
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) এবং উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাসের নতুন ধরনের প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে এই রোগের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। যদিও বৈশ্বিক ঝুঁকি এখনো কম বলে মনে করছে সংস্থাটি।
বুধবার (২০ মে) সিএনএন জানিয়েছে, এবারের প্রাদুর্ভাবটির পেছনে রয়েছে ‘বুন্দিবুগিও’ নামের একটি বিরল স্ট্রেন। এটির নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। এবারের সংক্রমণ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস বেশ কিছু উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছেন। প্রথমত, রোগটি শনাক্ত করতে অনেক দেরি হয়ে গেছে (প্রায় চার সপ্তাহের একটি ব্যবধান ছিল)। দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত হয়ে মৃতদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। তৃতীয়ত, আক্রান্ত অঞ্চলটিতে মানুষ এখনো ব্যাপকভাবে যাতায়াত করছেন।
ইবোলা মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল (রক্ত বা বমি), মলমূত্র বা তাদের সংস্পর্শে আসা কোনো বস্তুর মাধ্যমে ছড়ায়। এই ভাইরাসটি কোনো মানুষের শরীরে ২ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ প্রকাশ না করে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। তবে লক্ষণ প্রকাশের আগে সাধারণত এটি সংক্রামক হয় না।
কঙ্গো ও উগান্ডায় এখন পর্যন্ত ঠিক কতজন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে ডব্লিউএইচও-এর মতে, অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরও প্রায় ৬০০ জন সম্ভাব্য আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। ভাইরাসের বিস্তার কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তা নিয়েও চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে। এবার উগান্ডার প্রথম রোগীটি কঙ্গো থেকে এসে একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, পরে তিনি মারা যান। উগান্ডা সরকার ইতিমধ্যে নজরদারি ও স্ক্রিনিং জোরদার করেছে।
কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের মংবওয়ালু শহরে গত এপ্রিল মাসে প্রথম এক স্বাস্থ্যকর্মী সাধারণ জ্বর, বমি ও অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিকভাবে ইবোলার সাধারণ লক্ষণ (রক্তক্ষরণ) না থাকায় এবং কঙ্গোর সাধারণ স্ট্রেন ‘জাইর’-এর টেস্ট নেগেটিভ আসায় রোগটি ধরা পড়েনি। ৫ মে ওই রোগী মারা যান।
রহস্যময় রোগে মৃত্যু হয়েছে ভেবে স্থানীয় রীতি অনুযায়ী পরিবার ও আত্মীয়রা মরদেহ স্পর্শ করেন, গোসল করান এবং কফিন ছাড়াই দাফনের আয়োজন করেন। এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া থেকেই ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ল্যাব টেস্টে জানা যায় এটি বুন্দিবুগিও স্ট্রেন ছিল।
বিজ্ঞানীদের মতে, ইবোলার মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ২০০৭ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়া বুন্দিবুগিও স্ট্রেনের মৃত্যুহার ছিল ৩২ শতাংশ। এটি অন্যান্য স্ট্রেনের চেয়ে কিছুটা ধীর গতিতে ছড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করতে সময় নেয়। এর ফলে মৃত্যুহার কম হলেও ভাইরাসটি শরীরে বেশি দিন থেকে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই স্ট্রেনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ভ্যাকসিন তৈরি করতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। আপাতত ডিহাইড্রেশন দূর করা, অক্সিজেনের মাত্রা বজায় রাখা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মতো সহায়ক চিকিৎসার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন ঢাকায় ও একজন রংপুরে চিকিৎসাধীন ছিল। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২৫ জনে।
১৪ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৮৬ হাজার ৪৫৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮০ হাজার ৩৪৭ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫ হাজার ৮৪৯ জন।
১৪ ঘণ্টা আগে
বাজারে প্রচলিত প্রায় সব ধরনের বিড়ালের খাবারে সিসা, পারদ, আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়ামের মতো অত্যন্ত ক্ষতিকর ভারী ধাতু, আগাছানাশক এবং প্লাস্টিক প্রস্তুতকরণে ব্যবহৃত রাসায়নিক পাওয়া গেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা পণ্য পরীক্ষাকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘ক্লিন লেবেল প্রজেক্ট’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই...
১৮ ঘণ্টা আগে
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনসেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ৫৪ কর্মকর্তাকে হাসপাতাল পরিদর্শন ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি মাসে কমপক্ষে একটি পরিদর্শন করে পরবর্তী মাসের...
১৯ ঘণ্টা আগে