
বর্ষাকালে আবহাওয়া সব সময় আর্দ্র থাকে। মশার বংশবিস্তার হয় ও বিশুদ্ধ পানির অভাব হয়। এ কারণে বর্ষাকালে মশা, পানি ও বায়ুবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়।
মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু
এডিস মশা মূলত ডেঙ্গু ভাইরাসের জীবাণু ছড়ায়। এই মশা পাত্রে জমা পরিষ্কার পানিতে জন্মায়। সাধারণত বর্ষাকালে এর ঘনত্ব বেশি হয়, ফলে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়ে যায়। ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর ও সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। পেটে তীব্র ব্যথাও হতে পারে। শরীরে বিশেষ করে মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা হয়। জ্বর চার-পাঁচ দিন পার হলে শরীরজুড়ে র্যাশ বা ঘামাচির মতো লালচে দানা দেখা দেয়। ডেঙ্গু শক সিনড্রোম-প্লাজমা লিকেজ রক্তনালি থেকে জলীয় অংশ বেরিয়ে গিয়ে রক্তচাপ কমে যায় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা না দিলে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া প্লাটিলেট কমে রক্তক্ষরণ হতে পারে। জ্বরের সঙ্গে লক্ষণ বা উপসর্গ দেখামাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে।
চিকুনগুনিয়া
চিকুনগুনিয়া রোগও এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ সাধারণ ভাইরাস জ্বরের মতো। তবে মাথাব্যথা, বমিভাব, দুর্বলতা, সর্দিকাশি এবং র্যাশের সঙ্গে শরীরে হাড়ের জয়েন্ট বা সংযোগস্থলে তীব্র ব্যথা হয়।
ম্যালেরিয়া
প্লাজমোডিয়াম নামে এককোষী পরজীবীর কারণে ম্যালেরিয়া হয়। ম্যালেরিয়ার কারণে বেশ কয়েক দিন ধরে উচ্চতর জ্বর থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে ম্যালেরিয়া মারাত্মক হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিতে হবে।
মশাজনিত রোগ থেকে নিরাপদ থাকবেন যেভাবে
পানিবাহিত রোগ
বর্ষা মৌসুমে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ অন্য সময়ের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা পানিবাহিত রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

টাইফয়েড জ্বর
স্যালমোনলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট টাইফয়েড একটি পানিবাহিত রোগ, যা দূষিত স্যানিটেশনের কারণে ছড়িয়ে পড়ে। টাইফয়েডের লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে মাথাব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, ক্রমাগত জ্বর ও গলাব্যথা।
কলেরা
দুর্বল স্যানিটেশন এবং দূষিত খাবারের কারণে কলেরা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রচণ্ড ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার কারণে মৃত্যু হতে পারে। হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস সংক্রমণ দূষিত খাবার এবং পানির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটি লিভারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ফুলে যায়। হেপাটাইটিসের লক্ষণগুলোর মধ্যে ক্লান্তি, জ্বর, হলুদ চোখ, পেটে ব্যথা, গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং হঠাৎ ক্ষুধা কমে যেতে পারে।
পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা
ডায়রিয়া, কলেরা হলে শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। লবণ ও পানির অভাব পূরণ করাই এর একমাত্র চিকিৎসা। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে খাওয়ার স্যালাইন, ভাতের মাড় বা অন্য বিশুদ্ধ পানীয় খাওয়ালে শরীরে লবণ-পানির ঘাটতি কমবে। অবস্থার উন্নতি না হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করতে হবে। পরীক্ষার পর যদি টাইফয়েড শনাক্ত হয়, তবে অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক প্রয়োগ জরুরি।
পানিবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায়
বায়ুবাহিত রোগ
রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার কারণে বর্ষায় শিশু ও বয়স্কদের বায়ুবাহিত সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। ঠান্ডা ও ফ্লু প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষকে সংক্রামিত করে। ফ্লুর পর বয়স্ক মানুষের নিউমোনিয়া হতে পারে। বর্ষাকালে বারবার ভেজা, ভ্যাপসা ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে অনেকের।
প্রতিরোধ
লেখক: অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, শাহবাগ, ঢাকা।
চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে আর অন্য চারটির হামের উপসর্গ নিয়ে।
১৩ ঘণ্টা আগে
ইবোলার একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা প্রস্তুত হতে আরও নয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি।
১৯ ঘণ্টা আগে
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) এবং উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাসের নতুন ধরনের প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে এই রোগের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। যদিও বৈশ্বিক ঝুঁকি এখনো কম বলে মনে করছে সংস্থাটি।
১ দিন আগে
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে আর অন্য তিনটির হামের উপসর্গ নিয়ে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮১ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের।
২ দিন আগে