Ajker Patrika

বাজেটে শিক্ষা খাত: বরাদ্দ বাড়লেও চ্যালেঞ্জ স্বচ্ছতায়

  • চলতি অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব।
  • শিক্ষার তিন প্রধান বিভাগে বরাদ্দের প্রস্তাব মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।
  • শিক্ষাবিদেরা বলছেন, বরাদ্দের চেয়ে অর্থের কার্যকর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
রাহুল শর্মা, ঢাকা 
বাজেটে শিক্ষা খাত: বরাদ্দ বাড়লেও চ্যালেঞ্জ স্বচ্ছতায়
ফাইল ছবি

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে চলতি অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদেরা। তবে তাঁরা বলছেন, বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহারে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন। বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। শিক্ষা নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। অতীতে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রকল্প, বিশেষ করে প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে অনিয়ম ও অপচয়ের অভিযোগ উঠেছিল। তাই আর্থিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে বাড়তি বরাদ্দের প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে। তিনি বলেন, বাজেটে শিক্ষা উন্নয়নের নানা উদ্যোগ থাকলেও গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণের বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন এবং ফলাফল মূল্যায়নের জন্য গবেষণায় বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।

বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা—শিক্ষা খাতের এ তিন প্রধান বিভাগ মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। বাকি অর্থ স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই তিন বিভাগে মোট বরাদ্দ ছিল ৮৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা।

শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এ বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে তবেই শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এর বাস্তব প্রভাব দৃশ্যমান হবে।

বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের প্রবণতা নিম্নমুখী ছিল। এবার বরাদ্দ বৃদ্ধি শিক্ষা খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা। তবে মূল চ্যালেঞ্জ হলো বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহারে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পাঠ্যক্রম সংস্কারসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে বরাদ্দের অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. আজম খান বলেন, সরকার তার প্রথম বাজেটেই শিক্ষা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর যে প্রস্তাব করেছে, তা এ খাতসংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। শুধু মুখের কথায় শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হয় না, তা বাস্তবায়নে রসদও প্রয়োজন। তিনি আশা করেন, সরকার এ বিষয়ে নজর দেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত