সারা দিন রোজা শেষে ইফতারিতে আমাদের খাওয়ার আয়োজন থাকে বেশি। ইফতারের একটা বড় অংশ থাকে তেলে ভাজা খাবার। যেমন—পেঁয়াজু, বেগুনি, বিভিন্ন রকমের চপ, জিলাপি, বুন্দিয়া, চিকেন ফ্রাইসহ অনেক কিছু। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনায় প্রতিদিনের ইফতারে এমন ডুবো তেলে ভাজা খাবার খেয়ে অনেকেই বিভিন্ন রকমের পেটের অসুখে আক্রান্ত হন। এ সময় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, আলসার, ফ্যাটি লিভার, ভালো গাট ব্যাকটেরিয়া কমে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস, আনাল ফিসারসহ অনেক জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কারণ
ইফতারের ডুবো তেলে ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এসব সমস্যার জন্য মূলত দায়ী। এগুলো খেতে হয়তো অনেক মজাদার, কিন্তু মোটেও স্বাস্থ্যবান্ধব নয়।
যেকোনো ভোজ্যতেল যদি দীর্ঘ সময় আগুনের তাপে থাকলে ফ্যাটি অ্যাসিড ট্রান্সফ্যাটে রূপান্তর হতে থাকে। এই ট্রান্সফ্যাটই আমাদের জন্য ক্ষতিকর। এই ট্রান্সফ্যাট আমাদের পরিপাকতন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমিয়ে দেয়। ফলে খাবার হজম ও পুষ্টির শোষণ প্রক্রিয়া খুব ধীরে হয়। এতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। শরীর থেকে বারবার বায়ু নির্গমনের ফলে শরীরে পানির পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে মল শক্ত হয়ে পাইলস ও ফিসারের মতো মারাত্মক রোগ দেখা দিতে পারে।
শরীরের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হচ্ছে লিভার। একে শরীরের ব্যাংক বলা হয়। চাহিদার অতিরিক্ত খাবার খেলে তা লিভারে বিভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করে। এর মধ্যে অন্যতম ভাজাপোড়া খাবারের অতিরিক্ত ফ্যাট লিভারে জমা হতে থাকা। এ ছাড়া মিষ্টিজাতীয় খাবার ও কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার অতিরিক্ত খেলে সেগুলোও ফ্যাটে রূপান্তর হয়ে লিভারে জমা হয়। এই সমস্যাকে ফ্যাটি লিভার বলে। এর ফলে লিভার থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হওয়া ব্যাহত হয়। পিত্তরস খাদ্য পরিপাকের, বিশেষ করে স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকের একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। এর ফলে পরিপাকতন্ত্রে খাবারের হজম ও শোষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এতে গ্যাস্ট্রিক, আলসারসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
করণীয়
অস্বাস্থ্যকর ইফতারির ফলাফল হিসেবে প্রথমে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে ধীরে ধীরে অন্যান্য জটিল শারীরিক সমস্যাগুলো দেখা দেয়। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো খুব সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যায়। এসব বিষয়ে সম্ভব হলে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।
লেখক: জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

দেশে ডেঙ্গুর পাশাপাশি হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২১ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৯২০ জন।
১৭ ঘণ্টা আগে
ডব্লিউএইচও জানায়, বিশ্বের ২৬টি দেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার। এসব দেশের অধিকাংশই সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, মেলানেশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে অবস্থিত।
১ দিন আগে
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ২০টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হলেও ধাপে ধাপে দেশের ৫০০টি উপজেলায় এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
২ দিন আগে