Ajker Patrika

খুলনায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
খুলনায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি
কোরবানির পশু। ছবি: আজকের পত্রিকা

খুলনা বিভাগে এবার ১০ লাখ ৭৯ হাজার পশুর চাহিদার বিপরীতে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার কোরবানির পশু রয়েছে। সেই হিসাবে আসন্ন ঈদুল আজহায় এবার খুলনা বিভাগে কোরবানির পশুর সংকট নেই। চাহিদার তুলনায় পশু উৎপাদন বেশি থাকায় এবার দামও ক্রেতাদের নাগালে থাকার আশা করা হচ্ছে। তবে চাষিরা বলছেন, এবার গরু পালনে খরচ বেশি হওয়ায় দামও বেশি হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভাগের ১০ জেলায় ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪৯টি কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরীতে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৬০টি উদ্বৃত্ত রেখে মোট ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮০৯টি কোরবানির পশু স্থানীয়ভাবে পালন করা হয়েছে।

এ বছরের কোরবানির পশুগুলোর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় ১ লাখ ৩০ হাজার ৪২৭টি, বলদ ৩২ হাজার ২৭, গরু ৮২ হাজার ৩০২, মহিষ ৪ হাজার ৮৯, ছাগল ৮ লাখ ৫১ হাজার ৩৭০, ভেড়া ৫১ হাজার ১৭৩ ও অন্যান্য ২১৬টি।

রূপসা উপজেলার সামন্তসেনা গ্রামের এক খামারের মালিক সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, পশুখাদ্যের দাম বাড়ার কারণে এ বছর পশুর দাম কিছুটা বেশি হবে।

ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষক মো. দিদারুল আলম জানান, তিনি প্রায় এক বছর ধরে শুধু ঘাস, ভুট্টা, গমের ভুসি ও স্থানীয় পশুখাদ্য ব্যবহার করে সাতটি দেশি গরু পালন করছেন, পশুগুলোকে সুস্থ এবং ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছেন।

লিয়াকত হোসেন নামের আরেকজন কৃষক তাঁর পারিবারিক পশুপালনের ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন এবং পরে টিপনা গ্রামে তাঁর ভাইদের সঙ্গে আট কাঠা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এই চাষাবাদ শুরু করেন। তাঁদের খামারে এখন গরুর পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি ছাগলও রয়েছে।

জানতে চাইলে খুলনা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিওএলএস) পরিচালক ড. মোহাম্মদ গোলাম হায়দার বলেন, এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১০ লাখ ৭৯ হাজার, গত বছর তা ছিল প্রায় ৮ লাখ ২৯ হাজার। কিন্তু এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহার আগে কোরবানির পশুর দাম কমানোর জন্য ১৪ লাখ ৪৬ হাজার পশু প্রস্তুত রয়েছে।

ড. গোলাম হায়দার বলেন, এখন স্থানীয় পশু দিয়েই শতভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। কারণ, বিভাগে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৬০টি উদ্বৃত্ত পশু থাকবে, যা চাহিদার চেয়ে ৭৪ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। যেহেতু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত, তাই দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ কর্মকর্তা বলেন, ঈদুল আজহার আগেই বিভাগের ১০টি জেলা ও খুলনা শহরের অস্থায়ী পশুর হাটে বিপুল পরিমাণে কোরবানির পশু আনা হবে। ফলে খুলনার চাহিদা মেটাতে অন্য দেশ থেকে পশু আমদানি করার কোনো প্রয়োজন নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত