Ajker Patrika

পোস্তগোলা শ্মশানঘাট পশুর হাটের আকর্ষণ ‘রাজা বাবু’

জহিরুল আলম পিলু 
পোস্তগোলা শ্মশানঘাট পশুর হাটের আকর্ষণ ‘রাজা বাবু’
চুয়াডাঙ্গা থেকে আনা রাজা বাবু নামের গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

পবিত্র ‎ঈদুল আজহা সামনে রেখে জমে উঠেছে রাজধানীর শ্যামপুর থানার পোস্তগোলা শ্মশানঘাট পশুর হাট। এবার হাটের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ‘রাজা বাবু’ নামের একটি বিশাল গরু। চুয়াডাঙ্গা থেকে আনা গরুটির ওজন প্রায় ২৫ মণ। বিক্রেতারা যার দাম হাঁকছেন ১৫ লাখ টাকা। গরুটির মালিক সবুজ মিয়া।‎

‎ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের কোরবানির পশুর হাটটি অস্থায়ী। তবে প্রতিবছর কোরবানির ঈদের আগে বিশাল এলাকা নিয়ে হাট বসে। শ্মশানঘাট থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর বেড়িবাঁধ ঘেঁষে সদরঘাটমুখী চলে গেছে হাটটি। ইতিমধ্যে হাটটি বিভিন্ন আকারের গরুতে অনেকটা ভরপুর হয়ে উঠেছে। আরও গরু আসছে।

এক নম্বর কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল দেহের উঁচু কালো রঙের একটি গরু। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘রাজা বাবু’। গরুটি দেখতে ভিড় জমিয়েছে অসংখ্য কৌতূহলী মানুষ। এর মধ্যে শিশুরা বেশি। অনেকে আবার ক্যামেরা ও মোবাইল দিয়ে ছবি তুলছেন রাজা বাবুর।‎

‎চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা গরুর ব্যাপারী সবুজ বলেন, ‘গত সোমবার রাজা বাবু ও তিনটি গরু নিয়ে আসি এই হাটে। গরুটি এই হাটের সেরা। গরুটি প্রায় চার বছর সযত্নে লালন-পালন করেছি। রাজা বাবুর দাম ১৫ লাখ টাকা চাচ্ছি। এক ক্রেতা সাড়ে ৭ লাখ টাকা বলেছে। ১১-১২ লাখ টাকা হলে বিক্রি করব।’ ‎

‎কুষ্টিয়া থেকে এসেছেন হাসিবুল ইসলাম। তিনি এনেছেন ১২টি বড় ও মাঝারি আকারের গরু। এগুলোর মধ্যে বিশাল আকৃতির কালো রঙের একটি গরুর নাম ‘টাইগার’। তিনি বলেন, ‘আমার এখানে ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা দামের গরু আছে। সাড়ে ৬ লাখ টাকা দামের একটি গরু এক ক্রেতা ৪ লাখ টাকা বলেছেন। আমরা গত মঙ্গলবার এই হাটে এসেছি। প্রতিবছর এই হাঁটে আসি। এ বছর এখনো একটি গরুও বিক্রি হয়নি। দেখি আরও কয়েক দিন সময় আছে।’

হাসিব আরও বলেন, ‘খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’‎

‎এদিকে ফরিদাবাদ থেকে হাটে সপরিবার গরু কিনতে আসা ব্যবসায়ী আয়নাল হোসেন জানান, এবার গরুর দাম একটু বেশি। তিনি বলেন, ‘একটি গরুর দাম বলা হচ্ছে ৭ লাখ টাকা, কিন্তু আমি বলেছি সাড়ে ৩ লাখ। দেখি ভাগ্যে কোনটা আছে। বাচ্চাদের আবদার আর ঈদের খুশির জন্য কয়েক দিন আগেই কিনতে এসেছি।’‎

‎জুরাইন থেকে আসা ক্রেতা প্রবাসী আশরাফ ২ লাখ ৪২ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘দাম সন্তোষজনক বলে মনে হচ্ছে। কয়েক দিন পর ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে যাবে। তাই আগেই কিনলাম।’ ‎

হাট পরিচালনা কমিটির পরিচালক মেরাজুল ইসলাম বাবুল, শফিউল্লা সুমন ও শাহালম মোল্লা আজকের পত্রিকাকে জানান, ইতোমধ্যে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সুবিধার জন্য হাটে রাখা হয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা, জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন, তিন থেকে চারটি ব্যাংকের বুথ, নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল, পর্যাপ্ত থাকা-খাওয়া ও পানির ব্যবস্থা, টয়লেট এবং পশুচিকিৎসকের সুবিধা। হাসিল নেওয়া হচ্ছে শতকরা ৫ টাকা।‎

শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আমাদের সদস্যরা পোশাক ও সাদাপোশাকে হাটে সতর্ক রয়েছেন। রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার।’ ‎

‎হাটে এখনো বেচাকেনা পুরোপুরি জমে না উঠলেও প্রতিদিন ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি বাড়ছে। কিছু গরু বিক্রিও হয়েছে। ঈদের আরও কয়েক দিন বাকি, তাই মূল বেচাকেনা জমবে কয়েক দিনের মধ্যে—এমনটি প্রত্যাশা করছেন হাট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।‎

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত