
বিশ্বের অস্ত্র বাজারে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিতে রেকর্ড গড়েছে ভারত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। এক দশক আগে অর্থাৎ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ১ হাজার ৫২২ কোটি রুপি। সেই তুলনায় গত ১০ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রায় ২৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এনডিটিভি ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির গ্রাফ পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, গত এক দশকে এতে ব্যাপক প্রসারণ ঘটেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ১ হাজার ৫২২ কোটি রুপি। সেই তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা প্রায় ২৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এই অগ্রযাত্রায় সামান্য কিছু ওঠানামা ছিল, তবে সামগ্রিক প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রথমবারের মতো ১০ হাজার কোটি রুপির গণ্ডি অতিক্রম করে। করোনা মহামারির সময় বিশ্বব্যাপী স্থবিরতার কারণে রপ্তানিতে কিছুটা ভাটা পড়লেও ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে এটি ফের দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি যেখানে ছিল ২১ হাজার ৮৩ কোটি রুপি, সেখান থেকে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদাই এই উল্লম্ফনের প্রধান কারণ।
ভারতের অস্ত্রের প্রধান ক্রেতা দেশসমূহ
২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির বড় অংশটি কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এর মধ্যে ভারতের অস্ত্রের সবচেয়ে বড় গন্তব্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মিয়ানমার। দেশটি ভারতের মোট প্রতিরক্ষা রপ্তানির ২৮ শতাংশ কিনেছে। এরপরই রয়েছে ফিলিপাইন (১৯ শতাংশ) এবং আর্মেনিয়া (১৫ শতাংশ)। এই তিনটি দেশ সম্মিলিতভাবে ভারতের মোট রপ্তানি গন্তব্যের ৬০ শতাংশেরও বেশি দখল করে আছে।
ভারতের প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক দেশগুলোও এই তালিকায় বেশ সামনের সারিতে রয়েছে। শ্রীলঙ্কা মোট রপ্তানির ১৩ শতাংশের অংশীদার। এ ছাড়া ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাস (৮ দশমিক ৩ শতাংশ) এবং সেশেলস (৬ শতাংশ) ভারতের উল্লেখযোগ্য ক্রেতা ছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশ সরঞ্জাম কিনেছে, যা এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, মরক্কো এবং মালদ্বীপ সম্মিলিতভাবে ভারতের মোট রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ গন্তব্য হিসেবে স্থান পেয়েছে।
কী কী সরঞ্জাম রপ্তানি করছে ভারত
ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির ঝুড়িতে সবচেয়ে বড় অংশটি দখল করে আছে নৌ-যান বা ‘নেভাল প্ল্যাটফর্ম’। ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট প্রতিরক্ষা রপ্তানির ৫৫ শতাংশই ছিল যুদ্ধজাহাজ ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম, যা অন্যান্য সব ক্যাটাগরি থেকে অনেক এগিয়ে।
রপ্তানি হওয়া অন্যান্য সরঞ্জামের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হলো আর্টিলারি সিস্টেম বা কামান, যা ১৩ শতাংশ। এর ঠিক পরেই রয়েছে মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র, যা মোট রপ্তানির ১২ শতাংশ। এ ছাড়া সেন্সর ও নজরদারি ব্যবস্থা ৯ শতাংশ এবং উড়োজাহাজ বা এয়ারক্রাফট মোট রপ্তানির ৬ শতাংশ দখল করে আছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সাঁজোয়া যান শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে প্রথম মার্কিন ড্রোন হামলার পর এক নারী সেনা তাঁর মায়ের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়ে লেখেন, ‘খবর দেখার সময় মায়ের মনের ভেতর ভয়ের সাইরেন বাজছিল, কারণ তিনি জানেন তাঁর মেয়ে সেনাবাহিনীতে আছে।’
৪০ মিনিট আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম ইরান থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কিনেছে ভারত। দেশটির তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
৪৪ মিনিট আগে
চলমান যুদ্ধে এটিই ট্রাম্পের শেষ আলটিমেটাম কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা চলছে। এর আগেও তিনি একাধিকবার এমন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। এর একটি কালানুক্রমিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
৫ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিয়ার শেবার কাছে নিওত হোভাব শিল্প এলাকায় কয়েক শ কেজি ওজনের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। উত্তর ইসরায়েলেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে