Ajker Patrika

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি ঢাবির বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠনের

ঢাবি প্রতিনিধি
আপডেট : ২৯ মে ২০২৬, ২১: ৪৪
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি ঢাবির বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠনের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল। বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠনটি অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সাদা দল এ দাবি জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করে যে মন্তব্য করেছেন, তা চরম অবমাননাকর, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অসত্য তথ্যনির্ভর। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও দেশের মানুষ গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন।

সাদা দলের নেতারা বলেন, গবেষণা ও প্রকাশনায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষস্থানীয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন অনুষদের অধীনে প্রায় ৫৬টি সক্রিয় ও বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের তুলনা করতে গিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং স্বাধীনতা-সংগ্রামের সঙ্গে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি পডকাস্টে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমি তো বলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং সেন্টার। আজকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি যে পরিমাণ গবেষণা করে, তার কানাকড়িও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করে না।’

এই মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল ৪টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন ববি হাজ্জাজ। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তার ভুল ব্যাখ্যাও করা হয়েছে। এগুলো সম্পূর্ণই ব্যক্তিগত চিন্তা ও মতামত; এগুলো কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয় বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর দাবি, গত ১৭ বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি—এ বিষয়েই তিনি পডকাস্টে বলার চেষ্টা করেছেন।

সবশেষে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘তারপরও আমার আংশিক বক্তব্যটি যেহেতু কিছুটা ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি করেছে, অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়েছেন, আমার অনেক প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্ক্ষী মর্মাহত হয়েছেন, সে জন্য আমার এই বক্তব্য আমি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং আশা করি, এরপর এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক ও ভুল-বোঝাবুঝি থাকবে না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত