ভিটামিন ই চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন। এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষকে ফ্রি-র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
এটি কোষের ঝিল্লির অখণ্ডতা বজায় রাখে এবং লিপিড পারঅক্সিডেশন প্রতিরোধ করে। ভিটামিন ই ১৯২২ সালে আবিষ্কার করা হলেও প্রথম সংশ্লেষিত হয়েছিল ১৯৩৮ সালে। এর বৈজ্ঞানিক নাম টোকোফেরল। আলফা, বিটা, গামা ও ডেলটা—এই চার রূপে থাকে টোকোফেরল। বিভিন্ন রকমের বাদাম, বীজ এবং উদ্ভিজ্জ তেল ভিটামিন ই-এর প্রধান উৎস।
প্রতিদিনের পরিমাণ
বয়সভেদে আমাদের শরীরে প্রতিদিনের ভিটামিন ই-এর চাহিদা ভিন্ন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন এটি প্রয়োজন হয় ১৫ মিলিগ্রাম। ১০ বছরের নিচের শিশুদের ৭ মিলিগ্রাম এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের জন্য ২০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ভিটামিন ই প্রয়োজন হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট খাওয়া যাবে না। তাতে উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।
কোন খাবারে ভিটামিন ই বেশি পাবেন
এটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন। তৈলাক্ত যেকোনো বীজে বেশি পাওয়া যায়। যেমন সব ধরনের বাদাম, সূর্যমুখীর তেল, ক্যানোলা তেল ইত্যাদি। এ ছাড়া মাছ, ডিম, দুধ, পনির, ঝিনুক, ব্রকলিতেও অল্প পরিমাণে ভিটামিন ই পাওয়া যায়। মাংস এর কোনো উল্লেখযোগ্য উৎস নয়।
শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে এবং ধূমপান, দূষণ, খাদ্যে ভেজাল ও মানসিক চাপে শরীরে ফ্রি-র্যাডিকেল তৈরি হয়। এগুলো আমাদের সুস্থ কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে। ভিটামিন ই কোষ ঝিল্লির অখণ্ডতা বজায় রেখে লিপিড পারঅক্সিডেশনকে প্রতিরোধের মাধ্যমে কোষের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এটি শরীরকে শুধু ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেল থেকেই সুরক্ষায় দেয় না, বরং দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি থেকেও রক্ষা করে থাকে।
ত্বকের সুরক্ষায় ভিটামিন ই
ভিটামিন ই ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি, পরিবেশগত দূষণ এবং ফ্রি র্যাডিকেল থেকে ত্বক রক্ষা করে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে ও প্রদাহ কমায়। এ ছাড়া এটি কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ঠিক রেখে তারুণ্য ধরে রাখতে এবং অকালবার্ধক্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। ত্বকের শুষ্কতা নিরাময়েও ভিটামিন ই দারুণ কার্যকরী। এটি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব এবং সানবার্ন থেকে ত্বকের সুরক্ষা দেয়।
চুলের সুরক্ষায়
ভিটামিন ই চুলের সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের গোড়া শক্ত করে। মাথার ত্বকের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে মাথার ত্বক খুশকিমুক্ত রাখে। ভিটামিন ই চুলের উপরিভাগে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে। ফলে চুল রেশমি হয়, চুল পড়া কমায় এবং চুল ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া অকালে চুল সাদা হয়ে যাওয়া প্রতিরোধে ভিটামিন ই দারুণ কার্যকর।
হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষায় কাজ করে
হৃৎপিণ্ড আমাদের শরীরের প্রাণকেন্দ্র। শরীরের প্রতিটি কার্যক্রমে এর ভূমিকা থাকে। এর মাধ্যমে পাম্প করা রক্ত দেহকোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি পদার্থ সরবরাহ নিশ্চিত করে এবং বিপাকজাত রেচন পদার্থ; যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করে ফুসফুসের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। ভিটামিন ই হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বাড়াতে সাহায্য করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, প্রদাহ কমানো এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি সহায়ক। ভিটামিন ই হার্টের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। ফলে হার্ট তার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখে।
লোহিত রক্তকণিকার সুরক্ষা
ভিটামিন ই শরীরে লোহিত রক্তকণিকার সুরক্ষা এবং এই রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি লোহিত রক্তকণিকা কোষ ঝিল্লিকে ফ্রি-র্যাডিকেল থেকে রক্ষা করে। ফলে এই রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে যায় না। ফলে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমে। এ ছাড়া এটি লোহিত রক্তকণিকার গঠনে এবং পরিপক্বতায় সাহায্য করে। ভিটামিন ই হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়ক। তাই কোষে পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন পৌঁছায় এবং কোষের বিপাক ক্রিয়া সম্পন্ন করে।
ভিটামিন ই আমাদের সুস্থতার জন্য জরুরি। তাই প্রতিদিনের খাবারের মাধ্যমে এর জোগান নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষা করে দেখতে হবে, শরীরে ভিটামিন ই পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে কি না। শরীরে এর ঘাটতি থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট নিতে হবে। চাহিদার বেশি ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ শরীরে টক্সিসিটি তৈরি করতে পারে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

দেশজুড়ে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকারি ও বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি হাসপাতালকে পাঁচ দফা এবং বেসরকারি হাসপাতালকে ছয় দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৪ মিনিট আগে
বাংলাদেশে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও সার্বিক কল্যাণ উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। সোমবার (১৮ মে) এই স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
১৭ ঘণ্টা আগে
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশটিতে এই মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত ৩৯০ জনের বেশি মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
ইবোলা অত্যন্ত বিরল কিন্তু মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী একটি রোগ। এটি ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। মূলত তিন প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস মানুষের মধ্যে প্রাদুর্ভাব ঘটায়। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাব ‘বুন্দিবুগিও’ নামক একটি সুনির্দিষ্ট প্রজাতির ভাইরাসের কারণে হচ্ছে।
২ দিন আগে