ডায়াবেটিস নিউরোপ্যাথির লক্ষণ ও প্রতিকার কী

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিংবা অনেক দিন ধরে ডায়াবেটিস থাকলে স্নায়ু বা নার্ভের যে সমস্যা হয়, সেটাই ডায়াবেটিস নিউরোপ্যাথি। এর প্রধান প্রতিরোধ হলো ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও রক্তের কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণে রাখা।
লক্ষণ
ডায়াবেটিস থেকে নার্ভ বা স্নায়ুর সমস্যাগুলো সাধারণত হাতে বা পায়ের শেষ ভাগে বেশি দেখা যায়। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে—
- হাত বা পা ঝিমঝিম করা
- অবশ হয়ে যাওয়া বা অনুভূতিশূন্য হয়ে যাওয়া
- হাত-পা জ্বালাপোড়া করা
- হাতে-পায়ে কেউ সুচ দিয়ে গুঁতো দিচ্ছে বা পিঁপড়া হাঁটছে এমন অনুভূতি হওয়া
- পায়ে অনুভূতি না থাকায় অনেক সময় ছোট আঘাত টের না পাওয়ার কারণে সেখানে ঘা হয়ে যাওয়া।
পরিপাকতন্ত্রের স্নায়ুর ক্ষতির জন্য কিছু লক্ষণ থাকে। যেমন—
- বারবার পাতলা মল ত্যাগ করা
- মল কষা হওয়া
- পেট ভার ভার লাগা
মলমূত্র ধরে রাখতে না পারা। এ ছাড়া প্রজননতন্ত্রের স্নায়ুর সমস্যার জন্য পুরুষের ইরেক্টাইল ডিসফাংশন হতে পারে। নারীদের সহবাসে আগ্রহ কমে যেতে পারে। বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ, বারবার প্রস্রাব, রাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাব হতে পারে।
প্রতিকার
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। খালি পেটে ব্লাড সুগার ৫ থেকে ৭ মিলি মোল প্রতি লিটার এবং খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর ৮ থেকে ৯ মিলি মোল প্রতি লিটার রাখতে হবে। স্নায়ু একবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলে পূর্বের অবস্থা আর ফিরিয়ে নিয়ে আসা যাবে না। যাদের উচ্চরক্তচাপ আছে, তাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। নিয়মিত ডায়াবেটিস ফলোআপে রাখতে হবে। প্রয়োজনে ওষুধ খেতে হবে। তিন মাস পরপর রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে ওষুধের ডোজের পরিবর্তন করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। নিয়মিত ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
পরামর্শ: হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল









