
‘আওয়ামী লীগ দল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম দল, আওয়ামী লীগ ফিরবেই। আমরা চাইলেও আওয়ামী লীগকে আটকাতে পারব না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা, সবাইকে মেনে নিতে হবে’—বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে , এখানে , এখানে।
‘Daily News By Dilruba’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ২২ এপ্রিল রাত ৯টা ৬ মিনিটে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। সেখানে একই বক্তব্য উল্লেখ করে ফটোকার্ডটি প্রচার করা হয়। আলোচিত দাবিতে এটিই সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট।
এ ছাড়া ‘প্রতিদিন খবর24’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকেও একই দাবিতে পোস্ট পাওয়া যায়। আলোচিত দাবিতে এটিই সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল শেয়ার করা ওই পোস্টটিতে ২৭ এপ্রিল বেলা ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৮ হাজার ৫০০ রিয়েকশন, ১ হাজার কমেন্ট ও ১ হাজার ৭০০ শেয়ার রয়েছে।
এসব পোস্টের কমেন্ট যাচাই করে দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে প্রচারিত এই বক্তব্যকে সত্য মনে করে কমেন্ট করেছেন।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালিয়ে দেশের কোনো গণমাধ্যমে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া তাঁর ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করেও আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে কোনো তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়নি—তিনি কোথায়, কখন বা কোন প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য করেছেন, তার কোনো উল্লেখ নেই।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে মির্জা ফখরুল’ শিরোনামে The Business Standard–এর ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর প্রকাশিত ওই ভিডিওতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলতে শোনা যায়, ‘আওয়ামী লীগ রাজনীতি বা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না—তা দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে। তবে আমরা কাউকে নিষিদ্ধ করতে পারি না। আর যারা গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত, তাদের অবশ্যই বিচার হতে হবে।’ কিন্তু ওই ভিডিওতে ভাইরাল ফটোকার্ডে প্রচারিত বক্তব্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া Bangladesh Pratidin–এর ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ প্রকাশিত ‘আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রশ্নে কী বলেছেন মির্জা ফখরুল’ শিরোনামে আরেকটি ভিডিওতেও তিনি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে কথা বলেছেন। ভিডিওতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম যেহেতু এখন বন্ধ আছে, বন্ধ থাকবে। বাকিরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ তো চেষ্টা করবেই কিছু কিছু কাজ করার, করছেও। তবে লাভ তো হচ্ছে না, কারণ জনগণ তাদের রিজেক্ট করছে।’
এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে (১, ২, ৩ ) আওয়ামী লীগ নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করলেও ভাইরাল ফটোকার্ডে প্রচারিত বক্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সিদ্ধান্ত
আওয়ামী লীগের ফেরা নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে ছড়িয়ে পড়া মন্তব্যের কোনো প্রমাণ মেলেনি। নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান মল্লিককে ‘জঙ্গি নেতা কর্তৃক পুড়িয়ে হত্যা’ করা হয়েছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে অনেকেই ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক ও বাংলাদেশের বলে দাবি করছেন।
২ দিন আগে
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে বিএনপি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
‘আওয়ামী লীগ যে উন্নয়ন করে গেছে, তা রক্ষণাবেক্ষণ করতেই একটি সরকারের মেয়াদ চলে যাবে’—রুমিন ফারহানা এমন মন্তব্য করেছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
৩ দিন আগে
গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব নেব—শিরীন শারমিন চৌধুরী এমন কথা বলেছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকারের নামে শেয়ার করা ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, তিনি বলেছেন—‘আমি কথা দিলাম গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ...
৩ দিন আগে