লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিল। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব সাও পাওলোতে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়ছেন বাংলাদেশের দিলোয়ার হোসেন সৌরভ। ব্রাজিলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নাদিম মজিদ।

আপনি ব্রাজিল কেন পছন্দ করলেন?
দিলোয়ার হোসেন সৌরভ: বিশ্বে অনন্য সংস্কৃতির দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিল অন্যতম। সাম্বার ছন্দ, ফুটবলের নান্দনিকতা ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্য দেশটি বিশেষভাবে পরিচিত। নতুন ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগ্রহ ছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশিদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম, এমন দেশে পড়তে চেয়েছি। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে বেছে নিয়েছি।
উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কেন ব্রাজিলকে বেছে নেবে?
দিলোয়ার: ব্রাজিলের উচ্চশিক্ষার মান বিশ্বমানের। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক কম প্রতিযোগিতায় দেশটির শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার সুযোগ পেতে পারেন। অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি নেই। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টাইপেন্ড, শিক্ষার্থী সহায়তা কর্মসূচি এবং স্বল্পমূল্যের বিশ্ববিদ্যালয় রেস্টুরেন্টের সুবিধাও রয়েছে। এ ছাড়া ব্রাজিলের সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক মিল রয়েছে। এখানকার মানুষ খুবই আন্তরিক এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের সহজে আপন করে নেয়।
আপনি কীভাবে ইউনিভার্সিটি অব সাও পাওলোতে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সুযোগ পেলেন?
দিলোয়ার: ছোটবেলা থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ছিল। ২০২৫ সালে বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্কলারশিপে আবেদন, আইইএলটিএস এবং সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নিয়েছি। বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের পর আবেদন করি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একমাত্র বিদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। ভালো একাডেমিক ফল, সহশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ, আন্তর্জাতিক সামার স্কুলে অংশগ্রহণ এবং শক্তিশালী ব্যাংক স্টেটমেন্ট আবেদনকে শক্তিশালী করেছে।
ব্রাজিলের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রোগ্রামের মেয়াদ কত?
দিলোয়ার: ব্রাজিলের সরকারি আন্তর্জাতিক শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় সাধারণত প্রথমে এক বছর পর্তুগিজ ভাষা শিখতে হয়। এরপর বিষয়ভেদে ব্যাচেলর প্রোগ্রামের মেয়াদ ৪ থেকে ৫ বছর। মাস্টার্স প্রোগ্রাম ২ বছর এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম সাধারণত ৪ বছর মেয়াদি হয়।
কোন সময়ে ব্রাজিলের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হয়?
দিলোয়ার: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্কলারশিপ হলো পিইসি-পিএলই (পর্তুগিজ ভাষা শিক্ষা), পিইসি-জি (ব্যাচেলর), পিইসি-পিজি (মাস্টার্স ও পিএইচডি) এবং জিসিইউবি-মব (মাস্টার্স ও পিএইচডি)।
সাধারণত পিইসি-পিএলই, পিইসি-জি ও পিইসি-পিজি-এর আবেদন একসঙ্গে শুরু হয়। আবেদন এপ্রিল-জুলাইয়ের মধ্যে হয়; ফল প্রকাশ করা হয় অক্টোবর মাসে এবং ক্লাস শুরু পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে।
এসব বৃত্তির আওতায় কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?
দিলোয়ার: পিইসি-জি স্কলারশিপের আওতায় ব্রাজিলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ থাকে। তবে আবাসন ও ব্যক্তিগত খরচ শিক্ষার্থীকে বহন করতে হয়। অন্যদিকে পিইসি-পিএলই ও পিইসি-পিজি বৃত্তিতে টিউশন ফি ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে বিনা মূল্যে বা ভর্তুকি মূল্যে খাবারের সুবিধা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত আবাসন, মাসিক ভাতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী সহায়তা পাওয়া যায়।
ব্রাজিলে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মাসিক জীবনযাত্রার খরচ কত হতে পারে?
দিলোয়ার: এটি শহর ও জীবনযাত্রার মানের ওপর নির্ভর করে। সাও পাওলোর মতো বড় শহরে খরচ তুলনামূলক বেশি, আর ছোট শহরে কম। গড়ে আবাসন ও খাবারের জন্য মাসে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। পর্তুগিজ ভাষা শেখার সময় এ খরচ নিজেকেই বহন করতে হয়। তবে মূল কোর্স শুরু হলে আবেদনের ভিত্তিতে মাসিক বৃত্তির সুযোগ রয়েছে।
ব্রাজিলে পড়াশোনা শেষে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ কেমন?
দিলোয়ার: দক্ষতার সঙ্গে পড়াশোনা সম্পন্ন করলে ব্রাজিলে সংশ্লিষ্ট খাতে চাকরির ভালো সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রকৌশল, কৃষি, প্রযুক্তি ও গবেষণাক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। এখানে জাতীয়তার চেয়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ব্রাজিলে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ কেমন?
দিলোয়ার: ব্রাজিলের শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটাই বাস্তবমুখী। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেয়। এসব ইন্টার্নশিপ শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি মাসিক ভাতাও দেয়। তবে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ তুলনামূলক সীমিত।
ব্রাজিলে বাংলাদেশিরা সাধারণত কোন কোন খাতে কাজ করেন?
দিলোয়ার: এটি শহর ও ভাষাগত দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। সুপারমার্কেট, রেস্টুরেন্ট, ডেলিভারি ও বিভিন্ন সেবা খাতে কাজ করেন। উচ্চশিক্ষা সম্পন্নকারীরা পেশাগত ক্ষেত্রেও সুযোগ পান।
ব্রাজিলের কোন কোন শহরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন?
দিলোয়ার: বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সাও পাওলো শহরে। এ ছাড়া রিও ডি জেনিরো, বেলো হরিজন্তে, ব্রাসিলিয়া এবং সালভাদরেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন।
ব্রাজিলে এসে আপনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
দিলোয়ার: প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল ভাষা। ইংরেজিভাষী মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তাই পর্তুগিজ ভাষা শেখার আগপর্যন্ত অনুবাদকের সহায়তা নিতে হয়েছে। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ ছিল খাবার। গরু ও মুরগির মাংস পাওয়া গেলেও তা হালাল না হওয়ায় খাওয়া সম্ভব নয়। এ ছাড়া বাংলাদেশি মসলা ও পরিচিত খাবারও সহজে পাওয়া যায় না। তাই খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাও বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।
ব্রাজিলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কোন কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সুযোগ রয়েছে?
দিলোয়ার: ব্রাজিলে প্রকৌশল, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, কম্পিউটার সায়েন্স, জীববিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, মহাকাশবিজ্ঞান এবং অ্যারোস্পেস-সম্পর্কিত বিষয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো সুযোগ রয়েছে। এখানে গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সমৃদ্ধ গবেষণা পরিবেশ রয়েছে।
যাঁরা আগামী বছর বা ভবিষ্যতে ব্রাজিলে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে চান, তাঁদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ কী?
দিলোয়ার: অনেকে মনে করেন, ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার বাইরে বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নেই। বাস্তবে ব্রাজিল সেই ধারণা বদলে দিতে পারে। তাই শুধু পরিচিত গন্তব্যের দিকে না তাকিয়ে নতুন সম্ভাবনাগুলোও বিবেচনা করা উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের স্বপ্নকে কখনো ছোট করে দেখবেন না। সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য ও পরিশ্রম থাকলে ব্রাজিলের মতো বিশ্বমানের গন্তব্যেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সফল হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) পদটি দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরি হিসেবে পরিচিত। ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত সহকারী পরিচালক পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ৫ হাজার ১৪৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
সেলস অপারেশন মানেই কি শুধু এক্সেল শিটের হিসাবনিকাশ, রিপোর্ট তৈরি বা তথ্য রাখা? অনেকে তাই মনে করেন। বাস্তবে এই বিভাগের কাজ সংখ্যার গণ্ডি ছাড়িয়ে মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। একজন দক্ষ সেলস অপারেশন পেশাজীবী শুধু ডেটা বিশ্লেষণ করেন না, মাঠে কাজ করা সেলস টিমের পথও সহজ করে দেন।
৪ ঘণ্টা আগে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহত শিক্ষার্থী আসমা বিনতে মফিজ বলেন, ‘হঠাৎ ফ্যানটি খুলে নিচে পড়ে আমার মুখের বাম পাশে আঘাত লাগে।’
২ দিন আগে
সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির....
২ দিন আগে