Ajker Patrika

ইয়ং ফর্টিজ: মিলেনিয়ালদের বিদ্রূপ করতে জেন-জির নতুন ভাষা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭: ৩০
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি নিয়মিত ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন জি সেউং-রিয়েল। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি নিয়মিত ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন জি সেউং-রিয়েল। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া

৪১ বছর বয়সী জি সেউং-রিয়েল নিজের ফ্যাশন সচেতনতা নিয়ে বেশ গর্ববোধ করেন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি নিয়মিত ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন; যেখানে সবাই জানে, যত বেশি লাইক, তত বেশি কুল বা স্মার্ট আপনি।

তবে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার এই বাসিন্দা অবাক হয়ে দেখেন, তাঁর বয়সী পুরুষেরা ইন্টারনেটে উপহাসের পাত্র হয়ে উঠেছেন। জেন-জি এবং তুলনামূলক তরুণ মিলেনিয়ালদের ফ্যাশন অনুকরণ করার জন্যই তাঁদের নিয়ে ঠাট্টা করা হচ্ছে।

এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, সেউং-রিয়েলের বয়সী পুরুষদের নিয়ে তৈরি করা ব্যঙ্গচিত্রে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া; যেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বানানো হয়েছে। এসব ব্যঙ্গচিত্রে দেখা যাচ্ছে, একজন মাঝবয়সী ব্যক্তি স্ট্রিট-ওয়্যার (আধুনিক তরুণদের পোশাক) পরে হাতে একটি আইফোন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তরুণেরা তাঁদের ডাকছে ‘ইয়ং ফর্টিজ’ বলে।

এই ট্রলের কারণে সেউং-রিয়েলের প্রিয় নাইকি এয়ার জর্ডান জুতো এবং স্টুসি টি-শার্টগুলো এখন হাসাহাসির বস্তুতে পরিণত হয়েছে; যা তাঁকে বেশ ক্ষুব্ধ করেছে।

বিবিসিকে সেউং-রিয়েল বলেন, ‘আমি শুধু সেই জিনিসগুলোই কিনছি এবং পরছি, যা আমি অনেক আগে থেকেই পছন্দ করতাম। এখন সেগুলো কেনার সামর্থ্য হয়েছে। এর জন্য আমাকে আক্রমণ করার কী আছে?’

বিবিসি বলছে, নব্বইয়ের দশকে যাঁরা রুচির পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, গত সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৭ বাজারে আসার পর সেই ৪০ বছর বয়সীদের প্রতি জনমত বদলে যায়। যে আইফোন একসময় শুধু তরুণদের ফ্যাশন ছিল, এখন তা ‘ইয়ং ফর্টিজ’দের একটি বেমানান বা সস্তা স্টাইল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

জেন-জি সদস্য জং জু-ইউনের মতে, ‘এরা হচ্ছে সেই মানুষ, যারা তরুণ সাজার জন্য মরিয়া চেষ্টা করে এবং সময় যে পেরিয়ে গেছে, তা মেনে নিতে অস্বীকার করে।’

পরিসংখ্যানও এই পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অধিকাংশ তরুণ এখনো স্যামসাং গ্যালাক্সির চেয়ে আইফোন বেশি পছন্দ করলেও গ্যালাপের গবেষণা অনুযায়ী, গত এক বছরে জেন-জি গ্রাহকদের মধ্যে অ্যাপলের বাজার হিস্যা ৪ শতাংশ কমেছে আর ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে বেড়েছে ১২ শতাংশ।

কোরিয়া ইউনিভার্সিটির সেজং ক্যাম্পাসের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক লি জে-ইন বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এই দ্বন্দ্ব আরও বেড়েছে। কারণ, সেখানে একই জায়গায় একাধিক প্রজন্মের মানুষের সংমিশ্রণ ঘটছে। আগে একেক প্রজন্মের মানুষ আলাদা আলাদা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে থাকত। সেই পুরোনো ধারা এখন অনেকটাই বিলুপ্ত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত