Ajker Patrika

খুলনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
খুলনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
উৎস রায়। ছবি: সংগৃহীত

ফি বকেয়া ছিল ৭৬ হাজার ৮১৬ টাকা। পরিশোধের সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন সকালে। কর্তৃপক্ষ বলেছিল অভিভাবকদের দিয়ে কথা বলাতে। রাত ৮টায় মা-বাবার সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু তার আধা ঘণ্টা পর খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির (এনডব্লিউই) শিক্ষার্থী উৎস রায়ের (২৬) গামছা দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ধারণা ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। সহপাঠীরা বলছেন, ফি দিতে না পারায় অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন উৎস।

গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা নগরের নিরালা আবাসিক এলাকার ৭ নম্বর সড়কের এফ-৮৫ নম্বর বাড়ির ছয়তলা থেকে উৎস রায়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ রাত ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

আজ মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় খুলনা সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত উৎস রায় খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির স্প্রিং-২২-এর সিএসই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি খুলনার দাকোপ উপজেলার রামনগর গ্রামের কনক কান্তি রায়ের ছেলে। তাঁর বাবা একজন শিক্ষক।

পুলিশ আরও জানায়, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎস রায়ের বকেয়া পাওনা ছিল ৭৬ হাজার ৮১৬ টাকা। গতকাল উৎস পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর একটি আবেদন করেছিলেন। যেখানে এক মাসের মধ্যে ফি পরিশোধের সময় চেয়ে অনুরোধ জানান কর্তৃপক্ষকে।

আবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের হেড অব ডিপার্টমেন্ট মেহেদী হাসান গ্রহণ করেন। তবে আবেদনটির পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, আবেদনের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত আড়াআড়ি একটি দাগ রয়েছে। কোনো আবেদন বাতিল হলে এভাবেই দাগ কেটে দেওয়া হয় বলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা গেছে।

তবে এ বিষয়ে খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) কানাই লাল সরকার বলেন, ‘আবেদনটি পাওয়ার পর তার বাবা-মাকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু তার পক্ষের কোনো অভিভাবক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’

কানাই লাল সরকার আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থী উৎসের মৃত্যুতে আজকের সকল পরীক্ষা এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

নিহত শিক্ষার্থীর মামা কৌসিক রায় বলেন, ‘সন্ধ্যার পর উৎস রায় তার বাবা ও মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিল। সে বকেয়া ফি ৩৫ হাজার টাকার কথা বলেছিল। আপাতত ১০ হাজার দিলে হবে বলেও জানায় সে। তার বাবা বলেছিলেন, সকালে বাজারে গিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেবেন। কিন্তু তার আগেই ও এমনটি করে বসল। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ বুঝতে পারছি না।’

জানতে চাইলে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

মামা কৌসিক রায় বলেন, ‘এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। লাশ নিতে তার বাবা-মা আসেনি। আমরাই লাশ নিয়ে যাব।’

এদিকে উৎসের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠীরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে উৎস খুবই হতাশ ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সুদানে পাকিস্তানের ১.৫ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধবিমান বিক্রি আটকে দিল সৌদি

নওগাঁয় চার খুন: নেপথ্যে সম্পত্তির বিরোধ নাকি অন্য কিছু, পুলিশি হেফাজতে বাবা, দুই বোন ও ভাগনে

প্রচণ্ড গরমে হোটেলের এসি কামরা ভাড়া নিলেন নারী

সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন তাসনিম জারা

নওগাঁয় স্বামী-স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত