
‘শেখ হাসিনার সাজানো বাংলাদেশ এখন লোডশেডিংয়ে অন্ধকার হয়ে গেছে’—গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর এমন বক্তব্য দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
আলোচিত ফটোকার্ডটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হচ্ছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি গিয়াসউদ্দিন তাহেরী সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে এ মন্তব্য করেছেন। অনেক ব্যবহারকারী পোস্টটি সত্য ভেবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
এই দাবিতে পোস্ট আছে এখানে, এখানে , এবং এখানে ।
‘Sojun Ahammed’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ২৭ এপ্রিল দুপুর ৩ টার দিকে আলোচিত দাবিতে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়, যা সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ২৮ এপ্রিল দুপুর ২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত পোস্টটিতে ১ হাজার রিয়েকশন, ৪৭ কমেন্ট ও ৭৮ শেয়ার রয়েছে।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর ছবি ব্যবহার করে চ্যানেল ২৪-এর আদলে একটি ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছে, যেখানে লোগো, তারিখ ও বিস্তারিত কমেন্টের উল্লেখ রয়েছে।
তবে ফটোকার্ডটির লোগোতে ‘Sujon 424’ লেখা দেখা যায় এবং ‘বিস্তারিত কমেন্টে’ বলা হলেও সেখানে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফটোকার্ডে উল্লেখিত ২৭ এপ্রিল তারিখ ধরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ২৪-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে সেখানে এমন কোনো ফটোকার্ড বা মন্তব্য সংবলিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে দেশের অন্যান্য গণমাধ্যম এবং গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলোতেও অনুসন্ধান করা হয়। কোথাও তাঁর এমন বক্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘Janina Television’ নামের একটি স্যাটায়ারধর্মী ফেসবুক পেজ থেকে ২৬ এপ্রিল বিকেল ৩টা ৪১ মিনিটে একই দাবিতে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে বিভিন্ন পেজ ও ব্যবহারকারীর মাধ্যমে দাবিটি ছড়িয়ে পড়ে। ওই পেজটি মূলত নিয়মিত ব্যঙ্গাত্মক ও কাল্পনিক কনটেন্ট প্রকাশ করে থাকে।

পাশাপাশি ‘Sojun Ahammed’ নামের পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এর বায়োতে ‘যাহা বলিব সত্য বলিব, বিপদে পড়িলে মিথ্যা বলিব’ লেখা পাওয়া যায়। পেজটির অন্যান্য পোস্ট বিশ্লেষণেও একই ধরনের ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট দেখা যায়।
এ ছাড়া ‘শেখ হাসিনার অভাব আজ প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি অন্ধকার লোডশেডিংয়ের প্রহরে অনুভূত হচ্ছে’—এমন ক্যাপশনে ১৬ এপ্রিল থেকে ফেসবুকে একাধিক (১ , ২ ) পোস্টও পাওয়া যায়, যা একই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
সিদ্ধান্ত
শেখ হাসিনা ও দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি বানোয়াট।

একদিকে জ্বালানি সংকট, গত কয়েক দিন তীব্র গরম, সেই সঙ্গে লোডশেডিং মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। দিনে-রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তব সংকট এখন নতুন এক সামাজিক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিদিনের রুটিনই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুতের
৯ ঘণ্টা আগে
‘শেখ হাসিনার চেয়ে ভালো সার্ভিস (সেবা), বিশ্বাস করেন আল্লাহর কসম, বাংলাদেশে কেউ দিতে পারবে না। হাসিনার যে সার্ভিস, ও মাই গড’—ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
‘রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিরোধিতা থাকবেই, কিন্তু দিনশেষে জামায়াত-বিএনপি দুই পিতার এক পুত্র’—আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের নামে এমন একটি উদ্ধৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
‘আওয়ামী লীগ দল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম দল, আওয়ামী লীগ ফিরবেই। আমরা চাইলেও আওয়ামী লীগকে আটকাতে পারব না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা, সবাইকে মেনে নিতে হবে’—বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে