Ajker Patrika

ধারণার চেয়েও দ্রুত সামরিক শক্তি পুনর্গঠিত করছে ইরান, শুরু হয়েছে ড্রোন উৎপাদন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ২১: ৪৩
ধারণার চেয়েও দ্রুত সামরিক শক্তি পুনর্গঠিত করছে ইরান, শুরু হয়েছে ড্রোন উৎপাদন
ইরানের একেকটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ৩৫ হাজার ডলার। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার আগে মাসে অন্তত ৫০০ ড্রোন তৈরির সক্ষমতা ছিল দেশটির। ছবি: সংগৃহীত

আমরা জানি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তেহরানের পক্ষে বছরের বছর চেষ্টা করেও এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। ইরান নাকি তাদের সামরিক ও প্রতিরক্ষাশিল্প খাত আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুতগতিতে পুনর্গঠন করছে। এমনকি গত এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া ছয় সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে তেহরান ইতিমধ্যে তাদের ড্রোন উৎপাদন পুনরায় শুরু করে দিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত কয়েকটি সূত্রের বরাতে একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সিএনএন।

সিএনএনকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত চারটি ভিন্ন সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমানের চেয়ে অনেক কম সময় নিচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাঁটি, লঞ্চার (ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক) ও প্রধান প্রধান অস্ত্র উৎপাদন কারখানাগুলো তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মেরামত করে ফেলছে।

এদিকে নিজ দেশের গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় দীর্ঘ মেয়াদে ইরানের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। কিন্তু তাঁর দেশের গোয়েন্দা তথ্য বলছে ভিন্ন কথা।

মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানকে যে সময়সীমা দিয়েছিল, ইরানিরা তা অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন জটিল অস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরিতে কিছুটা সময় লাগলেও মার্কিন গোয়েন্দাদের সর্বশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ইরান তাদের ড্রোন আক্রমণের ক্ষমতা সম্পূর্ণ আগের অবস্থায় (শতভাগ) ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ড্রোন উৎপাদনক্ষমতা পুনরুজ্জীবিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের (ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশসমূহ) জন্য বড় উদ্বেগের। কারণ, ইরান ইতিমধ্যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ঘাটতি পুষিয়ে নিয়েছে। এখন যদি কোনো কারণে আবার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরান তাদের বিপুল পরিমাণ আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর ওপর একযোগে হামলা চালাতে পারে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার পরেও কীভাবে এত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইরানের এই অভাবনীয় গতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন।

মার্কিন গোয়েন্দাদের অভিযোগ, প্রথমত, রাশিয়া ও চীনের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে ইরান। মার্কিন নৌ অবরোধ সত্ত্বেও চীন গোপনে ইরানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ও মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে যাচ্ছে।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছিলেন, চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপাদান দিচ্ছে। অবশ্য চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অধীনে ইরানের ওপর যতটা ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আশা করেছিল, বাস্তবে ক্ষতি তারচেয়ে অনেক কম হয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলে মার্কিন গোয়েন্দারা ধারণা করেছিলেন, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার অক্ষত আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক (সংশোধিত) রিপোর্টে দেখা গেছে, ইরানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৬৬ শতাংশ) লঞ্চার সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরানিরা মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া লঞ্চারগুলো অক্ষত অবস্থায় খনন করে বের করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া দেশের মোট ড্রোন সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ (হাজার হাজার ড্রোন) ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ মিসাইলগুলোর সিংহভাগই এখনো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে, যা দিয়ে তারা যেকোনো সময় হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে।

পেন্টাগন ও সেন্টকমের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

ইরানের এই দ্রুত সামরিক পুনর্গঠনের তথ্য মার্কিন সামরিক কমান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। গত মঙ্গলবার মার্কিন হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের ৯০ শতাংশ প্রতিরক্ষাশিল্পের ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আগামী কয়েক বছর তারা আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।

কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন দেখাচ্ছে, সেন্টকম কমান্ডারের এই দাবি অবাস্তব। গোয়েন্দা সূত্রগুলো স্পষ্ট জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় ইরানের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোর বড় ক্ষতি হলেও তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যায়নি। এটি পুনর্গঠন করতে ইরানের কয়েক বছর নয়, বড়জোর মাত্র কয়েক মাস সময় লাগবে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল সিএনএনকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী। প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই যেকোনো স্থানে, যেকোনো সময় আঘাত হানার মতো শক্তিশালী অস্ত্রাগার আমাদের রয়েছে এবং আমাদের স্বার্থ রক্ষা করতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

খরচাপাতি দিলে হালকাপাতলা করুম: আসামিকে দারোগা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি, তৈরি হচ্ছে বিধিমালা, বাড়ছে জামানত

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্য, ‘আগুন ধরে গিয়েছিল’ নেতানিয়াহুর মাথায়

বেসরকারি খাত: সুরক্ষিত হচ্ছে চাকরি-সুবিধা

৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল চট্টগ্রাম, ঘটনাস্থল ঘেরাও

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত