
প্রতিদিন সর্বোচ্চ পাঁচ কাপ কফি পান করা অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য নিরাপদ। তবে এর একটি বড় ফলাফল জানালেন মার্কিন চিকিৎসকেরা। তাঁরা দাবি করছেন, প্রতিদিন পাঁচ কাপ কফি পান স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও হৃদ্যন্ত্রের অকার্যকারিতার (হার্ট ফেইল্যুর) ঝুঁকি কমাতে পারে।
গত সোমবার সার্কুলেশন সাময়িকীতে প্রকাশিত আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। এই বিবৃতি ক্যাফেইন ও হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে বহু বছরের পরস্পরবিরোধী মতবাদের অবসান ঘটাল।
হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ড. জেনিফার মিও বলেন, ‘কফি পানের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্ট্রোক ও হার্ট ফেইল্যুরের ঝুঁকি কমার একটি সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে। তবে রক্তচাপের সঙ্গে এর সম্পর্ক কিছুটা জটিল, আর এ বিষয়ে গবেষণার ফল সব ক্ষেত্রে পুরোপুরি একরকম নয়।’
দশকের পর দশক ধরে চিকিৎসকেরা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উদ্দীপকজাতীয় উপাদান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে এসেছেন। তবে প্রাকৃতিক কফি বিন এবং কৃত্রিম ক্যাফেইনের মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত করার মাধ্যমে এই বিস্তারিত পর্যালোচনাটি পূর্বের ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে গবেষকদের কথা তুলে ধরে বলা হয়েছে, আগের নির্দেশিকাগুলো তুলনামূলক নিম্নমানের গবেষণার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল ছিল। অন্যদিকে, এএইচএ-এর বিশেষজ্ঞ প্যানেল সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য যুক্ত করেছে। এতে দেখা গেছে, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসা করিয়েছেন এমন রোগীদের ক্ষেত্রেও দৈনিক কফি পান এ সংক্রান্ত জটিলতা আবার ফিরে আসার ঝুঁকি ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।
এ ছাড়া নিয়মিত কফি পানের অভ্যাস টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমায় বলে দেখা গেছে।
তবে এএইচএ সতর্ক করে বলেছে, কফি তৈরির পদ্ধতির ওপর এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে। কফির এই ইতিবাচক গুণাগুণ কেবল ফিল্টার কাগজে ছাঁকা কফি বা ইনস্ট্যান্ট কফির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফ্রেঞ্চ প্রেস, এসপ্রেসো কিংবা টার্কিশ কফির মতো না ছাঁকা বা আনফিল্টার্ড কফিতে 'ক্যাফেস্টল' নামের একটি প্রাকৃতিক উপাদান থেকে যায়। এই ক্যাফেস্টল শরীরে নিম্ন ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা সময়ের সঙ্গে ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর কফির যে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে, তা কিন্তু এনার্জি ড্রিংক, শট কিংবা পিল বা ট্যাবলেটের মতো অতিরিক্ত ঘনত্বের কৃত্রিম ক্যাফেইনযুক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে খাটে না।
এএইচএ উল্লেখ করেছে, উচ্চ ক্যাফেইনযুক্ত এনার্জি ড্রিংকগুলো হৃদ্রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এসব পানীয় একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরেও হঠাৎ রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আকস্মিক অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের সৃষ্টি করতে পারে।
ড. জেনিফার মিও বলেন, ‘এএইচএ কফি এবং এনার্জি ড্রিংকের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করেছে। এনার্জি ড্রিংক হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে এনার্জি ড্রিংক প্রাণঘাতী হৃৎস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা এমনকি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টও ঘটাতে পারে।’
গবেষকেরা বলছেন, আপনার জন্য কতটুকু ক্যাফেইন নিরাপদ, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে জিনগত বৈশিষ্ট্যের ওপর। যকৃতের ‘CYP 1 A2’ নামের একটি এনজাইম জিনের বংশগত তারতম্যের ওপর নির্ভর করে যে আপনার শরীর কতটা দ্রুত ক্যাফেইন পরিপাক বা বিপাক করতে পারবে। অনেকে খুব সহজেই ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন (যা প্রায় তিন থেকে পাঁচ কাপ কফির সমান) সহ্য করতে পারেন, আবার অনেকের ক্ষেত্রে এর চেয়ে অনেক কম ক্যাফেইনেই ঘুমের ব্যাঘাত ও রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
তবে চিকিৎসকেরা এখনো সতর্ক করে বলছেন, যাঁদের আগে থেকেই হৃদ্রোগ রয়েছে বা হৃদ্রোগ কিংবা স্ট্রোকের ঝুঁকি আছে, তাঁদের জন্য কতটুকু কফি বা ক্যাফেইন নিরাপদ, সে বিষয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডা. মিওর পরামর্শ, ‘সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারের আশায় নয়, বরং পরিমিত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ করুন। প্রত্যেক মানুষের ক্যাফেইন–সহনশীলতা আলাদা। তাই আপনার যদি কোনো অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্যসমস্যা বা উদ্বেগ থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।’

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এ নিয়ে গত ১৩ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে ৮০৩ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭০৮ জন এবং নিশ্চিত হামে ৯৫ জন মারা গেছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের উপসর্গের রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮ আর নিশ্চিত হামের রোগী ১৪ হাজার ৭০৮। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২৪৪ জন, যাদের মধ্যে ৯৮ হাজার ৪১১ জন ছাড়পত্র পেয়েছে।
২ দিন আগে
গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম উপসর্গের রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭০ আর নিশ্চিত হামের ১৪ হাজার ৫৭৮। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ২৬ জন, যাদের মধ্যে ৯৭ হাজার ৫৩২ জন ছাড়পত্র পেয়েছে।
৩ দিন আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ১৯ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
৩ দিন আগে