Ajker Patrika

সৌদি আরবের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের নৌ অবরোধ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ২২: ০৮
সৌদি আরবের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের নৌ অবরোধ
ইয়েমেনের সানায় একটি সমাবেশে অংশগ্রহণকারী হুতি যোদ্ধাদের দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ভয়াবহ ও অনিশ্চিত মোড় নিয়েছে। আজ সোমবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ঘোষণা দিয়েছে, তারা সৌদি আরবের ওপর একটি নৌ অবরোধ আরোপ করছে। হুতিদের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সংঘাতকে নতুন এক মাত্রায় নিয়ে গেছে এবং এর ফলে গালফ অঞ্চলের বাইরেও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নতুন করে হুমকি তৈরি হয়েছে।

হুতিদের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের ‘অন্যায় ও নিপীড়নমূলক অবরোধের’ জবাবে তারা ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে এই সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে।

সৌদি আরব সাধারণত বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তাদের সব ধরনের জ্বালানি তেল পরিবহন করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এই অবরোধের জেরে হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে। আর যদি তা হয়, তবে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। কারণ, এই প্রণালি বন্ধ হলে বেশির ভাগ সৌদি তেল ওই অঞ্চল থেকে বের হতে পারবে না। ইতিমধ্যে গালফ যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের প্রবাহ ১০ শতাংশ কমেছে, এই নতুন অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।

পাল্টাপাল্টি হামলা ও প্রাণহানি

এদিকে গত কয়েক রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে টানা বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। আজ ইরানের তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর ও বন্দর ইমাম খোমিনিতে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমান, কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প, আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি ও সিরিয়ায় মার্কিন অবস্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া কুয়েতের একটি পানিশোধন কেন্দ্রে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা সরাসরি অসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিস্থিতি এখন অনিশ্চয়তায়

সৌদি আরবের ওপর হুতিদের এই হুমকির কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালির পাশে একটি জাহাজে রহস্যময় প্রজেক্টাইলের আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ‘অনিরাপদ’ পথে যাওয়ার কারণে তাদের তেলের দুটি ট্যাংকার বিস্ফোরিত হয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা কি থামছে

যুদ্ধের এই ভয়াবহতার মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছুটা কূটনৈতিক আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই আলোচনা পুনরায় শুরুর পথ বন্ধ করে দেয়নি। তেহরানের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, গত মাসে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি বাঁচানোর জন্য ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পেয়েছে তারা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর কাছ থেকে আসা প্রস্তাবগুলো নিয়ে তাঁদের কূটনৈতিক তৎপরতা সক্রিয় রয়েছে। পাকিস্তানও এই সংকট নিরসনে নতুন করে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালনের জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ইরান যত দিন আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে, আমাদের তার জবাব দিতেই হবে।’ তবে তিনিও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান ও লেবাননে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত