অধ্যাপক ডা. মো. খায়রুল আনাম

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব ফুসফুস দিবস। বিশ্বব্যাপী ফুসফুসসংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে ফোরাম অব ইন্টারন্যাশনাল রেসপিরেটরি সোসাইটি দিনটিকে ফুসফুস দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য ফুসফুসের স্বাস্থ্য’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ দিবসটি পালিত হচ্ছে।
মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে একটি ফুসফুস। এই শ্বাসযন্ত্রের প্রধান কাজ হলো বাতাস থেকে রক্তে অক্সিজেন নেওয়া এবং রক্ত থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়া। সুস্থ ফুসফুস ছাড়া স্বাভাবিক জীবনযাপন কল্পনাও করা যায় না। ফুসফুসের যেকোনো অসুস্থতা বা সংক্রমণ রোগীকে শ্বাসকষ্ট ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা, এমনকি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। তাই ফুসফুসের যত্ন নেওয়া তথা বিভিন্ন রোগ থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করা একান্ত আবশ্যক।
ফুসফুস রক্ষা করতে যা করতে হবে—
ধূমপান ছাড়তে হবে
ফুসফুসের যত্নের কথা বললে প্রথমেই বলতে হয় ধূমপানের মতো বদভ্যাস বাদ দেওয়ার কথা। ধূমপায়ীদের ফুসফুসের কোষ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দুর্বল হয়ে থাকে বলে তাদের শ্বাসতন্ত্রের রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ধূমপান ত্যাগ করা আবশ্যক।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস করতে হবে
ফুসফুসের সুস্থতায় খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব আছে। ভিটামিন এ, সি, ই, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং সোডিয়াম, সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আদা, হলুদ, রঙিন শাকসবজি, তৈলাক্ত মাছ, ডিম, টক ফল, সরিষা, আমলকী, আপেল, গাজর, বাদাম, কমলা, ব্রোকলি, বাঁধাকপি, বাদাম ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ আছে। এসব অ্যান্টি অক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে উজ্জীবিত করে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে কোষ ধ্বংস প্রতিরোধ করে। এগুলো ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে ফুসফুস তথা পুরো দেহের সুস্থতা নিশ্চিত করে। এসব খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে, যা পানিশূন্যতা থেকে মুক্তির পাশাপাশি দেহকে বিষমুক্ত করবে। এ ছাড়া পানি কোষ উজ্জীবিত রাখতে সাহায্য করে।
নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে
ফুসফুস ভালো রাখতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা। ব্যায়াম করলে দেহে প্রচুর অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং বারবার সম্প্রসারণ-প্রসারণের ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ মিনিট জোর কদমে হাঁটা, প্রাণায়াম, মেডিটেশন, বড় করে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়া ইত্যাদি শ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুসের জন্য খুবই উপকারী। পাশাপাশি প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা নির্বিঘ্ন ঘুমও সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।
বায়ুদূষণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এড়িয়ে চলা
ফুসফুসের রোগে বায়ুদূষণের প্রভাব যথেষ্ট বেশি। দূষিত বায়ুর নানান বিষাক্ত উপাদান ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ঘন জনবসতি বা অবস্থান শ্বাসতন্ত্র তথা ফুসফুসের রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এসব পরিস্থিতি থেকে নিজেকে যথাসম্ভব মুক্ত রাখতে হবে। এ ছাড়া হাঁচি-কাশির সময় স্বাস্থ্যসম্মত শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে।
নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা গ্রহণ
ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের, বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা যাদের কম তাদের ফুসফুসের সংক্রমণ তথা মারাত্মক ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনমতো নিয়মিত নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধক টিকা নেওয়া জরুরি। টিকা নেওয়ার আগে বা ফুসফুসের যেকোনো সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
অধ্যাপক ডা. মো. খায়রুল আনাম,পরিচালক ও অধ্যাপক, রেসপিরেটরি মেডিসিন,জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব ফুসফুস দিবস। বিশ্বব্যাপী ফুসফুসসংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে ফোরাম অব ইন্টারন্যাশনাল রেসপিরেটরি সোসাইটি দিনটিকে ফুসফুস দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য ফুসফুসের স্বাস্থ্য’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ দিবসটি পালিত হচ্ছে।
মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে একটি ফুসফুস। এই শ্বাসযন্ত্রের প্রধান কাজ হলো বাতাস থেকে রক্তে অক্সিজেন নেওয়া এবং রক্ত থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়া। সুস্থ ফুসফুস ছাড়া স্বাভাবিক জীবনযাপন কল্পনাও করা যায় না। ফুসফুসের যেকোনো অসুস্থতা বা সংক্রমণ রোগীকে শ্বাসকষ্ট ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা, এমনকি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। তাই ফুসফুসের যত্ন নেওয়া তথা বিভিন্ন রোগ থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করা একান্ত আবশ্যক।
ফুসফুস রক্ষা করতে যা করতে হবে—
ধূমপান ছাড়তে হবে
ফুসফুসের যত্নের কথা বললে প্রথমেই বলতে হয় ধূমপানের মতো বদভ্যাস বাদ দেওয়ার কথা। ধূমপায়ীদের ফুসফুসের কোষ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দুর্বল হয়ে থাকে বলে তাদের শ্বাসতন্ত্রের রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ধূমপান ত্যাগ করা আবশ্যক।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস করতে হবে
ফুসফুসের সুস্থতায় খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব আছে। ভিটামিন এ, সি, ই, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং সোডিয়াম, সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আদা, হলুদ, রঙিন শাকসবজি, তৈলাক্ত মাছ, ডিম, টক ফল, সরিষা, আমলকী, আপেল, গাজর, বাদাম, কমলা, ব্রোকলি, বাঁধাকপি, বাদাম ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ আছে। এসব অ্যান্টি অক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে উজ্জীবিত করে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে কোষ ধ্বংস প্রতিরোধ করে। এগুলো ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে ফুসফুস তথা পুরো দেহের সুস্থতা নিশ্চিত করে। এসব খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে, যা পানিশূন্যতা থেকে মুক্তির পাশাপাশি দেহকে বিষমুক্ত করবে। এ ছাড়া পানি কোষ উজ্জীবিত রাখতে সাহায্য করে।
নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে
ফুসফুস ভালো রাখতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা। ব্যায়াম করলে দেহে প্রচুর অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং বারবার সম্প্রসারণ-প্রসারণের ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ মিনিট জোর কদমে হাঁটা, প্রাণায়াম, মেডিটেশন, বড় করে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়া ইত্যাদি শ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুসের জন্য খুবই উপকারী। পাশাপাশি প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা নির্বিঘ্ন ঘুমও সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।
বায়ুদূষণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এড়িয়ে চলা
ফুসফুসের রোগে বায়ুদূষণের প্রভাব যথেষ্ট বেশি। দূষিত বায়ুর নানান বিষাক্ত উপাদান ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ঘন জনবসতি বা অবস্থান শ্বাসতন্ত্র তথা ফুসফুসের রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এসব পরিস্থিতি থেকে নিজেকে যথাসম্ভব মুক্ত রাখতে হবে। এ ছাড়া হাঁচি-কাশির সময় স্বাস্থ্যসম্মত শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে।
নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা গ্রহণ
ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের, বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা যাদের কম তাদের ফুসফুসের সংক্রমণ তথা মারাত্মক ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনমতো নিয়মিত নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধক টিকা নেওয়া জরুরি। টিকা নেওয়ার আগে বা ফুসফুসের যেকোনো সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
অধ্যাপক ডা. মো. খায়রুল আনাম,পরিচালক ও অধ্যাপক, রেসপিরেটরি মেডিসিন,জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা

দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এবং ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা (ইডিএল) সম্প্রসারণ এবং এগুলোর মূল্য নির্ধারণের নতুন গাইডলাইন অনুমোদন করা হয়েছে।
২ দিন আগে
কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে আমাদের সবার কমবেশি জানাশোনা আছে। তবে এটি জেনে রাখা ভালো যে অন্যান্য ঋতুর চেয়ে শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি হয়। এ ছাড়া বয়স্ক মানুষ ও নারীদের এটি হওয়ার হার বেশি। ফলে শীতকালে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয়। প্রশ্ন হলো, কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়? এর অনেক কারণ রয়েছে।
৩ দিন আগে
শীতের হিমেল হাওয়া আমাদের ত্বকে টান ধরায়। শুধু তা-ই নয়, এটি আমাদের কানের স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। শীতকালীন ঠান্ডা ও আর্দ্রতা কানে ইনফেকশন থেকে শুরু করে শ্রবণশক্তির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিও করতে পারে।
৩ দিন আগে
ঘুম ভালো হওয়া সুস্থ জীবনের অন্যতম শর্ত। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বর্তমান জীবনে অনিদ্রা অনেকের সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ পর্যাপ্ত ও সময়মতো ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বক এবং শরীরের জন্য উপকারী।
৩ দিন আগে