
রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীর কুলানন্দপুর ঘাটে একটি সেতুর অনুপস্থিতিতে দুই পাড়ের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগী—সবাইকে নির্ভর করতে হচ্ছে নৌকা কিংবা অস্থায়ী ভেলা-সদৃশ ব্যবস্থার ওপর। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। নদীর পানি বেড়ে গিয়ে স্রোত তীব্র হওয়ায় পারাপার হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ, কখনো কখনো বন্ধও হয়ে যায়। বিশেষ করে কৃষি অর্থনীতিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের জন্য সেতুর অভাব যেন এক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘাট দিয়ে পারাপার করছেন শত শত মানুষ। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, ঝঞ্ঝায় সেই ছোট খেয়া নৌকাই ভরসা। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীদের কথা নাহয় বাদই দিলাম। কৃষি অর্থনীতিনির্ভর এই অঞ্চলের কৃষক তাঁদের উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, আলু ও শাকসবজি বাজারে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় ফসল ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি যেমন বাড়ছে, তেমনি কৃষিপণ্য উৎপাদনের আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কুলানন্দপুর গ্রামের হারুন মিয়া বলেন, ‘প্রায় ১৫ থেকে ১৬টি গ্রামের মানুষ এই ঘাটের ওপর নির্ভরশীল। একটি ব্রিজ না থাকায় আমাদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই পারাপার অত্যন্ত কষ্টকর।’

একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা হারুন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এত উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু আমাদের এই এলাকায় উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ, তার ওপর নদী পারাপারের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। এপারের ছেলে মেয়েকে ওপারে বিয়ে পর্যন্ত দেয় না। আমরা যেন এখনো পিছিয়ে পড়া জনপদের মানুষ হয়ে আছি।’
কুয়াদপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম এলে দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বৃষ্টি হলেই নদীর পানি বেড়ে যায়, তখন নৌকাও ঠিকমতো চলতে পারে না। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে কেউ হাসপাতালে যেতে চাইলে বিপদের শেষ থাকে না।’
মাটিয়ালপাড়া গ্রামের মিঠু মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে স্কুলে পাঠাতে ভয় পান। একটি ব্রিজ হলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনেকটা নিরাপদ হতো।’
স্থানীয়রা জানান, শুধু যাতায়াত নয়, এই সেতুর অভাবে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও থমকে আছে। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হচ্ছে না, নতুন কোনো শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। অনেক তরুণ বাধ্য হয়ে অন্য জেলায় কাজের সন্ধানে চলে যাচ্ছেন। কুলানন্দপুর ঘাটে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে পীরগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে সময় ও খরচ উভয়ই কমবে, পাশাপাশি কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, ‘এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে শিগগির।’

লালমনিরহাট জেলার ১০০ কিলোমিটার রেলপথে ১২২টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে অনুমোদিত ৯২টি এবং অনুমোদনহীন রয়েছে ৩০টি। কিন্তু অনুমোদিত ক্রসিংগুলোর মধ্যে মাত্র গেটম্যান রয়েছে ৩২টিতে। বাকি ৬০টিতেই কোনো গেটম্যান নেই। ফলে অরক্ষিত এসব স্থানে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
২ ঘণ্টা আগে
মৌলভীবাজারে গত চার দিন বৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ না থাকায় চা-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে চা-পাতার গুণাগুণ নষ্টসহ লোকসানের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত সময়ে বিদ্যুৎ-ব্যবস্থার উন্নয়ন না করা হলে চরমভাবে ব্যাহত হবে চা-পাতার প্রক্রিয়াজাত।
২ ঘণ্টা আগে
বছরে দুবার ধান হয়, একবার টমেটো—এমন তিন ফসলি জমি প্রতিবিঘা বছরে লিজ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৭৫০ টাকা দরে। এমন ৭০ বিঘা জমি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন ও এলাকায় যে প্রচার চালানোর কথা সেটা করা হয়নি।
৫ ঘণ্টা আগে
খুলনার খালিশপুরের সন্ত্রাসী সোনা মিয়া হত্যা মামলার মূল আসামি কানা বেল্লাল (২৪) ও তাঁর সহযোগী সাকিব শেখকে (২২) ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর ছোট বয়রা এলাকার আমেনা মঞ্জিলের সামনে থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
৫ ঘণ্টা আগে