Ajker Patrika

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, নির্বাসিত রেজা পাহলভিকে সাক্ষাৎ দেবেন না ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে
ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

ইরানের টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার দ্য হিউ হিউইট শো নামে এক পডকাস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি তাঁকে দেখেছি। তাঁকে একজন ভালো মানুষ বলে মনে হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর সঙ্গে দেখা করাটা আমার কাছে যথাযথ মনে হচ্ছে না।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে, ওয়াশিংটন এখনই ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে পাহলভিকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত নয়। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমাদের উচিত পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং দেখা যে শেষ পর্যন্ত কে (নেতৃত্ব হিসেবে) উঠে আসে।’

পাহলভির সঙ্গে দেখা না করলেও আন্দোলনরত ইরানিদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘আপনাদের দেশের যা অবস্থা হয়েছে, তা সত্যি লজ্জাজনক। ইরানিরা অত্যন্ত সাহসী মানুষ।’

এর আগেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানি বাহিনী যদি নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর আঘাত’ হানবে। বৃহস্পতিবার তিনি সেই হুমকির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, তবে তাদের ‘নরক’ দেখতে হবে।

এই অবস্থায় রেজা পাহলভিও বিক্ষোভের আহ্বান জানান। গতকাল তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘লাখো ইরানি রাস্তায় নেমেছে এবং তারা পরিবর্তন চায়। আপনারা বাড়ি থেকে সরকারের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিন।’ ট্রাম্পের বক্তব্যের জন্য তিনি তাঁকে ধন্যবাদও জানান।

এদিকে ইরানের সরকার বিক্ষোভের চাপ সামাল দিতে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী ইন্টারনেট ও ফোনসেবা বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। ইন্টারনেট নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস নিশ্চিত করেছে, ইরান এখন সম্পূর্ণ ইন্টারনেট শাটডাউনের কবলে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন ৩১টি প্রদেশের সব কটিতেই ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, গত ১২ দিনের সংঘর্ষে অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আটক করা হয়েছে ২ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষকে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও পিছু হটতে নারাজ। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে অপহৃত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা শত্রুর কাছে নতি স্বীকার করব না। শত্রুকে আমরা হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করব।’

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার ঘটনা এবং এরপর চরম অর্থনৈতিক ধস দেশটিকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, কারাকাসের মতো তেহরানেও কোনো নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে কি না।

রেজা পাহলভি ইরানের শেষ শাহের ছেলে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে তাঁর বাবা ক্ষমতাচ্যুত হন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পাহলভি নিজেকে ইরানের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের একজন সম্ভাব্য নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন।

কিন্তু ট্রাম্পের মন্তব্য ইঙ্গিত দেয়, ওয়াশিংটন তাঁর সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠক করার প্রস্তুতিতে নেই। ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব কেমন হবে, সেটা আগামী সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইসিসি থেকে বিসিবি বছরে আসলে কত টাকা পায়

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে ইরান, বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পতুষ্টি করছে বললেন খামেনি

খামেনির ছবিতে আগুন দিয়ে সিগারেট ধরাচ্ছেন ইরানি নারীরা—নেপথ্যে কী?

ছয়জনের লিফটে বরসহ ১০ জন উঠে আটকা, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় উদ্ধার

‘রাতারাতি’ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম জাপান—চীনের বিস্ফোরক দাবি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত