেন ডাবওয়ালা ও তাঁর বন্ধু। এই প্রতিবেদক এগিয়ে গেলেও নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে প্রথমে তাঁরা খুব একটা ইচ্ছুক ছিলেন না। খানিক কুশল বিনিময়ে বরফ গলে।
৮ ঘণ্টা আগে
সিলেটে পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত ও সেখানে নফল নামাজ পড়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বুধবার রাত ৯টার দিকে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে সেখানে যান। পরে তিনি ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা করেন।
১১ ঘণ্টা আগে