
‘কাল ঈদ কিন্তু আমাদের পরিবারে কোনো আয়োজন নেই। ছেলেকে নিয়ে কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে আছি। এখন হাঁপিয়ে উঠছি, আল্লাহর রহমত ছাড়া ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়।’
কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন একটি শিশুর স্বজন রায়েবা আক্তার। শুধু এই শিশুর পরিবারই নয়, দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত অনেক শিশুর পরিবারের দিন কাটছে একই রকম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। এসব পরিবারের নেই ঈদের আনন্দ।
এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে তিন দিনে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলো। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। তবে টিকার কার্যকারিতা শুরু হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আজ বুধবার সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশু মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ঝন্টু সরকার। এর আগে গত সোম ও মঙ্গলবারের বিজ্ঞপ্তিতে তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মৃত ১৭ মাস বয়সী শিশু ২০ মে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বাসিন্দা। অপর পাঁচ মাস বয়সী শিশু ৬ মে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে ভর্তি হয়েছিল। গতকাল রাতে তার মৃত্যু হয়। সে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা।
গত ১৭ মার্চ থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৬২৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৫৩৫ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১৪ শিশু। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৭ শিশু। হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৪৭ শিশু।
হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশুর স্বজন ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘১০ মাস বয়সী ভাগনেকে নিয়ে গত এক মাস ধরে ছোটাছুটি করছি। প্রতিদিন ওয়ার্ডে শিশু মারা যাওয়ায় আতঙ্ক কোনোভাবেই কাটছে না। তবে ও (চিকিৎসাধীন শিশুটি) আগের চেয়ে একটু ভালো রয়েছে। যদি হাসপাতালে আইসিইউ থাকত তাহলে এত চিন্তা করতাম না।’
হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ও সহযোগী অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, হামের টিকা নেওয়া শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণ কমে আসছে। যার ফলে আক্রান্তের পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি কমছে। তবে যেসব শিশু মারা যাচ্ছে, তারা হামের পাশাপাশি অন্য রোগেও আক্রান্ত ছিল।

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরী। নিজের কাজগুলো নিজেই করতে পছন্দ করেন। তবে ইদানীং কিছু বিষয় নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়ছেন তিনি। রান্নাঘরে গিয়ে কেন গিয়েছিলেন, মনে পড়ছে না। কাউকে কল দিতে ফোন হাতে নিয়েছেন, কিন্তু মনে পড়ছে না কাকে কল দেবেন। কিছু খুঁজতে পাশের ঘরে গেছেন, সেখানে গিয়ে ভুলে গেছেন, কী খুঁজতে এসেছেন।
১৮ ঘণ্টা আগে
হামের পাশাপাশি দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৭২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
২ দিন আগে
ডেঙ্গু রোগীর জ্বর ভালো হয়ে গেলেও তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দেওয়া যাবে না। জ্বর কমার পর ডেঙ্গুর একটি পর্যায়ে রক্তের প্লাজমা লিকেজ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য ডেঙ্গু রোগীদের অন্তত চার দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। প্রয়োজনে হাসপাতালের গেট বন্ধ রেখে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করে রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশনা
২ দিন আগে