
বাংলাদেশে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও সার্বিক কল্যাণ উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। আজ সোমবার এই স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশরাফী আহমদ ও সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই অংশীদারত্বকে দেশের কিশোর-কিশোরীদের জন্য মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও চাহিদাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, বাংলাদেশে প্রতি চারজন তরুণীর মধ্যে প্রায় একজন ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সন্তান জন্ম দিচ্ছে। একই সঙ্গে কিশোরী মাতৃত্বের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সঠিক তথ্য, কাউন্সেলিং, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্য ও সেবার প্রাপ্যতা সম্প্রসারণ এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ইতিবাচক সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করবে। এ ছাড়া নির্বাচিত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কিশোর-কিশোরীবান্ধব সেবার প্রাপ্যতা, সহজলভ্যতা ও গুণগত মান উন্নয়নে এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশরাফী আহমদ বলেন, এই সমঝোতা স্মারক কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। কৈশোরবান্ধব যেকোনো উদ্যোগে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা সমানভাবে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হতে পারে এবং সেবায় সমান প্রবেশাধিকার পায়। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি কাউন্সেলিং কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক, মানসিক ও আবেগীয় বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ সার্ভিসেস ইউনিটের পরিচালক নাসির আহমেদ বলেন, লাইফ স্কিল ও আয়বর্ধক কার্যক্রমে কিশোর-কিশোরীদের বিনিয়োগ শুধু তাদের ব্যক্তিগত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারা ব্যবহারিক ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়, যা ভবিষ্যতে তাদের দক্ষ কর্মী ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশই কিশোর-কিশোরী। তাই তাদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণে বিনিয়োগ দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে বাল্যবিয়ে ও কিশোরী মাতৃত্বের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। পাশাপাশি তরুণদের প্রয়োজনীয় তথ্য, সহায়তা ও সক্ষমতা দিয়ে আরও ক্ষমতায়িত করা যাবে।
সুমন সেনগুপ্ত বলেন, ‘এই সমঝোতা স্মারক আমাদের চলমান অংশীদারত্বের একটি নতুন অধ্যায়, যা কিশোর-কিশোরীদের সুস্থ, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।’
অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মসূচিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশটিতে এই মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত ৩৯০ জনের বেশি মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
ইবোলা অত্যন্ত বিরল কিন্তু মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী একটি রোগ। এটি ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। মূলত তিন প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস মানুষের মধ্যে প্রাদুর্ভাব ঘটায়। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাব ‘বুন্দিবুগিও’ নামক একটি সুনির্দিষ্ট প্রজাতির ভাইরাসের কারণে হচ্ছে।
১ দিন আগে
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একটি শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল আর অন্য পাঁচ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
১ দিন আগে
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ইবোলার প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হিসেবে ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
১ দিন আগে