Ajker Patrika

৮৩ বছর বয়সেও টানা ২৪ ঘণ্টা শুটিং করেছেন, জানালেন অমিতাভ বচ্চন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
৮৩ বছর বয়সেও টানা ২৪ ঘণ্টা শুটিং করেছেন, জানালেন অমিতাভ বচ্চন
অমিতাভ বচ্চন। ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় কুইজ শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র (কেবিসি) ১৮তম সিজনের কাজ সময়মতো শেষ করতে টানা ২৪ ঘণ্টা শুটিং করেছেন ৮৩ বছর বয়সী বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চন। এই বয়সে এসে তাঁর এমন পেশাদারি একদিকে যেমন নজর কেড়েছে, অন্যদিকে নির্ধারিত সময়সীমার (ডেডলাইন) চাপে কাজ করতে গিয়ে কাজের দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত শারীরিক-মানসিক ক্লান্তি (বার্নআউট) নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।

২০০০ সালের ৩ জুলাই সম্প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে (তৃতীয় সিজন ব্যতীত, যেটি শাহরুখ খান পরিচালনা করেছিলেন) কেবিসির প্রতিটি সিজন সঞ্চালনা করে আসছেন অমিতাভ বচ্চন। ব্রিটিশ কুইজ শো ‘হু ওয়ান্টস টু বি আ মিলিয়নিয়ার’-এর অনুকরণে তৈরি এই শোটি ভারতীয় টেলিভিশন ইতিহাসে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

সম্প্রতি নিজের ব্লগে অমিতাভ জানান, নির্ধারিত প্রথম সম্প্রচারের তারিখ রক্ষা করতে তিনি একদিন সকাল ৭টা থেকে শুরু করে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত টানা কাজ করেছেন। তিনি লেখেন, ‘গতকাল সকাল ৭টায় যে কাজ শুরু হয়েছিল, আজ সকাল ৭টায় তা শেষ হলো। তবে অনুষ্ঠানটির প্রচার এবং সময়মতো কাজ শেষ করা আবশ্যক ছিল, তাই তা করেছি।’

পেশাগত দায়িত্ববোধের কথা উল্লেখ করে তিনি কিছুটা কৌতুকের সুরেই বলেন, ‘কেবিসির প্রথম সম্প্রচারের তারিখ ঘোষণা হয়ে গেছে, আর তা মিস করা মানে আমার জায়গায় অন্য কাউকে নিয়ে আসা। তাই যা করার দরকার ছিল, তা-ই করেছি।’

টানা ২৪ ঘণ্টার এই শিফট শেষে কিছু সময় বিশ্রাম ও খাবার খেয়ে আগামী ৬ আগস্টের কাজের জন্য প্রস্তুত হওয়ার কথা জানান তিনি।

কাজের নির্দিষ্ট ডেডলাইন ও দায়িত্ববোধের কারণে অনেক সময় রাত জেগে কাজ করা অনিবার্য হয়ে পড়ে। কিন্তু একটানা রাত জেগে কাজ করা মানুষের মনোযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য ও সাধারণ জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মনোবিজ্ঞানী গুরলিন বারুয়া ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে জানান, গবেষণা অনুযায়ী টানা ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকা একজন মানুষের মনোযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিক্রিয়ার গতিকে এমনভাবে কমিয়ে দেয়, যা আইনিভাবে অ্যালকোহল পান করে মাতাল হওয়ার সমতুল্য।

তিনি বলেন, ‘যেকোনো বড় ডেডলাইন বা উচ্চ মানসিক চাপের পরিস্থিতিতে মানুষ এতটাই নিমগ্ন থাকে যে শরীরের বিশ্রামের সংকেতগুলো উপেক্ষা করে। কিন্তু এটি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই নয়। সাময়িক অতিরিক্ত চেষ্টার পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিলে মানুষের দক্ষতা, স্বাস্থ্য ও বিচারবুদ্ধির অবনতি ঘটে।’

কাজের সঙ্গে আত্মপরিচয় ও বার্নআউটের লক্ষণ অনেক সময় কাজের সাফল্য বা ব্যর্থতার ওপর মানুষের নিজের মানসিক আত্মমর্যাদা নির্ভর করতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সফলতায় আত্মতুষ্টি আর সামান্য সমালোচনায় নিজের পুরো অস্তিত্বকে ব্যর্থ মনে করার এই প্রবণতা এক ভঙ্গুর ব্যক্তিত্ব তৈরি করে।

গুরলিন বারুয়ার মতে, ‘কাজ আমাদের একটি দায়িত্ব বা পেশা হওয়া উচিত, আমাদের মূল পরিচয় নয়। কাজের পারফরম্যান্সের ওপর যখন নিজের স্বকীয়তা নির্ভর করে, তখন সফলতাও মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী স্বস্তি দেয় না।’

ক্লান্তি থেকে পুনরুদ্ধারের উপায় হিসেবে শুধু সামাজিক মাধ্যমে স্ক্রোল করাকে প্রকৃত বিশ্রাম বলে মনে করেন না বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে—ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, পানির ভারসাম্য রক্ষা, প্রকৃতির মাঝে হাঁটাহাঁটি এবং স্ক্রিন থেকে দূরে থাকাই মন ও শরীরকে পুনরায় চাঙা করে তোলে।

একটানা কাজ যদি অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে তার শারীরিক ও সামাজিক লক্ষণ ফুটে ওঠে। অনিয়মিত ঘুম, ঘন ঘন মাথাব্যথা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, শারীরিক ওজন বা রক্তচাপের পরিবর্তন, এবং মানসিক অবসাদ মূলত শরীর ও মনের অতি পরিশ্রমের প্রাথমিক সতর্কবার্তা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত