
ঘাড়ে কিংবা গলায় কোনো ফোলা দেখা দিলে প্রাথমিকভাবে অনেকে বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কেউ এটিকে সাধারণ ঠান্ডা-সর্দির ফল মনে করেন, আবার কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেরে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। অথচ বাস্তবতা হলো, ঘাড়ের ফোলা বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হতে পারে। তাই সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য সময়মতো উপযুক্ত পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।
সন্দেহজনক হলে চিকিৎসকেরা প্রায়ই একটি নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার পরামর্শ দেন। সেটি হলো ফাইন নিডল অ্যাসপিরেশন সাইটোলজি; যা সংক্ষেপে এফএনএসি।
এফএনএসি একটি ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি। এতে একটি সূক্ষ্ম সুইয়ের মাধ্যমে সন্দেহজনক ফোলা বা টিউমার থেকে অল্প পরিমাণ কোষ কিংবা তরল সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই নমুনা যথাযথ প্রক্রিয়াজাত করে অণুবীক্ষণযন্ত্রে পরীক্ষা করে ফোলার প্রকৃতি নির্ণয় করা সম্ভব। টিউমার, সিস্ট অথবা সংক্রমণজনিত ক্ষত—সব ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক মূল্যায়ন পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত।

কেন এই পরীক্ষা প্রয়োজন
ঘাড়ের ফোলা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন লিম্ফ নোডের সংক্রমণ, থাইরয়েড গ্রন্থির নডিউল কিংবা টিউমার, লালা গ্রন্থির সমস্যা অথবা কোনো সিস্ট। অনেক ক্ষেত্রে এটি সাধারণ সংক্রমণের ফল হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর রোগের পূর্বাভাস হতে পারে।
বিশেষ করে ঘাড়ের ফোলা আসলে ক্যানসার, নাকি সাধারণ সিস্ট, নাকি কোনো বিনাইন টিউমার, নাকি গ্লান্ড টিবি—এই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য নির্ণয়ের জন্য ইএনটি বিশেষজ্ঞরা এফএনএসি পরীক্ষার পরামর্শ দেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের প্রকৃতি সম্পর্কে প্রাথমিক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়, যা পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়তা করে।

এই পরীক্ষায় ভয়ের কোনো কারণ নেই
» এফএনএসি নিয়ে অনেক রোগীর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আশঙ্কা দেখা যায়। অনেকে এটিকে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করে থাকেন। বাস্তবে এফএনএসি একটি নিরাপদ ও সহনীয় প্রক্রিয়া।
» এই পরীক্ষা হাসপাতালের বহির্বিভাগে সম্পন্ন করা যায়। এ জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
» এফএনএসি সাধারণত পুরোপুরি সম্পন্ন হতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে। এর মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট।
» নমুনা প্রস্তুতি ও ল্যাবরেটরি প্রক্রিয়া শেষে রিপোর্ট পেতে স্থান-কালভেদে সাধারণত ১ থেকে ২ দিন সময় লাগে। অনেক ক্ষেত্রে রিপোর্ট দিনে দিনেই দেওয়া সম্ভব।
» পরীক্ষার পর হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি থাকতে পারে, যা সাধারণত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যায়।
» প্রয়োজনে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি কমাতে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করা যেতে পারে।
রিপোর্টের নির্ভুলতার প্রয়োজনীয়তা ও করণীয়
এফএনএসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই প্যাথলজিস্ট যদি নমুনা সংগ্রহ ও মাইক্রোস্কোপিক বিশ্লেষণ উভয়ই সম্পন্ন করেন, তবে রোগনির্ণয়ের নির্ভুলতা আরও বাড়ে। রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসক রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করেন।
এফএনএসি টেস্ট সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি
ঘাড়ে কোনো ফোলা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, ধীরে ধীরে বড় হতে থাকলে কিংবা অন্যান্য উপসর্গ যুক্ত হলে তা কখনোই অবহেলা করা ঠিক নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
এফএনএসি একটি সহজ, কম সময়সাপেক্ষ, নির্ভরযোগ্য এবং ব্যয়সাশ্রয়ী ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি। সে কারণে অযথা দুশ্চিন্তা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যথাসময়ে এই পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই সচেতনতার পরিচয়।
ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী
এফসিপিএস (ইএনটি), সহকারী অধ্যাপক (ইএনটি), সিলেট
এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

বিগত কয়েক দশকে টিকা সম্প্রসারণ কর্মসূচির (ইপিআই) অভাবনীয় সাফল্যের পর আমরা যখন ভেবেছিলাম, হাম ইতিহাস হতে চলেছে, ঠিক তখনই এই ভাইরাস নতুন করে জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
লিভার বা যকৃৎ আমাদের শরীরের অন্যতম প্রধান অঙ্গ। এটি রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। তবে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘ মেয়াদে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়মিত ও অস্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি...
৪ ঘণ্টা আগে
আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে, ‘খালি পেটে জল, ভরা পেটে ফল’। দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এই ধারণা অনুযায়ী অনেকে মনে করেন, সকালে খালি পেটে পানি পান এবং ফল সব সময় ভরা পেটে খাওয়া উচিত। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও সমসাময়িক গবেষণার তথ্য বলছে অন্য কথা। ফল খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সেরা বা খারাপ সময় নেই।
৪ ঘণ্টা আগে
হাম বা মিজেলস অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস রোগ। একটি আক্রান্ত শিশু বা ব্যক্তি ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। এটি শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও যেকোনো বয়সে হতে পারে। সাধারণত ভাইরাস শরীরে ঢোকার ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে হামের লক্ষণ প্রকাশ পায়। র্যাশ বের হওয়ার চার দিন আগে থেকে এবং র্যাশ বের হওয়ার....
৪ ঘণ্টা আগে