Ajker Patrika

কিউবায় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়ে নজিরবিহীন ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৫০
কিউবায় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়ে নজিরবিহীন ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
ছবি: সংগৃহীত

কিউবায় খাদ্যের উচ্চমূল্য ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশের পর বিক্ষোভকারীরা ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির একটি ভবনে হামলা চালিয়েছে। প্রকাশ্য ভিন্নমতের এমন ঘটনা দেশটিতে বিরল। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলের মোরন শহরে গতকাল শনিবার রাতে একদল বিক্ষোভকারী পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালালে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দ্বীপদেশটিতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের সংকটের কারণে জন-অসন্তোষ বাড়ছিল। দীর্ঘস্থায়ী মার্কিন তেল অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ও দাবি ‘বৈধ’ হলেও নাগরিক শান্তি বিঘ্নিত করে এমন ‘সহিংসতা ও ভাঙচুর’ সহ্য করা হবে না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, দীর্ঘ ব্ল্যাকআউট মানুষের মধ্যে ‘যথার্থভাবেই দুর্দশা’ তৈরি করেছে। এর জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে দায়ী করে বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি ‘নির্দয়ভাবে আরও কঠোর’ হয়েছে।

বিক্ষোভটি ঘটে এমন সময়, যখন হাভানার সরকার কয়েক ঘণ্টা আগেই নিশ্চিত করে যে দুই দেশের মতপার্থক্য ‘সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। গতকাল শুক্রবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে দিয়াজ-কানেল বলেন, মার্কিন তেল অবরোধের কারণে তিন মাস ধরে দেশে কোনো জ্বালানি প্রবেশ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার নেতৃত্বে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বহুবার প্রকাশ করেছেন। সোমবার তিনি বলেন, কিউবা ‘গভীর সংকটে’ রয়েছে এবং ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দখল’ নেওয়ার হুমকিও দেন।

এর আগে তিনি বলেছিলেন, জানুয়ারিতে কিউবার মিত্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর একদলীয় রাষ্ট্র হিসেবে কিউবাই ‘পরবর্তী লক্ষ্য’ হবে। এর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল কিউবায় পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এই তেল কিউবার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করত। পাশাপাশি, কোনো দেশ কিউবাকে তেল বিক্রি করলে তাদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে ছয় দশকের পুরোনো মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কিউবা আমদানি করা জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তেল অবরোধে দেশটির বিপর্যস্ত অর্থনীতি প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে পৌঁছেছে। সংকটের প্রভাব পড়েছে আবর্জনা অপসারণ, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, গণপরিবহন এবং শিক্ষা খাতে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র ইনভাসর জানায়, শুক্রবারের বিক্ষোভ ‘প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু’ হলেও পরে ‘ভাঙচুরে রূপ নেয়।’ একটি ছোট দল ভবনের প্রবেশমুখে পাথর নিক্ষেপ করে এবং রিসেপশন এলাকা থেকে আনা আসবাব দিয়ে রাস্তায় আগুন জ্বালায়। আরও কয়েকটি রাষ্ট্রীয় স্থাপনা, যেমন—একটি ফার্মেসি ও সরকার পরিচালিত বাজারও হামলার শিকার হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, লোকজন ‘স্বাধীনতা’ বলে স্লোগান দিতে দিতে জানালায় পাথর ছুড়ছে এবং রাস্তার মাঝখানে বড় আগুন জ্বলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বিশেষায়িত বাহিনী’ এই ভাঙচুরের ঘটনা তদন্ত করছে।

কিউবায় প্রকাশ্য ভিন্নমত খুবই অস্বাভাবিক। যদিও ২০১৯ সালের সংবিধানে নাগরিকদের বিক্ষোভের অধিকার দেওয়া হয়েছে, সেই অধিকারের সীমা নির্ধারণকারী আইন এখনো পার্লামেন্টে ঝুলে আছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা বাড়ার পর অনেক কিউবান রাতে বাড়িতে বা রাস্তায় হাঁড়ি-পাতিল পিটিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

রাজধানী হাভানা, যেখানে প্রতিদিন ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীও প্রতিবাদে সমবেত হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হাদি হত্যা: ফয়সালদের সীমান্ত পার করা ফিলিপ সাংমার স্বীকারোক্তিতে নতুন তথ্য

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন: সময় শেষ, এখন কী হবে

প্রাকৃতিক দুর্গ ইরান কেন দুর্জেয়, স্থল অভিযানে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র

আজকের রাশিফল: অন্যের ব্যক্তিগত জীবনে উঁকি মারা বন্ধ করুন, মোবাইল পাসওয়ার্ড বদলান

সিরাজগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত