Ajker Patrika

রাজশাহীর গোদাগাড়ী

সম্পদ নিয়ে আতঙ্কে মাদক কারবারিরা

  • দুই মাসে দুজনের সম্পদ ক্রোকের আদেশ।
  • ২০ জনের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চলছে।
  • তালিকায় ১৮৪ গডফাদার, হবে তদন্ত।
রিমন রহমান, রাজশাহী
সম্পদ নিয়ে আতঙ্কে মাদক কারবারিরা

মাদক কারবারে অর্জিত সম্পদ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ীর হেরোইন কারবারিরা। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে শীর্ষ দুই কারবারির সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। আরও ২০ জনের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। পর্যায়ক্রমে গোদাগাড়ীর ১৮৪ হেরোইন মাফিয়ার ব্যাপারে তদন্ত হবে বলে জানা গেছে। এতে ঘুম হারাম হয়েছে মাদক কারবারিদের। তবে সম্পদ ক্রোক করার বিষয়টিকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন বিশিষ্টজনেরা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের শেষ দিকে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদ খুঁজে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। যাঁদের বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও সম্পদ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মিস পিটিশন মামলা করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁদের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিচ্ছেন।

গোদাগাড়ীর সহড়াগাছি গ্রামের মাদক কারবারি মো. আব্দুল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী সায়েরা বেগমের নামে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক আলী আসলাম হোসেন। সেই মামলায় রাজশাহীর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত গত ৬ এপ্রিল আব্দুল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী সায়েরার সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন।

এ ছাড়া একই আদালত গত ২৩ মে শীর্ষ মাদক কারবারি তারেক হোসেনের ১৯৯ দশমিক ১১৭৫ সহস্রাংশ জমি ক্রোক করার আদেশ দেন। গত বছরের ২২ এপ্রিল তারেকের গরুর খামার থেকে সাড়ে ৬ কেজি হেরোইনসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম বলেন, ‘ক্রোকাদেশ থাকা সম্পত্তি কোনোভাবেই বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না। আমরা দুজনের ব্যাপারে আদালতের এই আদেশ পেয়েছি। আদালতের আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হবে।’

গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ-সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদ ক্রোক করা শুরু হয়েছে, এটি ভালো খবর। আরও আগেই এই প্রক্রিয়া শুরু করা দরকার ছিল। এই খবরে অন্য মাদক কারবারিরা আতঙ্কিত।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গোদাগাড়ী পৌরসভার সাগরপাড়া মহল্লার মাদক কারবারি আবুল কালাম আজাদের অবৈধ সম্পদের ব্যাপারেও তদন্ত চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মাদকের মামলা রয়েছে। মাদক কারবারে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় পরিবারসহ আত্মগোপন করেন কালাম।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, ‘ইতিমধ্যে দুজনের সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। আরও ২০ জনের ব্যাপারে তদন্ত করছি। তাঁদের সম্পদ খুঁজে দেখতে আমাদের ২০-২২টি দপ্তরের সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। যাঁরা তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি; আয়ের বৈধ উৎস নেই, কিন্তু সম্পদ আছে—এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হবে।’

মেহেদী হাসান জানান, তাঁদের কার্যালয়ে গোদাগাড়ীর ১৮৪ জন মাদক কারবারির তালিকা রয়েছে, যাঁরা হেরোইন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। একে একে সবাইকে তদন্তের আওতায় আনা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত