
ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ (আইবিডি) বলতে বোঝায় মানুষের পরিপাকতন্ত্রে মারাত্মক প্রদাহ। বিশ্বে প্রায় এক কোটি আইবিডি রোগী রয়েছে। বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্তদের বেশির ভাগই গ্রামে বসবাসকারী। দেশে সবচেয়ে বেশি আইবিডি রোগী ঢাকা বিভাগে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও রাজবাড়ী—এই চারটি জেলায় আইবিডি রোগী বেশি পাওয়া গেছে।
রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর ১৯ মে ‘বিশ্ব আইবিডি দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আজ রোববার শোভাযাত্রা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘আইবিডির কোনো সীমা নাই’।
গ্যাস্ট্রোএন্ট্রারোলজি বিভাগের আইবিডি ক্লিনিকের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিডি ক্লিনিকে ২০১৭ সাল থেকে এ ধরনের রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-ব্লকে ১৪তলায় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের আইডিবি ক্লিনিকে এসব রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আইবিডি ক্লিনিকে সর্বাধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা বায়োলজিক্স ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে দেশেই এসব রোগীর উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব।
সেমিনারে জানানো হয়, আইবিডি ক্লিনিকে এ পর্যন্ত ৫৭৬ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এ রোগ দুই ধরনের—আলসারেটিভ কোলাইটিস: এটি প্রধানত বৃহদন্ত্রে প্রদাহ বা আলসার সৃষ্টি করে। দ্বিতীয় প্রকার হলো ক্রোনস ডিজিজ: এই রোগে পরিপাকতন্ত্রের যে ৎকোনো অংশ (মুখ থেকে পায়ু) আক্রান্ত হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুধু ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র বা দুটিই আক্রান্ত হতে পারে।
আইবিডি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ক্রোনস ডিজিজে আক্রান্ত ২৪১ জন এবং আলসারেটিভ কোলাইটিসে আক্রান্ত ৩৩৫ জন। ক্রোনস ডিজিজের মধ্যে পুরুষ ১৬৫ জন, নারী ৭৬ জন। তাঁদের মধ্যে শহরে বসবাসকারী রোগীর অনুপাত ৪৩ শতাংশ এবং গ্রামে বসবাসকারী রোগীর অনুপাত ৫৭ শতাংশ। আর আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীদের মধ্যে পুরুষ ২১৬ জন এবং নারী ১১৯ জন। শহরে বসবাসকারী রোগীর সংখ্যা ৪৫ শতাংশ এবং গ্রামে বসবাসকারী রোগীর সংখ্যা ৫৫ শতাংশ।
দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে পাওয়া গেছে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও রাজবাড়ী—এই চারটি জেলায় আইবিডি রোগী বেশি পাওয়া গেছে।
সেমিনারে জানানো হয়, আইবিডি রোগটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়। এ কারণে কারও মধ্যে রোগটির যেকোনো ধরন শনাক্ত হলেই তা নিয়ন্ত্রণের টার্গেট নেন চিকিৎসকেরা। এ জন্য রোগীদের ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ ও আইবিডি ক্লিনিকের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. চঞ্চল কুমার ঘোষ জানান, আলসাটিটেভ কোলাইটিস হলে দীর্ঘদিন ধরে রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানা হতে পারে। এর সঙ্গে মাঝেমধ্যে তলপেটে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মলদ্বারে ব্যথা ইত্যাদি ছড়িয়ে পড়তে পারে। ক্রোনস ডিজিজের উপসর্গ হলো—পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা, ওজন হ্রাস ইত্যাদি। এ ছাড়া রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানাও হতে পারে।
অধ্যাপক চঞ্চল ঘোষ বলেন, জটিলতা হিসেবে খাদ্যনালি সরু হয়ে পেট ফুলে যেতে পারে, খাদ্যনালি ও মলদ্বারে ফিস্টুলা হতে পারে। রোগীর রক্তশূন্যতা, অপুষ্টি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে, শরীরে পানি আসতে পারে। আইবিডিতে পরিপাকতন্ত্রের বাইরেও কিছু উপসর্গ, যেমন—অনেক সময় আইবিডি রোগীরা চোখের প্রদাহ (চোখ লাল, চোখে ব্যথা) নিয়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন। এ ছাড়া মুখে ঘা, গিঁটেব্যথা ও ফোলা ও ত্বকে প্রদাহ ইত্যাদি হতে পারে।
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. দেওয়ান সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ (আইবিডি) বলতে বোঝায় মানুষের পরিপাকতন্ত্রে মারাত্মক প্রদাহ। বিশ্বে প্রায় এক কোটি আইবিডি রোগী রয়েছে। বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্তদের বেশির ভাগই গ্রামে বসবাসকারী। দেশে সবচেয়ে বেশি আইবিডি রোগী ঢাকা বিভাগে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও রাজবাড়ী—এই চারটি জেলায় আইবিডি রোগী বেশি পাওয়া গেছে।
রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর ১৯ মে ‘বিশ্ব আইবিডি দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আজ রোববার শোভাযাত্রা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘আইবিডির কোনো সীমা নাই’।
গ্যাস্ট্রোএন্ট্রারোলজি বিভাগের আইবিডি ক্লিনিকের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিডি ক্লিনিকে ২০১৭ সাল থেকে এ ধরনের রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-ব্লকে ১৪তলায় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের আইডিবি ক্লিনিকে এসব রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আইবিডি ক্লিনিকে সর্বাধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা বায়োলজিক্স ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে দেশেই এসব রোগীর উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব।
সেমিনারে জানানো হয়, আইবিডি ক্লিনিকে এ পর্যন্ত ৫৭৬ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এ রোগ দুই ধরনের—আলসারেটিভ কোলাইটিস: এটি প্রধানত বৃহদন্ত্রে প্রদাহ বা আলসার সৃষ্টি করে। দ্বিতীয় প্রকার হলো ক্রোনস ডিজিজ: এই রোগে পরিপাকতন্ত্রের যে ৎকোনো অংশ (মুখ থেকে পায়ু) আক্রান্ত হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুধু ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র বা দুটিই আক্রান্ত হতে পারে।
আইবিডি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ক্রোনস ডিজিজে আক্রান্ত ২৪১ জন এবং আলসারেটিভ কোলাইটিসে আক্রান্ত ৩৩৫ জন। ক্রোনস ডিজিজের মধ্যে পুরুষ ১৬৫ জন, নারী ৭৬ জন। তাঁদের মধ্যে শহরে বসবাসকারী রোগীর অনুপাত ৪৩ শতাংশ এবং গ্রামে বসবাসকারী রোগীর অনুপাত ৫৭ শতাংশ। আর আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীদের মধ্যে পুরুষ ২১৬ জন এবং নারী ১১৯ জন। শহরে বসবাসকারী রোগীর সংখ্যা ৪৫ শতাংশ এবং গ্রামে বসবাসকারী রোগীর সংখ্যা ৫৫ শতাংশ।
দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে পাওয়া গেছে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও রাজবাড়ী—এই চারটি জেলায় আইবিডি রোগী বেশি পাওয়া গেছে।
সেমিনারে জানানো হয়, আইবিডি রোগটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়। এ কারণে কারও মধ্যে রোগটির যেকোনো ধরন শনাক্ত হলেই তা নিয়ন্ত্রণের টার্গেট নেন চিকিৎসকেরা। এ জন্য রোগীদের ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ ও আইবিডি ক্লিনিকের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. চঞ্চল কুমার ঘোষ জানান, আলসাটিটেভ কোলাইটিস হলে দীর্ঘদিন ধরে রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানা হতে পারে। এর সঙ্গে মাঝেমধ্যে তলপেটে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মলদ্বারে ব্যথা ইত্যাদি ছড়িয়ে পড়তে পারে। ক্রোনস ডিজিজের উপসর্গ হলো—পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা, ওজন হ্রাস ইত্যাদি। এ ছাড়া রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানাও হতে পারে।
অধ্যাপক চঞ্চল ঘোষ বলেন, জটিলতা হিসেবে খাদ্যনালি সরু হয়ে পেট ফুলে যেতে পারে, খাদ্যনালি ও মলদ্বারে ফিস্টুলা হতে পারে। রোগীর রক্তশূন্যতা, অপুষ্টি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে, শরীরে পানি আসতে পারে। আইবিডিতে পরিপাকতন্ত্রের বাইরেও কিছু উপসর্গ, যেমন—অনেক সময় আইবিডি রোগীরা চোখের প্রদাহ (চোখ লাল, চোখে ব্যথা) নিয়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন। এ ছাড়া মুখে ঘা, গিঁটেব্যথা ও ফোলা ও ত্বকে প্রদাহ ইত্যাদি হতে পারে।
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. দেওয়ান সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এবং ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা (ইডিএল) সম্প্রসারণ এবং এগুলোর মূল্য নির্ধারণের নতুন গাইডলাইন অনুমোদন করা হয়েছে।
১ দিন আগে
কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে আমাদের সবার কমবেশি জানাশোনা আছে। তবে এটি জেনে রাখা ভালো যে অন্যান্য ঋতুর চেয়ে শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি হয়। এ ছাড়া বয়স্ক মানুষ ও নারীদের এটি হওয়ার হার বেশি। ফলে শীতকালে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয়। প্রশ্ন হলো, কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়? এর অনেক কারণ রয়েছে।
২ দিন আগে
শীতের হিমেল হাওয়া আমাদের ত্বকে টান ধরায়। শুধু তা-ই নয়, এটি আমাদের কানের স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। শীতকালীন ঠান্ডা ও আর্দ্রতা কানে ইনফেকশন থেকে শুরু করে শ্রবণশক্তির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিও করতে পারে।
২ দিন আগে
ঘুম ভালো হওয়া সুস্থ জীবনের অন্যতম শর্ত। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বর্তমান জীবনে অনিদ্রা অনেকের সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ পর্যাপ্ত ও সময়মতো ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বক এবং শরীরের জন্য উপকারী।
২ দিন আগে