Ajker Patrika

গাজার আগের ও পরের স্যাটেলাইট ছবি শেয়ার করে যা বললেন জোলি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
গাজার আগের ও পরের স্যাটেলাইট ছবি শেয়ার করে যা বললেন জোলি
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ছবি: এএফপি

স্যাটেলাইটের ছবিতে এখন স্পষ্ট দেখা যায় গাজার ধ্বংসস্তূপ। একসময় যেখানে ছিল ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল ও জনবসতি, সেখানে এখন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ধ্বংসের চিহ্ন। মার্কিন অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি গাজার যুদ্ধের আগে ও পরের স্যাটেলাইট ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, এই ছবিগুলো ধ্বংসের মাত্রা দেখাতে পারে, কিন্তু ধ্বংসের মধ্যে বেঁচে থাকা মানুষের কষ্ট, নিহত পরিবারগুলোর শূন্যতা কিংবা ঘর হারানো মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তবতা দেখাতে পারে না। আসন্ন শীত সামনে রেখে তিনি গাজার মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয়, মানবিক সহায়তা ও হাসপাতালগুলোর জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের ভেরিফায়েড পেইজে মার্কিন অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি গাজার স্যাটেলাইট ছবি শেয়ার করে ইসরায়েলের যুদ্ধের আগে ও পরের পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এখন আপনি গুগল আর্থ খুলে দেখতে পারবেন, গাজার সঙ্গে কী করা হয়েছে।’

জোলির শেয়ার করা ইনস্টাগ্রাম পোস্টের স্ক্রিনশট। ছবি: সংগৃহীত
জোলির শেয়ার করা ইনস্টাগ্রাম পোস্টের স্ক্রিনশট। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ওই পোস্টে তিনি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি বলেন, ‘পুরো পুরো এলাকাগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।’ একই সঙ্গে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ‘ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, গাজার প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ত্রাণ ও আশ্রয়ের সামগ্রী এখনো বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও বিলম্বের মুখে পড়ছে।’

তিনি লেখেন, ‘গুগল আর্থ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধ্বংসযজ্ঞের বাস্তব চিত্র দেখাচ্ছে। মানুষকে শীত আসার আগেই আশ্রয় দিতে হবে। প্রয়োজনীয় মাত্রায় মানবিক সহায়তা বেসামরিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন।’

জোলি তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘এখন আপনি গুগল আর্থ খুলে দেখতে পারবেন, গাজার সঙ্গে কী করা হয়েছে। পুরো এলাকাগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাড়িঘর, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, সড়ক, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যেসব অবকাঠামোর ওপর তারা নির্ভর করত, সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।’

মার্কিন এই অভিনেত্রী আরও লেখেন, ‘জাতিসংঘের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত গাজার ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্থাপনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গাজার ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৯৪ শতাংশের আশ্রয় সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দরকার। ত্রাণ ও আশ্রয়ের সামগ্রী এখনো বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও বিলম্বের মুখে পড়ছে।’

তাঁর পোস্টে বলা হয়েছে, ‘গুগল আর্থ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধ্বংসের বাস্তব চিত্র দেখাচ্ছে। কিন্তু এর মাধ্যমে বোঝা যায় না, এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাস করার অর্থ কী; নিহত পরিবারগুলোর কী হয়েছে; আর যারা বেঁচে গেছে, তাদের জীবন এখন কেমন। এরপর কী ঘটে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। শীত আসার আগেই মানুষের আশ্রয় প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় মাত্রায় মানবিক সহায়তা বেসামরিক মানুষের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন। এবং বেসামরিক মানুষ যাতে তাদের বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল ও নিজেদের সম্প্রদায় আবার গড়ে তুলতে পারে, সেই পরিবেশও তৈরি করতে হবে।’

পোস্টের শেষে জোলি লেখেন, ‘ধ্বংসযজ্ঞ চোখের সামনে দৃশ্যমান। প্রয়োজনগুলোও জানা আছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেই প্রয়োজনগুলো বাস্তবে পূরণ করা হচ্ছে কি না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত