Ajker Patrika

কাতারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ঘোষণা ট্রাম্পের, তেহরানের অস্বীকার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কাতারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ঘোষণা ট্রাম্পের, তেহরানের অস্বীকার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও হরমুজ প্রণালিতে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই কাতারের রাজধানী দোহায় ইরানের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর পক্ষে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লেভিট জানান, চলতি সপ্তাহে দোহায় সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার সেখানে যাচ্ছেন। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের দাবি করা হলেও, তেহরান আপাতত মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমন কোনো বৈঠকের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে দাবি করেন, ইরান নিজেই এই জরুরি বৈঠকের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারের দোহায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর পরপরই ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, বিশেষ দূত উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইতিমধ্যেই দোহার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন এবং এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশের কারিগরি টিমগুলোর মধ্যেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলছে। তবে যেকোনো ধরনের সহিংসতার জবাব সমান সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরপর দুই পক্ষ আবারও সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রেখে আলোচনার টেবিলে ফিরতে সম্মত হয়েছে।

তবে ওয়াশিংটনের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেছে তেহরানে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা বা সময়সূচি তাদের জানা নেই। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়ানো এই সংক্রান্ত খবরগুলো সত্য নয়।

তবে তিনি এটি নিশ্চিত করেছেন যে, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের সঙ্গে ইরানের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি মাসের শুরুতে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের আলোকে প্রথমে দুই দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতার কারণে এখন আলোচনার মূল অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজের উত্তেজনা প্রশমন ও নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান অবস্থান একদম বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। ইরানের বক্তব্য হলো, যেকোনো মূল্যেই হোক তারা এই জলপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখবে এবং স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী তারা এই কর্তৃত্বের বৈধ অধিকারী। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান কোনোভাবেই এককভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে পারে না এবং এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত