
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর আবারও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) অন্দরের কোন্দল ও অসন্তোষ প্রকাশ্যে এল। আজ রোববার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে ডাকা তৃণমূল পরিষদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠকে আসেননি দলের সিংহভাগ বিধায়ক। নতুন বিধানসভায় তৃণমূলের মোট বিধায়ক ৮০ জন হলেও বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন মাত্র ২০ জন। ফলে প্রয়োজনীয় কোরাম বা ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি বাতিল করতে বাধ্য হয় দলীয় নেতৃত্ব।
তৃণমূল পরিষদীয় দলের নেতা ও বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন। বৈঠকের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বাড়াতে এবং বিধায়কদের সঙ্গে দলের সমন্বয় জোরদার করার লক্ষ্যে তিনি তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সেখানে হাজির থাকার অনুরোধ জানান এবং তাঁর বাসভবনেই সভার আয়োজন করেন।
তবে আজকের এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই অংশ নেননি। অনুপস্থিত হেভিওয়েট বিধায়কদের মধ্যে অন্যতম হলেন মধ্য কলকাতার এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা, কসবার বিধায়ক জাভেদ খান ও ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা। অসন্তোষের তীব্রতা এতটাই, সন্দীপন সাহা ও আব্দুল খালেক মোল্লার মোবাইল ফোন পর্যন্ত বন্ধ পাওয়া গেছে এবং জাভেদ খানকে ফোন করা হলে তিনি কেটে দিয়েছেন।
অপর দিকে, নেত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে যে ২০ জন বিধায়ক কালীঘাটে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাবেক স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র, পলাশিপাড়ার রুকবানুর রহমান, বজবজের অশোক দেব, পাঁচলার গুলশান মল্লিক, মালতীপুরের আব্দুল রহিম বক্সী ও কুমারগঞ্জের তোরাফ হোসেন মণ্ডল।
বৈঠক বাতিলের এই চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে মোটেও গ্রহণযোগ্য বা সন্তোষজনক বলে মনে করা হচ্ছে না। দলের মুখপাত্র ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, গতকাল শনিবার সোনারপুরে দলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনার পর বিধায়কেরা বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত আছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল সন্ধ্যা থেকেই অনেক বিধায়ক ফোন করে বৈঠকের দিন পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
কুণাল ঘোষ আরও যোগ বলেন, অভিষেকের পাশাপাশি দলের আরেক শীর্ষ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরেও হামলা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আগামীকাল সোমবার এই হামলার প্রতিবাদে ব্লকে ব্লকে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতিবাদ মিছিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কুণাল ঘোষ বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার দাবি করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বড় ধরনের প্রশ্ন তুলছেন। যদি আগে থেকেই বৈঠক বাতিলের বা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েই থাকত, তাহলে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বা মদন মিত্রের মতো ২০ জন বিধায়ক কেন মমতার বাড়িতে এসে হাজির হলেন? অর্থাৎ, কতজন বিধায়ক মমতার বাড়ির বৈঠকে আসবেন, তার কোনো আগাম অনুমান বা নিয়ন্ত্রণ দলীয় নেতৃত্বের কাছে আদৌ ছিল না। মূলত বিধায়কদের এই বিশাল ‘অনুপস্থিতি’ ও ক্ষোভের বহর স্বচক্ষে দেখার পরেই কোরাম না হওয়ার অজুহাতে বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের নেত্রীর ডাকা বৈঠকে সিংহভাগ বিধায়কের অনুপস্থিতি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের কোন্দল ও অসন্তোষকেই সামনে আনছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুরে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে হামলার শিকার হন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও লোকসভার সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এ সময় উত্তেজিত জনতা ও বিজেপির কর্মীরা অভিষেককে লক্ষ্য করে অনবরত ডিম ও পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীরা মাথায় হেলমেট পরিয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজাকে উদ্ধার করেন।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি ও আনন্দবাজার

সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এবার কুয়েতের সঙ্গেও একটি বড় ধরনের সামরিক ও জ্বালানি চুক্তি নিয়ে এগোচ্ছে পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণের আবহে দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দেশটির প্রকৃত সামরিক শক্তি এবং তাদের অস্ত্রাগারের সক্ষমতা...
৮ ঘণ্টা আগে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে মানব পাচারকারীদের নৌকায় পাড়ি দেওয়া অন্তত ৫৩০ রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থী প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। মানবাধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরে নৌকা দুটি ডুবে গেছে।
৮ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। দলের সংসদ সদস্যদের সমর্থনে তিনি স্যার কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে আগামী সোমবার (২০ জুলাই) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
৯ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে অ্যান্ডি বার্নহাম দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ও মানুষের জীবনে ‘আশা ফিরিয়ে আনার’ অঙ্গীকার করেছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) লন্ডনে ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (টিইউসি) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিশেষ দলীয় সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নেতা
৯ ঘণ্টা আগে