Ajker Patrika

ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়া কেন এত কঠিন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ১৩
ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়া কেন এত কঠিন
ছবি: সংগৃহীত

চার দশকের বেশি সময় ধরে ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাবের প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সময়জুড়ে নিষেধাজ্ঞা, গোপন অভিযান, সাইবার হামলা এবং সামরিক হুমকিসহ নানা কৌশল প্রয়োগ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি ওয়াশিংটন। বরং এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক কৌশলগত ফাঁদে ফেলেছে, যেখানে প্রতিটি সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের ঝুঁকি লাভের চেয়ে বেশি হয়ে উঠছে। ফলে এখন প্রশ্ন শুধু ইরানকে কীভাবে পরাস্ত করা যাবে—তা নয়; বরং সেই চেষ্টার পরিণতি যুক্তরাষ্ট্র সামাল দিতে পারবে কি না, সেটিও বড় বিবেচ্য হয়ে উঠেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে একাধিক চাপের সমাবেশ। ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়ে বর্ণনা, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা ক্ষোভ, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ভেনেজুয়েলার অবনতিশীল পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যয় ও ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি চরম বিকল্প হতে পারে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলা, এমনকি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা। তবে খামেনি কেবল রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি শিয়া বিশ্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কর্তৃত্ব। তাঁর ওপর আঘাতকে ‘সভ্যতার ওপর আক্রমণ’ হিসেবে দেখা হতে পারে, যা ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক প্রতিশোধ ও অসম যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে। এর পরিণতিতে জ্বালানি বাজারে ধাক্কা, নৌপথে বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক আর্থিক অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরেকটি কৌশল হতে পারে ইরানের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো—তেল শোধনাগার, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বন্দর ও পরিবহন নেটওয়ার্কে আঘাত হানা। তবে এটিকে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে দেখা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ঘাঁটি, দূতাবাস ও করপোরেট সম্পদই পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

এদিকে, ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে—যে কোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে, এবং সে জবাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ইসরায়েলও এর বড় মূল্য দিতে পারে। একই সঙ্গে চীন ইরানকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দেখছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়লে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও শক্তির প্রবাহে বড় ঝুঁকি তৈরি করবে বলে বেইজিং আশঙ্কা করছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার সংকট যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি সমান্তরাল চাপে ফেলেছে। সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আজ এমন এক কৌশলগত সংকটের মুখে, যেখানে এক সংকট সামলাতে গেলে আরেকটি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ইরান ইস্যুতে তাই প্রশ্ন আর হামলা চালানোর সক্ষমতা নয়—বরং সেই হামলার শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র টিকিয়ে রাখতে পারবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত