
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক শিশু আরেক শিশুকে বারবার চড়, থাপ্পড় ও কামড় দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসা তৃতীয় একটি শিশুও আক্রমণের শিকার হয়।
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশে অনেককেই ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করতে দেখা গেছে। তারা ভাবছেন ঘটনাটি বাংলাদেশেরই কোনো একটি ডে-কেয়ার সেন্টারের ভিডিও।
‘ভোরের সময় অনলাইন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ খেকে আালোচিত ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছে, ‘মা, তুমি কোথায়? ডে-কেয়ারের সেই সিসিটিভি ফুটেজ কাঁদাচ্ছে পুরো দেশ।’ একইভাবে ‘মাসুদ সেজান’ নামের একটি ব্যক্তিগত আইডি থেকে লেখা হয়, ‘পুরো ভিডিওটি দেখার সাহসই পাইনি। এটা কি ডে-কেয়ার, নাকি নির্যাতনকেন্দ্র? এই ডে-কেয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ’এ ছাড়া ‘ফারিস্তার প্রতিদিন’ নামের আরেকটি ফেসবুক পেজ থেকেও ভিডিওটি শেয়ার করে ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়। ভিডিওগুলোর কমেন্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারীই একে দেশের ঘটনা মনে করেছেন।

আলোচিত দাবির সত্যতা যাচাইয়ে বাংলাদেশের কোনো ডে-কেয়ার সেন্টারে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোনো ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। ভিডিওটির প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড ও ভিডিওটির কয়েকটি রিভাসর ইমেজ নিয়ে অনুসন্ধানে, ভারতের জালন্ধর থেকে পরিচালিত (এক্স অ্যাকাউন্টটির প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী) ‘Punjab Kesari’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে গত ২৮ জুন শেয়ার করা একটি পোস্ট পাওয়া যায়। ওই পোস্টের ছবির সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর একটি দৃশ্যের হুবহু মিল লক্ষ্য করা যায়। এ ছাড়া পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করা হয়, এটি একটি প্লে-স্কুলের ভয়াল সিসিটিভি ফুটেজ, যেখানে ২৩ মাস বয়সী এক শিশুকে কক্ষে একা রেখে দেওয়ায় অন্য এক শিশু তাকে মারাত্মকভাবে আঘাত করে।

ঘটনাটি ভারতের ঠিক কোন এলাকার তা নিশ্চিত হতে আরও অনুসন্ধানে ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যম ‘এনডিটিভি’ এর ওয়েবসাইটে গত ২৬ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়, বরং ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলার সিডকো এলাকার ‘ফার্স্টক্রাই ইনটেলিটটস প্রি-স্কুল’-এর একটি ডে-কেয়ার সেন্টারের। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ডে-কেয়ারের এক কর্মী ৩ শিশুকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ রেখে বাইরে চলে যান। ফলে তারা প্রায় ৩০ মিনিট কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তত্ত্বাবধান ছাড়াই ছিল। এ সময় এক শিশু আরেক শিশুর ওপর হামলা চালায় এবং ২৩ মাস বয়সী ভুক্তভোগী শিশুটিকে অন্তত ২৫ বার কামড় দেয়।
হামলায় আহত শিশুটির মুখ, নাক, ঠোঁট, বুক ও পায়ে গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরিবারের অভিযোগ, ডে-কেয়ার কর্তৃপক্ষ প্রথমে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করে এবং পরে বিষয়টি গোপন রাখতে টাকা ও অন্যান্য সুবিধার প্রস্তাব দেয়।
এই ঘটনার পর শিশুটির পরিবার পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। বর্তমানে ওই ডে-কেয়ারের সিইও, ব্যবস্থাপক, প্রধান শিক্ষিকা এবং এক পরিচর্যকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির শিক্ষা বিভাগও ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।
এ ছাড়া ভারতীয় গণমাধ্যম ‘মানি কন্ট্রোল’ -এর প্রতিবেদনেও একই তথ্যে পাওয়া যায়।

ডে-কেয়ার সেন্টারে এক শিশুর ওপর আরেক শিশুর আক্রমণের সিসিটিভি ফুটেজটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়। এটি ভারতের মহারাষ্ট্রের একটি প্রি-স্কুলের ডে-কেয়ার সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর করমর্দনের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে
সম্প্রতি একটি ছবি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে—ছবিটি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের।
১ দিন আগে
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের একাধিক পলাতক নেতা-কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া
২ দিন আগে
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক মিথ্যা দাবি করেছেন। যদিও তিনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগে থেকে প্রস্তুত করা বক্তব্য অনুসরণ করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাঁর বক্তব্যের বেশ কিছু ভুয়া বা মিথ্যা দাবি শনাক্ত করেছে। এখানে তাঁর কয়েকটি দাবির তথ্য যাচাই
৩ দিন আগে