পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ চাপের হতে পারে, যা প্রায়ই তাদের মধ্যে উদ্বেগ, ঘুমের অভাব, খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম এবং মানসিক কষ্টের সৃষ্টি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জের অন্যতম প্রধান কারণ হলো একাডেমিক বা পড়াশোনার চাপ। ভারতে পরীক্ষায় ভালো করার ক্রমবর্ধমান চাপ এই বোঝাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিশুদের নিজেদের জন্য পরীক্ষার মানসিক চাপের লক্ষণগুলো চিনতে পারা এবং তা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য আগাম ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঠিক কৌশলের মাধ্যমে শিশুরা শুধু পড়াশোনাতেই ভালো করবে না, বরং চাপের মুখেও ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে শিখবে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাভীতি কাটানোর কয়েকটি উপায় নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা।
পরীক্ষার ভয়, সহপাঠীদের সঙ্গে তুলনা, অভিভাবকদের প্রত্যাশা এবং সময়ের চাপের কারণে এই মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক হস্তক্ষেপ এবং মানসিক সমর্থন একাডেমিক চাপের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। লক্ষ্য শুধু ভালো গ্রেড পাওয়া নয়, বরং একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা, যা মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং আজীবন শেখার আগ্রহ বাঁচিয়ে রাখে।
পড়াশোনার সময়কে ছোট ছোট এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য ভাগে ভাগ করে নিলে উদ্বেগ কমতে সাহায্য করে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য সময় বরাদ্দ করতে প্ল্যানার বা ক্যালেন্ডার ব্যবহার করুন। একঘেয়েমি বা ক্লান্তি এড়াতে নিয়মিত ছোট বিরতি নিতে উৎসাহিত করুন। একটি ভারসাম্যপূর্ণ সময়সূচি শিক্ষার্থীদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে সাহায্য করে এবং পড়াশোনায় গতি বাড়ায়।
মস্তিষ্কের সঠিক কার্যকারিতার জন্য শিক্ষার্থীদের পরিমিত ঘুমের প্রয়োজন। বিশ্রামের অভাব স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে পড়া এড়িয়ে চলুন এবং ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম (মোবাইল/টিভি) কমিয়ে দিন। পরীক্ষার সময় গভীর ও শান্তিময় ঘুম নিশ্চিত করতে আরামদায়ক ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
পুষ্টিকর খাবার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি এবং আয়রনসমৃদ্ধ খাবার; যেমন আখরোট, ডিম, কলা এবং সবুজ শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখুন। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন, যা ক্লান্তি এবং খিটখিটে মেজাজ তৈরি করতে পারে।
শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম, মেডিটেশন বা মাত্র পাঁচ মিনিটের শান্ত চিন্তা মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। ‘বক্স ব্রিদিং’য়ের (৪ সেকেন্ড শ্বাস নেওয়া, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখা, ৪ সেকেন্ড ছাড়া এবং ৪ সেকেন্ড বিরতি দেওয়া) মতো কৌশলগুলো স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে সাহায্য করে। ইয়োগা বা স্ট্রেচিং শরীরের পেশির টানও দূর করতে পারে।
শিক্ষার্থীদের পড়ার জন্য একটি শান্ত, পরিষ্কার ও জঞ্জালমুক্ত জায়গা তৈরি করে দিন। মোবাইল ফোন, টেলিভিশন বা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশের মতো মনোযোগ নষ্টকারী বিষয়গুলো দূরে রাখুন। গোছানো একটি পড়ার জায়গা মনোযোগ বাড়ায় এবং মানসিক ক্লান্তি কমায়।
শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ‘আমি এটা পারব না’ বা ‘আমি ফেল করব’—এ রকম নেতিবাচক চিন্তার মাধ্যমে মানসিক চাপে ভোগে। অভিভাবকদের উচিত তাদের উৎসাহিত করা, যাতে তারা এগুলো বদলে ইতিবাচক কথা বলে। যেমন ‘আমি প্রস্তুতি নিয়েছি’ বা ‘আমি আমার সেরাটা দেব।’ ইতিবাচক মনোভাব আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ভয় কমায়।
ব্যায়াম মানসিক চাপ কমানোর একটি পরীক্ষিত উপায়। মাত্র ২০ মিনিটের হাঁটা, নাচ বা খেলাধুলাও মেজাজ ফুরফুরে করে এবং মনোযোগ বাড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রমের পরামর্শ দেয়, বিশেষ করে যখন মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের জীবনে পরীক্ষা একটি অংশমাত্র, এটি তার যোগ্যতার একমাত্র পরিচয় নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেমনটি গুরুত্ব দিয়েছে—একাডেমিক সাফল্যের মতোই মানসিক সুস্থতা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা, সহায়ক পরিবেশ তৈরি এবং খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাস ও শান্ত মনে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে পারবে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের শেখানো উচিত—মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা একটি জীবনমুখী দক্ষতা, যা শুধু পরীক্ষার সময়ের জন্য নয়।
সূত্র: এনডিটিভি ডটকম

‘সুশাসন, ন্যায়বিচার ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী ৪র্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০২৬-এর আয়োজন করেছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি)। ৮ ও ৯ মে, রাজধানীর ঢাকা শেরাটন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুলিয়াস্থ নিজস্ব ক্যাম্পাসে এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
১৩ ঘণ্টা আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (ডিইউএমসিজেএ) সদস্যদের সরাসরি ভোটে আগামী দুই বছরের (২০২৬-২৮) জন্য নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন টাইমস অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা সম্পাদক ইলিয়াস খান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন স্বাধীন মিডিয়ার...
১৩ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠান এডুর্যাঙ্ক–এর ২০২৬ সালের বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ বিষয়ে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ফর ইনোভেশন-উরিতে আবারও একটা ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টি ৬৪ ধাপ এগিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯৩তম স্থান অর্জন করেছে।
১৮ ঘণ্টা আগে