Ajker Patrika

কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশে ভর্তি: অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থাকবে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশে ভর্তি: অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থাকবে
রাজশাহী বোর্ডে ৭ বছরের মধ্যে এসএসসির পাসের হার সর্বনিম্ন। ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে প্রায় ২৬ লাখ। কিন্তু চলতি বছর মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ শিক্ষার্থী। এ হিসাবে একাদশ শ্রেণিতে ফাঁকা থাকবে সাড়ে ১৪ লাখের বেশি আসন; যা মোট আসনের অর্ধেকের বেশি।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, একাদশ শ্রেণিতে ১৪ লাখের বেশি আসন ফাঁকা থাকলেও ভালো কলেজগুলোতে আসনসংখ্যার চেয়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। ফলে ভালো কলেজে ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে। জিপিএ-৫ পাওয়া অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। এবারও ফলের ভিত্তিতে একাদশে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

দেশের নয়টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল গত সোমবার প্রকাশিত হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে মেয়েরা। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন এবং ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০ জন। অবশ্য গতবারের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছরের চেয়ে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এবার গড় পাসের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ২০২৫ সালের তথ্য বলছে, নয়টি সাধারণ ও মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে প্রায় ২৬ লাখ। এর মধ্যে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে একাদশে আসন রয়েছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬টি এবং নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে রয়েছে ২২ লাখ ৬৬ হাজার ৭৯২টি। এবার মাধ্যমিকে ১১টি বোর্ড মিলে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। সে হিসাবে ১৪ লাখের বেশি আসন খালি থাকবে।

জানতে চাইলে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মুনসী হুমায়ুন কবির আজকের পত্রিকাকে বলেন, শিগগির একাদশ শ্রেণির ফাঁকা আসনের তালিকা চূড়ান্ত করে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। একাদশে আসনসংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ, কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য বলছে, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে, ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪৯টি। সবচেয়ে কম আসন রয়েছে সিলেট বোর্ডে, ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪০৫টি। এ ছাড়া বরিশাল বোর্ডে আসন রয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮৫টি, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮০৪টি, কুমিল্লা বোর্ডে ২ লাখ ৬২ হাজার ৩২০টি, দিনাজপুর বোর্ডে ৩ লাখ ৩১ হাজার ২১০টি, যশোর বোর্ডে ২ লাখ ২১ হাজার ২২৯টি, ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭০৭টি এবং রাজশাহী বোর্ডে ৩ লাখ ৯২ হাজার ১৮২টি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে মানসম্পন্ন ও ভালো কলেজ হিসেবে বিবেচিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই শতাধিক। এগুলোতে মোট আসন রয়েছে এক লাখের কাছাকাছি। এসব কলেজেই শিক্ষার্থীদের ভর্তির আগ্রহ বেশি থাকবে। তবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকে রাজধানীর কলেজগুলোর দিকে। ঢাকায় মানসম্পন্ন কলেজের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০টি। ফলে এগুলোতে ভর্তির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা হয়।

জানতে চাইলে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, এবার একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ২৬ লাখ আসন থাকলেও পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার। সে হিসাবে সাড়ে ১৪ লাখের বেশি আসন ফাঁকা থাকবে। তবে ভালো কলেজগুলোয় ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা হবে। কবে নাগাদ ভর্তি শুরু হবে, এ বিষয়ে দু-এক দিনের মধ্যে জানানো হবে।

সারা দেশে গত ২১ এপ্রিল একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। ২০ মে এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয়। দাখিল এবং এসএসসি ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।

ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষেও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে দিতে হয়।

পরে শিক্ষার্থীর ফল, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও পছন্দক্রম বিবেচনায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয় পৃথক প্রক্রিয়ায়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। সরকার পরিবর্তনের পর একাদশ শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা চালু হতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা থাকলেও এবারও ফলের ভিত্তিতেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তবে নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজসহ চার্চ পরিচালিত কয়েকটি কলেজে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পৃথক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত