
মা ও নবজাতকের যত্নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। শিশুমৃত্যুর হিসাববিষয়ক জাতিসংঘের আন্তসংস্থা গ্রুপের (ইউএন আইজিএমই) প্রকাশ করা নতুন দুটি প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনের বক্তব্য তুলে ধরেছে।
ইউএন আইজিএমইর প্রতিবেদন দুটি বলছে, ১৯৯০ সাল থেকে মা ও শিশু স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন প্রশংসনীয় হলেও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সার্বিক দুর্বলতার কারণে প্রায়ই মা ও নবজাতক শিশুর যত্নের ঘাটতি হচ্ছে। মা ও শিশুর প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমাতে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এবং এর স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা ডব্লিউএইচও।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ সেবাদাতার উপস্থিতিতে সন্তান প্রসবের সংখ্যা বৃদ্ধি, নবজাতকের সেবা ইউনিটগুলোর সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষিত নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং গর্ভকালীন, সন্তান প্রসবকালীন এবং প্রসবোত্তর সেবার মান উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থা দুটি। একই সঙ্গে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউএন আইজিএমইর শিশুমৃত্যুর হারবিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ১ লাখের বেশি শিশু ৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা গেছে। এসব মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই হয়েছে শিশুর বয়স ২৮ দিন হওয়ার মধ্যেই।
মৃত শিশু প্রসব নিয়ে তৈরি করা দ্বিতীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে প্রতি ৪১ শিশুর জন্মের ক্ষেত্রে একটি মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটছে। মৃত সন্তান প্রসবের এই হার দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সম্পর্কিত লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশকে অবশ্যই প্রতিবছর আরও ২৮ হাজার নবজাতককে বাঁচাতে হবে। এজন্য মা ও নবজাতকের উন্নত যত্ন নেওয়ার বিষয়টি জরুরি।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের ওআইসি প্রতিনিধি ফারুক আদ্রিয়ান দুমুন বলেছেন, ‘আমরা লাখ লাখ শিশু ও মাকে বাঁচাতে পারি, যদি স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিতে আরও বিনিয়োগ করি। নিরাপদ প্রসবের জন্য আরও প্রয়োজন প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর, বিশেষ করে ধাত্রী মায়েদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের সঠিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে ইউনিসেফ মাতৃ ও শিশুমৃত্যু রোধে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনে অন্তর্বর্তী সরকার ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বাংলাদেশে নবজাতকের মৃত্যু ও মৃত সন্তান প্রসবের উচ্চহারের পেছনের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, শিশুর প্রসব ঘরেই হওয়া (৩০ %), আকারে ছোট ও অসুস্থ নবজাতকের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা না থাকা এবং দক্ষ সেবাদাতা/ধাত্রীর ঘাটতি। মা ও নবজাতকের অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে উপজেলা পর্যায়ে মানসম্পন্ন সার্বক্ষণিক সেবার অভাব, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে প্রসবের পর অপর্যাপ্ত সেবা এবং অনিয়ন্ত্রিত বেসরকারি খাত।
বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহামেদ এ বিষয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বিগত দশকগুলোতে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তারপরও মানসম্মত ও সময়োচিত সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়ে গেছে। মর্মান্তিক ক্ষতি বন্ধে আমাদের অবশ্যই এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

মাত্র ৬২ দিনে সংক্রামক রোগ হাম ও এর উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে চার শ ছাড়িয়ে গেছে। গত কয়েক দশকে এত অল্প সময়ে সংক্রামক কোনো রোগে এত বেশি শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বিশ্বেই সম্পূর্ণ নতুন রোগ করোনা সংক্রমণের শুরুর প্রথম নয় সপ্তাহে (৬৩ দিন) দেশে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় সোয়া তিন শ মানুষের।
২ ঘণ্টা আগে
উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক রোগ। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ‘বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এই মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আজ শনিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ’ শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
৭ ঘণ্টা আগে
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে দেশে আরও দুই শিশু মারা গেছে। এ সময়ে ৯৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আর হামে আক্রান্ত হয়েছে ১০৮ শিশু। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১ হাজার ৬৯ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে যখন আমরা পরিবেশের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করি, তখন অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচের জগৎটাকেও আমাদের বিশ্লেষণ করতে হয়। আর্দ্রতা ও উচ্চ তাপমাত্রা কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবীর জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
১৬ ঘণ্টা আগে