
সারা দেশে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন। এর মধ্যে অনেকের গায়ে উঠছে র্যাশ। অ্যালার্জির মতো এই র্যাশ চুলকালে ফুলে যায়। বেশি চুলকালে রক্তও বের হতে পারে। এই র্যাশ ও চুলকানির কারণে রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে যায়।
হিট র্যাশকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মিলিয়ারিয়া বলে। এটি শুধু শিশুদের নয়, প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে। বিশেষ করে তীব্র গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়ার মধ্যে এই সমস্যা হয়।
মূলত ত্বকে ঘাম আটকে গেলে হিট র্যাশ হয়। উপসর্গের মধ্যে রয়েছে— ছোট ফোসকা থেকে গভীর ফোসকা, স্ফীত পিণ্ড। হিট র্যাশ চুলকালে অ্যালার্জির মতো ফুলে ওঠে।
গরমের র্যাশ
মিলিয়ারিয়া রুব্রা (এ), এক ধরনের ফুসকুড়ি। ছোট ছোট ফোসকা–সদৃশ ফুসকুড়ি দেখা যায়। এতে তীব্র চুলকানি হতে পারে। মিলিয়ারিয়া ক্রিস্টালিনা (বি), আরেক ধরনের হিট র্যাশ। এতে ফোলা ফোসকার মধ্যে পরিষ্কার, তরল থাকে। এটিতে সাধারণত ব্যথা বা চুলকানি হয় না।
তবে ত্বক ঠান্ডা হলে সাধারণত হিট র্যাশ মিলিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
লক্ষণ
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত ত্বকের ভাঁজে এবং যেখানে পোশাক ত্বকের সংস্পর্শে থাকে বা ঘষা লাগে সেখানে হিট র্যাশ হয়। শিশুদের মধ্যে র্যাশ প্রধানত ঘাড়, কাঁধ এবং বুকে হয়। বগল, কনুই এবং কুঁচকিতেও দেখা যেতে পারে।
র্যাশ সাধারণ লাল বর্ণের হয়। তবে বাদামি বা কালো ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে র্যাশ খুব একটা স্পষ্ট দেখা যায় না।
যে কারণে হিট র্যাশ হয়
একক্রাইন ঘর্মগ্রন্থিগুলো শরীরের বেশির ভাগ অংশে থাকে এবং সরাসরি ত্বকের উপরিভাগে উন্মুক্ত হয়। আর অ্যাপোক্রাইন গ্রন্থিগুলো চুলের ফলিকলের মধ্যে উন্মুক্ত থাকে, যার মুখগুলো শেষ পর্যন্ত ত্বকের পৃষ্ঠের দিকেই উন্মুক্ত হয়। অ্যাপোক্রাইন গ্রন্থিগুলো মাথার ত্বক, বগল এবং কুঁচকির মতো অসংখ্য লোমকূপযুক্ত অঞ্চলে বিকশিত হয়। একক্রাইন ঘর্মগ্রন্থিগুলো হাইপারহাইড্রোসিসের জন্য দায়ী। যদিও অ্যাপোক্রাইন গ্রন্থিগুলোও এ ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। হাইপারহাইড্রোসিস হলো অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।
হিট র্যাশের প্রকারভেদ
ত্বকে ঘাম কতটা গভীরভাবে আটকে আছে তার ওপর ভিত্তি করে হিট র্যাশের ধরনগুলো শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। প্রতিটি ধরনের লক্ষণ এবং উপসর্গ আলাদা।
হিট র্যাশের মৃদুতম রূপকে মিলিয়ারিয়া ক্রিস্টালিনা বলা হয়। এটি ঘটে যখন ত্বকের উপরিভাগে ঘামের নালি (ঘামের ছিদ্র) খোলার সময় বাধাপ্রাপ্ত হয়। এই ধরনটি ছোট, পরিষ্কার তরল ভরা ফোলা দেখে চিহ্নিত করা হয়। এই জলথলি সহজেই ভেঙে যায়।
আরেকটি প্রকার যা ত্বকের গভীরে ঘটে, এটিকে মিলিয়ারিয়া রুব্রা বলা হয়। এটিই আসলে ঘামাচি। লক্ষণ এবং উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে— ছোট, ফোসকা-সদৃশ ফুসকুড়ি এবং আক্রান্ত স্থানে চুলকানি বা কাঁটা দেওয়ার অনুভূতি হওয়া।
মাঝে মাঝে, মিলিয়ারিয়া রুব্রার স্ফীত অংশ পুঁজে ভরে যায়। এই ধরনটিকে মিলিয়ারিয়া পুস্টুলোসা বলা হয়।
হিট র্যাশের একটি কম সাধারণ রূপ হলো মিলিয়ারিয়া প্রফুন্ডা। এটি ত্বকের গভীরতম স্তরকে (ডার্মিস) প্রভাবিত করে। এটি শক্ত, ব্যথাযুক্ত স্ফীত বাম্প তৈরি করে। তীব্র চুলকানি হয়। এই থলি ফেটে যেতেও পারে।
হিট র্যাশের চিকিৎসা বা প্রতিরোধ
প্রাথমিক উপশমের জন্য করণীয় হলো, ত্বক ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করা। ত্বক ঠান্ডা থাকলে ঘাম হবে না, সেই সঙ্গে ফুসকুড়িতে জ্বালাপোড়া বা চুলকানিও হবে না।
ত্বক ঠান্ডা রাখতে
চুলকানি বা কাঁটাযুক্ত অনুভূতি উপশমে
২০ মিনিট পর্যন্ত ঠান্ডা কিছু প্রয়োগ করুন। ঠান্ডা পানিতে ভেজা কাপড় বা বরফের প্যাক গায়ে চেপে রাখতে পারেন। আরাম লাগবে।
তীব্র চুলকানির অনুভূতি হলেও চুলকাবেন না। বরং আলতো করে চাপ দিন, দেখবেন চুলকানির অনুভূতি কমে গেছে। চুলকালে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
সুগন্ধিযুক্ত শাওয়ার জেল বা ক্রিম ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
হিট র্যাশের উপশমে সবচেয়ে কার্যকর হলো ত্বককে ঠান্ডা রাখা এবং তাপের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। তবে শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক যেই হোক, লক্ষণগুলো কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হলে এবং র্যাশ ও ফুসকুড়ি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক, এনএইচএস

সারা দেশে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন। এর মধ্যে অনেকের গায়ে উঠছে র্যাশ। অ্যালার্জির মতো এই র্যাশ চুলকালে ফুলে যায়। বেশি চুলকালে রক্তও বের হতে পারে। এই র্যাশ ও চুলকানির কারণে রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে যায়।
হিট র্যাশকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মিলিয়ারিয়া বলে। এটি শুধু শিশুদের নয়, প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে। বিশেষ করে তীব্র গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়ার মধ্যে এই সমস্যা হয়।
মূলত ত্বকে ঘাম আটকে গেলে হিট র্যাশ হয়। উপসর্গের মধ্যে রয়েছে— ছোট ফোসকা থেকে গভীর ফোসকা, স্ফীত পিণ্ড। হিট র্যাশ চুলকালে অ্যালার্জির মতো ফুলে ওঠে।
গরমের র্যাশ
মিলিয়ারিয়া রুব্রা (এ), এক ধরনের ফুসকুড়ি। ছোট ছোট ফোসকা–সদৃশ ফুসকুড়ি দেখা যায়। এতে তীব্র চুলকানি হতে পারে। মিলিয়ারিয়া ক্রিস্টালিনা (বি), আরেক ধরনের হিট র্যাশ। এতে ফোলা ফোসকার মধ্যে পরিষ্কার, তরল থাকে। এটিতে সাধারণত ব্যথা বা চুলকানি হয় না।
তবে ত্বক ঠান্ডা হলে সাধারণত হিট র্যাশ মিলিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
লক্ষণ
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত ত্বকের ভাঁজে এবং যেখানে পোশাক ত্বকের সংস্পর্শে থাকে বা ঘষা লাগে সেখানে হিট র্যাশ হয়। শিশুদের মধ্যে র্যাশ প্রধানত ঘাড়, কাঁধ এবং বুকে হয়। বগল, কনুই এবং কুঁচকিতেও দেখা যেতে পারে।
র্যাশ সাধারণ লাল বর্ণের হয়। তবে বাদামি বা কালো ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে র্যাশ খুব একটা স্পষ্ট দেখা যায় না।
যে কারণে হিট র্যাশ হয়
একক্রাইন ঘর্মগ্রন্থিগুলো শরীরের বেশির ভাগ অংশে থাকে এবং সরাসরি ত্বকের উপরিভাগে উন্মুক্ত হয়। আর অ্যাপোক্রাইন গ্রন্থিগুলো চুলের ফলিকলের মধ্যে উন্মুক্ত থাকে, যার মুখগুলো শেষ পর্যন্ত ত্বকের পৃষ্ঠের দিকেই উন্মুক্ত হয়। অ্যাপোক্রাইন গ্রন্থিগুলো মাথার ত্বক, বগল এবং কুঁচকির মতো অসংখ্য লোমকূপযুক্ত অঞ্চলে বিকশিত হয়। একক্রাইন ঘর্মগ্রন্থিগুলো হাইপারহাইড্রোসিসের জন্য দায়ী। যদিও অ্যাপোক্রাইন গ্রন্থিগুলোও এ ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। হাইপারহাইড্রোসিস হলো অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।
হিট র্যাশের প্রকারভেদ
ত্বকে ঘাম কতটা গভীরভাবে আটকে আছে তার ওপর ভিত্তি করে হিট র্যাশের ধরনগুলো শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। প্রতিটি ধরনের লক্ষণ এবং উপসর্গ আলাদা।
হিট র্যাশের মৃদুতম রূপকে মিলিয়ারিয়া ক্রিস্টালিনা বলা হয়। এটি ঘটে যখন ত্বকের উপরিভাগে ঘামের নালি (ঘামের ছিদ্র) খোলার সময় বাধাপ্রাপ্ত হয়। এই ধরনটি ছোট, পরিষ্কার তরল ভরা ফোলা দেখে চিহ্নিত করা হয়। এই জলথলি সহজেই ভেঙে যায়।
আরেকটি প্রকার যা ত্বকের গভীরে ঘটে, এটিকে মিলিয়ারিয়া রুব্রা বলা হয়। এটিই আসলে ঘামাচি। লক্ষণ এবং উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে— ছোট, ফোসকা-সদৃশ ফুসকুড়ি এবং আক্রান্ত স্থানে চুলকানি বা কাঁটা দেওয়ার অনুভূতি হওয়া।
মাঝে মাঝে, মিলিয়ারিয়া রুব্রার স্ফীত অংশ পুঁজে ভরে যায়। এই ধরনটিকে মিলিয়ারিয়া পুস্টুলোসা বলা হয়।
হিট র্যাশের একটি কম সাধারণ রূপ হলো মিলিয়ারিয়া প্রফুন্ডা। এটি ত্বকের গভীরতম স্তরকে (ডার্মিস) প্রভাবিত করে। এটি শক্ত, ব্যথাযুক্ত স্ফীত বাম্প তৈরি করে। তীব্র চুলকানি হয়। এই থলি ফেটে যেতেও পারে।
হিট র্যাশের চিকিৎসা বা প্রতিরোধ
প্রাথমিক উপশমের জন্য করণীয় হলো, ত্বক ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করা। ত্বক ঠান্ডা থাকলে ঘাম হবে না, সেই সঙ্গে ফুসকুড়িতে জ্বালাপোড়া বা চুলকানিও হবে না।
ত্বক ঠান্ডা রাখতে
চুলকানি বা কাঁটাযুক্ত অনুভূতি উপশমে
২০ মিনিট পর্যন্ত ঠান্ডা কিছু প্রয়োগ করুন। ঠান্ডা পানিতে ভেজা কাপড় বা বরফের প্যাক গায়ে চেপে রাখতে পারেন। আরাম লাগবে।
তীব্র চুলকানির অনুভূতি হলেও চুলকাবেন না। বরং আলতো করে চাপ দিন, দেখবেন চুলকানির অনুভূতি কমে গেছে। চুলকালে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
সুগন্ধিযুক্ত শাওয়ার জেল বা ক্রিম ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
হিট র্যাশের উপশমে সবচেয়ে কার্যকর হলো ত্বককে ঠান্ডা রাখা এবং তাপের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। তবে শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক যেই হোক, লক্ষণগুলো কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হলে এবং র্যাশ ও ফুসকুড়ি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক, এনএইচএস

ভারতের গুরগাঁও শহরের ম্যাক্স হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান রোহিত গোয়েল বলেন, শীতকালে নিম্ন তাপমাত্রা রক্তনালিকে সংকুচিত করে, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তকে আরও ঘন করে তোলে। এতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বেড়ে যায়, বিশেষ করে যাদের হৃদ্রোগ বা রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা রয়েছে তাদের।
১৭ ঘণ্টা আগে
নতুন করে ১৩৫টি ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ তালিকায় যুক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে এখন এই তালিকায় ওষুধের সংখ্যা দাঁড়াল ২৯৫। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট দাম বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
২ দিন আগে
তীব্র শীতের কারণে হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। আক্রান্তদের অধিকাংশই জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, পেটের পীড়া ও নিউমোনিয়ায় ভুগছে। সরকারি হাসপাতালে শয্যার চেয়ে রোগী বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
৩ দিন আগে
সুইস খাদ্যপ্রতিষ্ঠান নেসলে ঘোষণা করেছে, তারা ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, ইতালি, সুইডেনসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ থেকে কিছু ব্যাচের শিশুখাদ্য ফর্মুলা প্রত্যাহার করছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৩ দিন আগে