কোরবানির ঈদে সবাই একটু বেশি রিচ ফুড ও মাংস খেয়ে ফেলেন। এই খাওয়াদাওয়ার পর অনেকের শরীর ক্লান্ত ও ভারী লাগে। দেখা দেয় হজমের সমস্যা। এ কারণে ঈদের পর শরীর আবার সতেজ করতে এবং ভেতরের অঙ্গগুলো বিশ্রাম দিতে ডিটক্স করার কথা ভাবেন অনেকে। পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, শরীর ডিটক্স করতে বাজার থেকে কেনা বিশেষ পানীয় বা ওষুধের প্রয়োজন নেই। আমাদের লিভার, কিডনি, পাচনতন্ত্র, ত্বক ও ফুসফুস প্রাকৃতিকভাবে শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বা বর্জ্য বের করে দিতে পুরোপুরি সক্ষম। তবে ঈদের এই অনিয়মের পর আমাদের শরীরের নিজস্ব ডিটক্স প্রক্রিয়াকে কিছুটা বাড়তি সাহায্য করা প্রয়োজন।

শরীর ডিটক্স করার সহজ ও কার্যকর উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। পানি শরীরের কোষ থেকে ইউরিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর বর্জ্য প্রস্রাব ও ঘামের মাধ্যমে বের করে দেয়। সাধারণ পানির পাশাপাশি ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন স্বাস্থ্যকর ডিটক্স ওয়াটার। এর জন্য একটি পাত্রে পানির সঙ্গে শসা ও পুদিনাপাতা, লেবু ও আদা, তরমুজ ও পুদিনা কিংবা আপেল বা দারুচিনির মতো ফল, সবজি বা ভেষজ কেটে মিশিয়ে দিন।
ঠান্ডা পানীয় পছন্দ করলে এই মিশ্রণ ১ থেকে ১২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। এতে ফলের নির্যাস পানিতে ভালোভাবে মিশে যায়। তবে ১২ ঘণ্টা পর ভেতরের উপাদানগুলো ফেলে দিতে হবে, যাতে সেগুলো পচে না যায়। এই ডিটক্স ওয়াটার মেটাবলিজম বাড়িয়ে ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পানির ভারসাম্যহীনতাজনিত মানসিক চাপ বা কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমায়।
অতিরিক্ত মাংস এবং ভাজাপোড়া খাওয়ার কারণে শরীরের ফ্রি র্যাডিক্যালস দূর করতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। তবে এর জন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে সরাসরি খাবার থেকে পুষ্টি নেওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে সবুজ শাকসবজি, রঙিন ফলমূল, ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি বা ব্ল্যাকবেরি কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এ ছাড়া গ্রিন টির ক্যাটেচিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের স্ট্রেস কমায় এবং অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়। পানিতে চিয়া সিড ভিজিয়ে খেলে এর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং দ্রবণীয় আঁশ অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
রিচ ফুড হজমপ্রক্রিয়ার বারোটা বাজিয়ে দেয়। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোবায়োটা ফিরিয়ে আনতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অল্প করে ফারমেন্টেড বা গাঁজন করা খাবার যুক্ত করুন। টক দই অন্ত্রের হজমশক্তি বাড়াতে এবং পুষ্টির শোষণ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। তবে পেট ফাঁপা এড়াতে শুরুতে অল্প পরিমাণে খেয়ে পরে পরিমাণ বাড়ানো ভালো।
সেমাই, পায়েস বা কোমল পানীয়ের মতো অতিরিক্ত চিনিযুক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার লিভার ও কিডনির স্বাভাবিক কাজের ক্ষতি করে। তাই এখন এ ধরনের মিষ্টি ও জাঙ্ক ফুড খাওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং এগুলোর বদলে তাজা ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস করুন। একই সঙ্গে অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত, যা লিভারের ফিল্টারিং ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। কৃত্রিম কোনো ডিটক্স প্ল্যান বা ক্র্যাশ ডায়েট না করে নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

শরীর প্রাকৃতিকভাবে ডিটক্স করতে প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম জরুরি। ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক সারা দিনের জমে থাকা ক্ষতিকর টক্সিন পরিষ্কার করে। ঘুমানোর আগে ফোনের নীল আলো এড়িয়ে চললে ঘুম ভালো হয়। এর পাশাপাশি দিনে অন্তত ৩০ মিনিট জোরে হাঁটা বা দৌড়ানোর মতো মাঝারি থেকে তীব্র ব্যায়াম করা উচিত। এটি রক্তচাপ ও মেটাবলিজম ঠিক রেখে শরীরের স্বাভাবিক নিরাময় প্রক্রিয়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
সূত্র: হেলথ লাইন

প্রচণ্ড এই গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। আবার গরমের কারণে অনেকে পেটের সমস্যার সম্মুখীন হয়। গ্রীষ্মের দাবদাহে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা ধীর হয়ে আসে। এর ফলে পেট ভারী লাগা, বদহজম, অ্যাসিডিটি এবং পেট ফাঁপার মতো বিভিন্ন অস্বস্তি দেখা দেয়। এই সময়ে শরীর ভেতর থেকে শীতল ও সতেজ...
১ ঘণ্টা আগে
অতিরিক্ত এই গরমে অনবরত ঘামের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে শুধু পানির সঙ্গে সোডিয়াম বা পটাশিয়ামের মতো জরুরি লবণ ও খনিজ হারিয়ে যায়। এর ঘাটতি পূরণ করা না হলে শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড গরমে প্রতি বেলা কী খাবার খাচ্ছেন, সেটাই নির্ধারণ করে দেবে আপনি সারা দিন কতটা...
২ ঘণ্টা আগে
হাম প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকা কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর চলে গেছে দুই মাস সময়। কিন্তু এখনো সংক্রমণ বা মৃত্যু আশানুরূপ হারে কমেনি। হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যাও স্থিতিশীল হয়নি।
৮ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫১৯ জন। নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯১ জনের। এ নিয়ে মোট ৬১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
১৫ ঘণ্টা আগে