Ajker Patrika

পাকিস্তানের স্কুলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪—নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ৫৯
পাকিস্তানের স্কুলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪—নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: বিবিসি

পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুল ভবন ধসে অন্তত ৩৩ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, ভবনের ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত চাপ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিকে এ প্রাণহানির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সব স্কুলের নিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিবিসি জানায়, আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে পেশোয়ারের দির কলোনিতে অবস্থিত আল-খায়ের স্কুলে ক্লাস চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৮ মিনিটে জরুরি উদ্ধারকর্মীদের খবর দেওয়া হয়। উদ্ধার কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ভবনের ওপরের তলার একটি শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে পড়লে নিচের তলাগুলোর ছাদও ভেঙে পড়ে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে বহু শিক্ষার্থী।

পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতাল ৩২ শিশু ও এক শিক্ষকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। নাসিরুল্লাহ খান বাবর মেমোরিয়াল হাসপাতালে মারা যায় আরও এক শিশু। আহত হয়েছে অন্তত এক ডজন মানুষ। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। পাশের একটি স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক জানান, অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তিনি নিজ হাতে ছয় শিশুকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করেন। প্রথমে কয়েকজন শিশুকে জীবিত ও কথা বলতে দেখা গেলেও পরে তাদের মৃত্যুর খবর পান তিনি। স্থানীয় অন্য বাসিন্দারাও কোদাল দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শিশুদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।

পেশোয়ারের পুলিশপ্রধান মিয়ান সাঈদ জানান, ভবনটিতে নিম্নমানের ছাদ নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পুরো কাঠামোটি অতিরিক্ত ভার বহন করছিল। ভবনটি ছিল অস্থায়ীভাবে নির্মিত। সরু গলিতে স্কুলটির অবস্থান হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

পুলিশপ্রধানের ভাষ্য, এটি গুরুতর অবহেলার ঘটনা। ভবন নির্মাণবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা হবে। এরই মধ্যে স্কুলের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভবনটি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় লোকজনকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনায় দুই ভাতিজাকে হারানো মোহাম্মদ জামান স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিরাপত্তার উদ্বেগ উপেক্ষার অভিযোগ তুলেছেন। দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি প্রদেশের সব স্কুলে নিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে জুনে লাহোরের কাছে একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। ধারাবাহিক এসব দুর্ঘটনা পাকিস্তানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত