Ajker Patrika

স্টারমারে আস্থা নেই জানিয়ে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
স্টারমারে আস্থা নেই জানিয়ে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ
ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং (বায়ে) ও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি: বিবিসি

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে চলমান অস্থিরতার মধ্যে বড় ধাক্কা দিয়েছেন এবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে জানান, স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর তাঁর আর আস্থা নেই এবং এই পরিস্থিতিতে সরকারে থেকে যাওয়া ‘অসম্মানজনক ও নীতিবিরোধী’ হবে। এর আগে অন্তত ৯০ জন লেবার এমপি স্টারমারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো।

গত কয়েক দিন ধরেই গুঞ্জন ছিল—স্টারমারের বিরুদ্ধে লেবার পার্টির নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেন স্ট্রিটিংও। পদত্যাগপত্রে তিনি সরাসরি পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেননি। তবে দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব নির্বাচনের লড়াই শুরু করতে হলে স্ট্রিটিং অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন জোগাড় করতে হবে।

সম্প্রতি ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচন এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির পর থেকেই স্টারমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। প্রায় ৯০ জন লেবার আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। এই বিদ্রোহের মধ্যে স্ট্রিটিংই প্রথম পূর্ণ মন্ত্রী যিনি সরকার ছাড়লেন।

পদত্যাগপত্রে স্ট্রিটিং দাবি করেন—নির্বাচনের ফলাফল দেশের প্রতিটি কোণে জাতীয়তাবাদীদের শক্তিশালী করেছে, যা যুক্তরাজ্যের ঐক্যের জন্য হুমকি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘যেখানে আমাদের প্রয়োজন ছিল দৃষ্টি, সেখানে আছে শূন্যতা। যেখানে প্রয়োজন ছিল দিকনির্দেশনা, সেখানে আছে ভাসমানতা।’

তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৯ সালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে স্টারমার আর লেবারকে নেতৃত্ব দেবেন না—এটি এখন প্রায় স্পষ্ট। তাই দলকে সামনে কীভাবে এগোতে হবে, তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ডাউনিং স্ট্রিট এখনো স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে পুরো সপ্তাহজুড়েই স্টারমারের কার্যালয় জানিয়ে আসছে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের কোনো ইচ্ছা পোষণ করেননি। গত সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে স্টারমার বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে দেশ আবারও সেই ‘রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায়’ ফিরে যাবে, যা কনজারভেটিভ শাসনের শেষ বছরগুলোতে দেখা গিয়েছিল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে স্ট্রিটিং ব্রিটেনের সংকটাপন্ন জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা (এনএইচএস) সংস্কারের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর পদত্যাগের দিনই প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত মার্চ মাসে এনএইচএস-এর অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার কমেছে—যা ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বড় মাসিক উন্নতি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্যই হয়তো স্ট্রিটিংকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে। ফলে এই পদত্যাগ এখন লেবার পার্টির নেতৃত্ব পরিবর্তনের দৌড়ে স্ট্রিটিংয়ের সূচনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত