Ajker Patrika

অল্প বয়সে বিয়ে, অসচেতনতা ও মাতৃদুগ্ধ না দেওয়ায় পুষ্টিহীনতা বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ৫৮
অল্প বয়সে বিয়ে, অসচেতনতা ও মাতৃদুগ্ধ না দেওয়ায় পুষ্টিহীনতা বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি

অল্প বয়সে বিয়ে, অসচেতনতা এবং শিশুকে মাতৃদুগ্ধ না দেওয়ার কারণেই দেশে পুষ্টিহীনতা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই।

আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’ প্রতিপাদ্যে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের প্রথম ছয় মাস শিশুর প্রধান খাদ্য হওয়া উচিত মায়ের বুকের দুধ। কিন্তু সিজারিয়ান প্রসবের হার বৃদ্ধি এবং সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু শালদুধ ও মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অনেক মা নিজের অপুষ্টির কথা ভেবে শিশুকে দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখেন, যা ঠিক নয়। অল্প বয়সে বিয়ে, অসচেতনতা এবং শিশুকে মাতৃদুগ্ধ না দেওয়ার কারণেই পুষ্টিহীনতা বাড়ছে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্রামাঞ্চলে মাতৃদুগ্ধ পান বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি।

শিশুখাদ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প খাদ্য নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে। ছয় মাস বয়সের পর শিশুদের জন্য ঘরে তৈরি সুষম খাবারই সবচেয়ে উপযোগী। চাল, ডাল, আলু ও শাকসবজি দিয়ে তৈরি খিচুড়িসহ পুষ্টিকর খাবার শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

মায়েদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো অবস্থাতেই সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। সুস্থ ও সবল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত