Ajker Patrika

দেশে হাতি কমছে, বাড়ছে সংকট

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৫১
দেশে হাতি কমছে, বাড়ছে সংকট
বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে বন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী। ছবি: বিজ্ঞপ্তি

দেশে ক্রমশই কমছে বন্য হাতির সংখ্যা, অন্যদিকে বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাত। আবাসস্থল দখল ও ধ্বংস, বন উজাড়, অবৈধ শিকার ও বন্যপ্রাণী অপরাধের কারণে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে দেশের হাতি।

বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

গত ১৫ বছরে হাতির আক্রমণে নিহত হয়েছেন ৩২২ জন। আহত হয়েছেন আরও ১৬৯ জন। ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২১৫টি পরিবার। এসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সরকার এ সময়ে প্রায় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, শুধু হাতি রক্ষা নয়, তাদের আবাসস্থল রক্ষা করা গেলে বন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশও সুরক্ষিত হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বন বিভাগের মাঠকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশে হাতি কত

মন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্য হাতি ছিল ২৬৮টি। এর বাইরে পরিযায়ী বন্য হাতি ছিল ৯৩টি এবং পোষা হাতি ৯৬টি। ২০২৭ সালের মধ্যে দেশে নতুন করে হাতি জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাতি সংরক্ষণে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, Bangladesh Elephant Conservation Action Plan (2018–2027) প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে হাতি সংরক্ষণে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নিহতের পরিবার পাবে ৩ লাখ

মানুষ-হাতি সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী হাতির আক্রমণে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং জানমালের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।

২০১২ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নিহত ৩২২ ব্যক্তির পরিবার, আহত ১৬৯ জন এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতিগ্রস্ত ৩ হাজার ২১৫টি পরিবারকে মোট প্রায় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে বন অধিদপ্তরকে নির্দেশনাও দেন মন্ত্রী।

হাতি ঠেকাতে ১৫৯ দল

মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাতি অধ্যুষিত এলাকায় এ পর্যন্ত ১৫৯টি ’Elephant Response Team (ERT)’ গঠন করা হয়েছে।

এসব দল হাতির আগমন সম্পর্কে স্থানীয় মানুষকে সতর্ক করা, হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপদ উপায়ে মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে কাজ করছে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে হাতি সংরক্ষণের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল তাঁর এলাকায় হাতির আক্রমণ ও ক্ষতিপূরণের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় হাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, হাতি শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই বিপন্ন। হাতি সংরক্ষণের সুফল তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা না গেলেও এর দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব অনেক। সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাতি সংরক্ষণে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল মোতালেবসহ হাতি সংরক্ষণে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, বন অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত