Ajker Patrika

মা যখন জানলেন তাঁর কিশোরী কন্যার বয়ফ্রেন্ড দণ্ডপ্রাপ্ত শিশু যৌন অপরাধী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ মে ২০২৬, ১৯: ১৭
মা যখন জানলেন তাঁর কিশোরী কন্যার বয়ফ্রেন্ড দণ্ডপ্রাপ্ত শিশু যৌন অপরাধী
অভিযুক্ত তরুণ ব্লেক মুরহাউস। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরী মেয়ের সঙ্গে বাড়িতে দেখা করতে আসতেন এক তরুণ। এমনকি মাঝেমধ্যে মেয়ের সঙ্গে রাতও কাটাতেন ওই তরুণ। মা জানতেন, তরুণটি মেয়ের বয়ফ্রেন্ড। কিন্তু শিগগির তিনি জানতে পারেন, ওই তরুণ এক যৌন নিপীড়ক। আদালতে দণ্ডও পেয়েছেন। কিন্তু সেসব তথ্য গোপন করে তিনি কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাজ্যে। ১৭ বছর বয়সী কিশোরী ও তার নবজাতক সন্তানের সঙ্গে পরিচয় গোপন করে মেলামেশা করেন ব্লেক মুরহাউস (২১) নামের এক যৌন অপরাধী। বিষয়টি ধরা পড়ার পর দুই বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

প্রিস্টন ক্রাউন কোর্টের শুনানিতে বিচারক জানান, নিজের অপরাধের জন্য অনুশোচনা প্রকাশের ভান করে ও আসল পরিচয় লুকিয়ে ওই কিশোরী এবং তার পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা করেছিলেন এই তরুণ। পরে পুলিশের বিশেষ শাখার একটি ফোনকলের সূত্র ধরে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হলে ওই কিশোরীর মা ‘আতঙ্কিত ও শিউরে’ ওঠেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ব্লেক মুরহাউস চলতি বছরের মার্চ মাসে এক ১৪ বছর বয়সী শিশুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সে সময় আদালত তাঁকে তিন বছরের একটি কম্যুনিটি অর্ডার (সামাজিক নজরদারি ও সংশোধনমূলক শাস্তি) দেন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কঠোর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

তবে গত ৬ মার্চ চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার সময় মুরহাউস আদালতে বলেন, তিনি নিজের কাজের জন্য অনুতপ্ত এবং আদালতের সব শর্ত মেনে চলবেন। কিন্তু আদালতের কাছে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময়েই তিনি গোপনে ১৭ বছরের এক কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

আদালতকে জানানো হয়, ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্ল্যাকপুলের বাসিন্দা মুরহাউস অনলাইনের মাধ্যমে ওই ১৭ বছর বয়সী কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে তিনি ওই কিশোরী ও তার নবজাতক সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে যান এবং বেশ কয়েকবার কিশোরীর শোয়ারঘরে রাত কাটান, যেখানে শিশুটিও ঘুমাত। তবে ওই কিশোরী আদালতের কাছে দাবি করেছে যে, তাদের মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্ক ছিল না।

গত ৬ মার্চ যখন আদালত তাঁর ওপর ‘সেক্সুয়াল হার্ম প্রিভেনশন অর্ডার’ (শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ নিষেধাজ্ঞা) জারি করেন, তখন মুরহাউস তাঁর প্রেমিকা ও প্রেমিকার মাকে মিথ্যা বলেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, তাঁর আদালতে হাজিরা মূলত একটি মারামারির ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি যে একজন তালিকাভুক্ত যৌন অপরাধী, সেই তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রাখেন।

হত্যাকাণ্ড বা জঘন্য অপরাধীদের ওপর নজরদারির দায়িত্বে থাকা ল্যাঙ্কাশায়ার পুলিশের বিশেষ শাখা মশোভোর একটি ফোনকলের মাধ্যমে এই প্রতারণার পর্দা উন্মোচিত হয়।

মার্চের মাঝামাঝি সময়ে মুরহাউসের ফোনে ওই বিশেষ শাখার একটি কল এলে ওই কিশোরীর মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। পরে সে ইন্টারনেটে মুরহাউসের নাম লিখে অনুসন্ধান চালালে দেখতে পায়, সে একজন তালিকাভুক্ত শিশু যৌন অপরাধী।

সত্য জানতে পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে মুরহাউসকে অবিলম্বে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলা হয় এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। মুরহাউস পরে নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

মামলার শুনানিতে মুরহাউস দায় স্বীকার করে নেন। আদালত মুরহাউসের আগের অপরাধের (১৪ বছরের শিশুর সঙ্গে যৌন আচরণ) জন্য স্থগিত থাকা ২ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ড পুনরায় কার্যকর করেন এবং নতুন করে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড যোগ করে মোট ২ বছর ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

তথ্যসূত্র: ডেইলি মিরর

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত