
ইবোলা অত্যন্ত বিরল কিন্তু মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী একটি রোগ। এটি ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। মূলত তিন প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস মানুষের মধ্যে প্রাদুর্ভাব ঘটায়। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাব ‘বুন্দিবুগিও’ নামক একটি সুনির্দিষ্ট প্রজাতির ভাইরাসের কারণে হচ্ছে।
প্রাণী থেকে মানুষে—ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মূলত শুরু হয় বন্য প্রাণীর মাধ্যমে। যখন কোনো মানুষ আক্রান্ত প্রাণীর (যেমন—বাদুড়) সংস্পর্শে আসে, তখন প্রথম সংক্রমণটি ঘটে।
মানুষ থেকে মানুষে—একবার কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত হলে, তাঁর শরীর থেকে অন্য মানুষের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি, লালা বা অন্য কোনো শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শে এলে অন্যরাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন।
সংক্রমিত হওয়ার পর সাধারণত ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে (ইনকিউবেশন পিরিয়ড) শরীরে ইবোলার লক্ষণ দেখা দেয়। লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকাশ পায়।
প্রাথমিক লক্ষণ—হঠাৎ করেই ফ্লু বা সাধারণ জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন—তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা এবং চরম ক্লান্তি বা অবসাদ।
পরবর্তী লক্ষণ—রোগটি জটিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত রোগীর বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো (যেমন—লিভার বা কিডনি) কাজ করা বন্ধ করে দিতে থাকে।
চূড়ান্ত পর্যায়—কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরে এবং বাইরে (নাক, মুখ দিয়ে) মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে বর্তমানে কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া ‘বুন্দিবুগিও’ প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের আগের প্রাদুর্ভাবগুলোতে মৃত্যুর হার ৩০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে ছিল।
ইবোলার সবচেয়ে সাধারণ প্রজাতি ‘জায়ার’-এর জন্য কার্যকরী ভ্যাকসিন বা টিকা থাকলেও, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্দিবুগিও’ প্রজাতির জন্য এখন পর্যন্ত অনুমোদিত কোনো ভ্যাকসিন বা সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই।
ইবোলা ভাইরাস প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৭৬ সালে, বর্তমান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো)। কঙ্গোতে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। ডিআর কঙ্গো এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬ জন সন্দেহভাজন রোগী এবং ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে বিগত ৫০ বছরে আফ্রিকায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মারা গেছেন।
কঙ্গোর ইতিহাসে ইবোলার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবটি ঘটেছিল ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। তখন প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। গত বছরও দেশটির একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইবোলায় ৪৫ জন মারা যান।
আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি রুয়ামপারা ও বুনিয়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চল এবং মংওয়ালুর খনি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় ঝুঁকি অনেক বেশি। খনি ও বাণিজ্যের কারণে ওই অঞ্চলের মানুষের উচ্চ ভৌগোলিক গতিশীলতার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে এ সময়ে নতুন করে কোনো মৃত্যুকে হামজনিত হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র প্রকাশিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়
৪ ঘণ্টা আগে
দেশে প্রথমবারের মতো গর্ভের শিশুর শরীরে সফলভাবে রক্ত সঞ্চালন (ইন্ট্রা-ইউটেরিন ফিটাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন) করা হয়েছে। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিটো-ম্যাটার্নাল মেডিসিন ইউনিটে গত ২৯ জুন জটিল এই চিকিৎসাপদ্ধতি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
১ দিন আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১৬১ জন রোগী। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৯৩ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৯ জন, যাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও নয়জন নারী।
২ দিন আগে
এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই অবস্থায় জোরেশোরে বাড়ছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণ। বছরের প্রথম ছয় মাসে হাসপাতালে যাওয়া ডেঙ্গু রোগীর ৪৮ শতাংশই ভর্তি হয়েছে জুন মাসে। অর্থাৎ বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে ডেঙ্গু ঊর্ধ্বমুখী।
৩ দিন আগে