
বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ সড়ক ব্যবস্থাপনায় কিছু অগ্রগতি আনলেও সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা এখন আরও স্পষ্ট হয়েছে। সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন খসড়া, সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা ও অংশীদারত্ব নিয়ে ঢাকায় সাংবাদিক ও যোগাযোগকর্মীদের জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে বিষয়টি আলোচনা হয়।
আলোচনায় বলা হয়, সড়ক প্রকৌশল, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারকারী, নিরাপদ গতি, আইন প্রয়োগ, জনসচেতনতা এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা কমানো কঠিন।
আজ শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ওয়াইডব্লিউসিএ প্রশিক্ষণ কক্ষে ‘সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন (খসড়া): গণমাধ্যমের ভূমিকা ও অংশীদারত্ব’ শিরোনামে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)।
প্রশিক্ষণে প্রিন্ট, টেলিভিশন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার ২০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। এতে সড়ক নিরাপত্তার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট, সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ, সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন খসড়ার অগ্রগতি, আচরণগত ঝুঁকির কারণ, গণমাধ্যমের নীতি-অধিপরামর্শমূলক ভূমিকা এবং তথ্যভিত্তিক ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরির কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রশিক্ষণে আলোচক হিসেবে অংশ নেন ব্র্যাক রোড সেফটি প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ড. শরিফুল আলম এবং বিএনএনআরসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম বজলুর রহমান।
আলোচকেরা বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সড়ক নিরাপত্তা এখন শুধু পরিবহন খাতের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, নগর ব্যবস্থাপনা, আইনের শাসন, অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত একটি জরুরি উন্নয়ন ইস্যু। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি, আহত হওয়া, পঙ্গুত্ব, পারিবারিক আর্থিক বিপর্যয় এবং উৎপাদনশীলতা হারানোর ঘটনা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে প্রভাবিত করছে।
তাঁরা বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি ৩-এর টার্গেট ৩.৬-এ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে এসডিজি ১১-এর টার্গেট ১১.২-এ সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী, সহজপ্রাপ্য ও টেকসই পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গণপরিবহন সম্প্রসারণ এবং নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচকেরা আরও বলেন, পরিবহন, স্বাস্থ্য, পুলিশ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, অবকাঠামো এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন এসব খাতকে একটি কার্যকর কাঠামোর আওতায় এনে দায়িত্ব, সমন্বয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে।
প্রশিক্ষণে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা শুধু দুর্ঘটনার খবর প্রকাশে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। দুর্ঘটনার কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, আইন ও নীতির ঘাটতি, সড়ক অবকাঠামোর দুর্বলতা, গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার, শিশুর নিরাপত্তা, পথচারীর অধিকার এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী সেবার বিষয়গুলো নিয়ে তথ্যভিত্তিক, বস্তুনিষ্ঠ ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরি জরুরি।
এ এইচ এম বজলুর রহমান বলেন, সড়ক নিরাপত্তা এখন বৈশ্বিক উন্নয়ন আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। আগামী ২০-২১ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ বৈঠকের আগে জাতীয় পর্যায়ে সড়ক নিরাপত্তা আইন, নীতি, অর্থায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আরও গভীর আলোচনা প্রয়োজন।
বজলুর রহমান আরও বলেন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলা, আচরণগত পরিবর্তন উৎসাহিত করা, প্রমাণভিত্তিক নীতি আলোচনায় সহায়তা করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কিশোরগঞ্জের ইটনায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর আরিক মিয়া নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কালীবাড়ি চরের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় কিশোরটির গলায় ইট ও কোমরে বালুর বস্তা বাঁধা ছিল।
১ ঘণ্টা আগে
পেট্রল ঢেলে গায়ে আগুন লাগিয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় জড়িত স্বামী সাজু খানকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে মানববন্ধন হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বীথির পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
১ ঘণ্টা আগে
কনস্টেবল আজিজুল ইসলাম প্রতিবাদ করলে এক আসামি অন্যদের হুকুম দিয়ে চিৎকার করে বলেন, ‘এই বেটা পুলিশকে ধর। আজকে পুলিশ মেরে দুপুরে ভাত খাব।’ এরপর দুজন (আসামি) তাঁর গালে চড় থাপ্পড় দেন ও দোকানে থাকা শক্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে দুই পায়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন।
১ ঘণ্টা আগে
সাব্বির বিন শামস ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা রয়েছে। আজ রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২ ঘণ্টা আগে