Ajker Patrika

‘বাংলাদেশ পথ দেখিয়েছে’, নেহার বক্তব্যের নেপথ্যে ভারতে সরকার পতনের চেষ্টা: বিজেপি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ৩০
‘বাংলাদেশ পথ দেখিয়েছে’, নেহার বক্তব্যের নেপথ্যে ভারতে সরকার পতনের চেষ্টা: বিজেপি
প্রশান্ত ভূষণ, নেহা বোরা ও অভিজিৎ দীপকে। ছবি: সংগৃহীত

অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরার একটি সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হচ্ছে। ৬ অক্টোবর বাংলাদেশের বামপন্থী দল সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়। সেই সম্মেলনের পর শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছেন নেহা। ভিডিওবার্তায় তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের তরুণদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি বলেছেন, তাঁদের দেশের চলমান আন্দোলনে পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ভিডিওটি প্রকাশ করেছে। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পর ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের রেজিম চেঞ্জ বা সরকার পরিবর্তন-সংক্রান্ত একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ওপর চটেছে মোদির গেরুয়া শিবির।

বিজেপির অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ও তাঁর রাজনৈতিক পরিমণ্ডল বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আন্দোলনের মতো পরিস্থিতি ভারতে তৈরি করে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পতনের চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ও সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নিয়ে রাহুলের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভে নেহা বোরা ও প্রশান্ত ভূষণও অংশ নিয়েছেন।

বাংলাদেশ নিয়ে নেহা কী বলেছিলেন

ভিডিওটিতে নেহা বোরাকে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে নেহা বলেন, ‘সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলনে বিপ্লবী শুভেচ্ছা ও লাল সালাম জানাচ্ছি। আমরা জানি, আমাদের দেশে যে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন চলছে, তা প্রথম শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে। তারাই আমাদের এই আন্দোলনের পথ দেখিয়েছে।’

নেহা বোরা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সফল আন্দোলনের জন্য বাংলাদেশি তরুণদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার আদায়ে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। একইভাবে আমাদের দেশেও গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার আদায়ে আন্দোলন চলছে। আমরা জানি, বাংলাদেশের তরুণেরা যে মৌলবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে, একই মৌলবাদের বিরুদ্ধে আমাদের তরুণেরাও আন্দোলন করছে।’

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ভারতের তরুণদের জন্য বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে উল্লেখ করে নেহা বলেন, ‘আপনাদের লড়াই আর আমাদের দেশের তরুণদের চলমান লড়াই একই। আপনারা এই আন্দোলনে আমাদের পথপ্রদর্শক।’

প্রশান্ত ভূষণের মন্তব্য

নেহার বক্তব্যের এক দিন পর আজ বৃহস্পতিবার নেহা বোরা, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অভিজিৎ দীপকে ও প্রশান্ত ভূষণ যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে ভূষণ সরাসরি ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রেজিম চেঞ্জ অবশ্যই হবে। আমরা সবাই রেজিম চেঞ্জ চাই। এতে কি কোনো ভুল আছে?’

এরপর এই দুই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি রাহুল গান্ধীকে নতুন করে আক্রমণ শুরু করে।

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, নেহা বোরা ও প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্য রাহুল গান্ধীর চিন্তারই প্রতিফলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেহা ও ভূষণের বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে তিনি অভিযোগ করেন, এটি রেজিম চেঞ্জের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি।

ভান্ডারি আরও দাবি করেন, রাহুল গান্ধী ও তাঁর সহযোগীরা রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ভারতে অরাজকতা তৈরি করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে চাইছেন।

এরপর আজ বিজেপির সংবাদ সম্মেলনে ভান্ডারি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও জনতার মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থা ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘রেজিম চেঞ্জ’। তাঁর অভিযোগ, ভারতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।

ভান্ডারি আরও বলেন, রাহুল গান্ধী নেহা বোরাকে তাঁর ‘পোস্টার গার্ল’ বানিয়েছেন। এর অর্থ, নেহার মতামতের সঙ্গে রাহুলের চিন্তার মিল রয়েছে।

বিজেপির নতুন আইটি সেলপ্রধান দীপক মাহস্কেও নেহা ও ভূষণের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এসব বক্তব্য ভারতের রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরির প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজেপি আরও অভিযোগ করেছে, পরপর দেওয়া ‘রেজিম চেঞ্জ’ মন্তব্যগুলো অরাজকতাকে বৈধতা দেওয়ার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। কয়েক মাসের সহিংসতায় পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়। একপর্যায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং ভারতে আশ্রয় নেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই অস্থির সময়ে বাংলাদেশে ইসলামপন্থী উগ্রপন্থীদের তৎপরতা বেড়ে যায় এবং মন্দির ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।

নেহা ও প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের পর বিজেপি বাংলাদেশের ওই ঘটনাপ্রবাহকে ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে তাদের অভিযোগ আরও জোরালো করেছে। তবে নেহা বোরা ও রাহুল গান্ধী এখন পর্যন্ত বিজেপির এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত