দেশে হামের প্রকোপ এখনো আশানুরূপভাবে স্থিতিশীল হয়নি। সংখ্যা ওঠানামা করলেও মৃত্যুর মিছিলও থেমে নেই। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মে মাসের শুরুর কয়েক দিনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সবকটি সূচক সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করেছে। এর ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সামগ্রিক চিত্র এখনো উদ্বেগজনক। ইতিমধ্যে আক্রান্ত শিশুদের শরীরে হাম-পরবর্তী নানা জটিলতা দেখা দেওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহ মৃত্যু বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে হামের সংক্রমণ শুরু হয়। ব্যাপক বিস্তার লাভ করে মার্চে। ১৫ মার্চ থেকে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগী, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর পরিসংখ্যান রাখা শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ২ এপ্রিল থেকে গণমাধ্যমকে দৈনিক হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হয়। মূলত ৬ এপ্রিল থেকে ২৩মে পর্যন্ত সাত সপ্তাহের সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে ৬ থেকে ১২ এপ্রিল (সোমবার থেকে রবিবার) প্রথম সপ্তাহ ধরে ২৩ মে পর্যন্ত মোট সাত সপ্তাহের তথ্য-উপাত্তের তুলনা করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) মানদণ্ড অনুযায়ী, সংক্রামক রোগের ওঠানামা পর্যবেক্ষণে বিশ্বব্যাপী সোমবার থেকে রবিবার চক্রের ‘রোগতাত্ত্বিক সপ্তাহ’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ক্যালেন্ডারের মাসের দিনসংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় (৩০ বা ৩১ দিন) রোগের তুলনামূলক বিশ্লেষণে যে গাণিতিক জটিলতা তৈরি হয়, এই পদ্ধতিতে তা হয় না। এই প্রতিবেদনে সে অনুযায়ীই হামের রোগতাত্ত্বিক সপ্তাহ ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক দেওয়া তথ্যের সপ্তাহভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মে মাসের শুরুতে রোগতাত্ত্বিক সপ্তাহ-৫-এ হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা আগের সপ্তাহের তুলনায় আড়াই গুণের বেশি বেড়েছে। মে মাসের প্রথম ১০ দিনই ছিল এই প্রাদুর্ভাবের ‘পিক’ বা চূড়া।
সরকারের পরিসংখ্যানকে রোগতাত্ত্বিক সপ্তাহে ভাগ করে হাম উপসর্গের রোগী, ল্যাবরেটরি বা চিকিৎসকের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতিতে হাম রোগী শনাক্ত, উপসর্গে মৃত্যু এবং হামে মৃত্যু—এই চার প্রধান সূচকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মে মাসের শুরুর সময়েও সংক্রমণ ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে ৫১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর বড় অংশই শিশু।
তাদের মধ্যে ৮৬ জন হাম এবং ৪২৬ জন হামের উপসর্গে মারা গেছে। ২৩ মে পর্যন্ত দেশে মোট ৮ হাজার ৪৯৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া উপসর্গ থাকা রোগী দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৬২ হাজারে।
সরকারের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত হাম উপসর্গের রোগী ৭ হাজার ৬১০ এবং হাম রোগী ৯২৯ জন। উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ১১৩ জনের এবং হামে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। আর ৬ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিলের রোগতাত্ত্বিক সপ্তাহে উপসর্গযুক্ত রোগী ছিল ৭ হাজার ১১৯ জন এবং হামের রোগী ১ হাজার ৫৪০ জন। রোগতত্ত্ববিদেরা বলেছেন, ওই সপ্তাহের উচ্চ সংক্রমণ প্রমাণ করে রোগটি এপ্রিলের আগেই স্থানিক (কমিউনিটি) পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে।
তথ্য বলছে, পরবর্তী তিন সপ্তাহ উপসর্গযুক্ত রোগী আসার গতি ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। ১৮ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত চলতি সপ্তাহের ৬ দিনে নতুন উপসর্গযুক্ত রোগী বেশ কমে ৪ হাজার ৬৬১ জনে নেমে এসেছে।
এই প্রাদুর্ভাবের সর্বোচ্চ ঊর্ধ্বমুখী রূপ দেখা যায় মে মাসের প্রথম অংশে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ৪ থেকে ১০ মে সময়টিকে একটি অবিভাজ্য ও পূর্ণাঙ্গ ‘রোগতাত্ত্বিক সপ্তাহ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই সপ্তাহে আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রাদুর্ভাবের সবকটি সূচক আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ে, যা চলমান সংক্রমণের সর্বোচ্চ চূড়া বা ‘পিক’ সময়কালকে নির্দেশ করে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে হাম রোগী ছিল ৭১০ জন। মে মাসের প্রথমে (৪ - ১০ মে) তা ১১২ শতাংশ বা দ্বিগুণ বেড়ে ১ হাজার ৫০৬ জনে পৌঁছায়। এটি সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। আগের সপ্তাহের তুলনায় ওই সপ্তাহে মৃত্যুও ২৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামে মৃত্যুর সংখ্যাও এক সপ্তাহে ১১৪ শতাংশ বেড়ে ৭ থেকে ১৫ জনে দাঁড়ায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মে মাসের প্রথমে হামের প্রাদুর্ভাবের ‘পিক’ বা চূড়া দেখা যাওয়া ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে ভাইরাসের ভয়াবহ বিস্তারের প্রমাণ। অন্যতম কারণ শুরুতে কার্যকরভাবে রোগপ্রতিরোধ ও দ্রুত রোগ নির্ণয় করা যায়নি।
মে মাসের শুরুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে দুটি কারণ দেখছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য এবং পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল। তিনি বলেন, ‘শুরুতে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তা সরকারি রেকর্ডে আসেনি। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার হাসপাতালে স্থানান্তরের পর একসঙ্গে অনেক রোগীর তথ্য যুক্ত হওয়ায় এই ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, হামের মূল লক্ষণ বা শরীরে লালচে দাগ (র্যাশ) ফুটতে ভাইরাস সংক্রমণের পর সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে। ফলে আক্রান্ত হওয়ার অন্তত দুই সপ্তাহ পর রোগী শনাক্তের রেকর্ডে আসে।’
টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ায় দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আশা করছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ। তবে নতুন সংক্রমণ কমলেও শিশুর মৃত্যুহার এখনই কমবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ডা. ফয়সাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যেসব শিশু ১০-১২ দিন আগে সংক্রমিত হয়েছে, তাদের শরীরে হামের পরবর্তী জটিলতাগুলো এখন প্রকাশ পাচ্ছে। ফলে সংক্রমণের গতি কমলেও মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।’
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দেশে হামের টিকাদান ভালোই হয়েছে। তবে আক্রান্তদের চিকিৎসা কেন্দ্রে আনতে বিলম্ব, সঠিকভাবে আইসোলেশন না করা (আলাদা না রাখা), সমন্বিত উদ্যোগের অভাব ও দুর্বল স্তরভিত্তিক চিকিৎসাব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। শুরু থেকে স্তরভিত্তিক চিকিৎসাব্যবস্থা অনুসরণ করা গেলে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যেত। স্তরভিত্তিক বলতে রোগীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিলেই ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে ভালো হয়ে যায়। বাকিদের মাধ্যমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠাতে হবে। তাদের মধ্যে সংকটাপন্নদেরই শুধু বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিতে হবে। হামের মতো অতি সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে রোগী ও সামগ্রিক রোগ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি।’

ঈদের আমেজে নানা পদের মুখরোচক খাবার খাওয়া হবে। সঙ্গে হঠাৎ গরম এবং হঠাৎ ঠান্ডা আবহাওয়া। এই কারণে অনেকের রক্তচাপ কিংবা ব্লাড প্রেশার হুট করে বেড়ে যেতে পারে।
৯ ঘণ্টা আগে
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত হাম এবং হামের বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫১২ শিশু। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির ক্ষত পুরোপুরি শুকানোর আগে এক ইবোলার সংক্রামক ব্যাধি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আবার সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। সাধারণ কোনো জ্বর বা ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়, এটি চরম সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হেমোরেজিক ফিভার কিংবা রক্তক্ষরণকারী জ্বর। একজন অণুজীববিজ্ঞানী হিসেবে সাম্প্রতিক পরিস্থিত....
১৫ ঘণ্টা আগে
ঈদ মানেই আনন্দের জোয়ার। এই ঈদে টেবিলে থাকে গরু ও খাসির মাংসের নানা পদের বাহারি রান্না। কিন্তু মজার এসব খাবার খাওয়ার জন্য দাঁত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শক্ত হাড় বা মাংস চিবানোর সম্পূর্ণ কাজ দাঁতের মাধ্যমে হয়। তবে খেতে গিয়ে দাঁতের কোনায় আটকে থাকা মাংসের টুকরো ঈদের আনন্দের মাঝে হুট করে ডেকে...
১৫ ঘণ্টা আগে