Ajker Patrika

চট্টগ্রামে ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, রাত বাড়লেই বাড়ছে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, রাত বাড়লেই বাড়ছে ভোগান্তি
ফাইল ছবি

জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং ২৫০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে নগরবাসীকে দিনের বড় অংশ বিদ্যুৎ ছাড়া কাটাতে হচ্ছে। আর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোগান্তি বাড়ছে কয়েক গুণ।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চট্টগ্রাম জোনের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল বেলা ১১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৮৪ মেগাওয়াট, যা সন্ধ্যা ৭টায় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৩২ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াটে। বিপরীতে সরবরাহ ছিল বেলা ১১টায় ১ হাজার ৯৫ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ১ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াট। এ হিসাবে দিনে গড়ে লোডশেডিং দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮১ দশমিক ৮২ মেগাওয়াট।

চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে জ্বালানি সংকটের কারণে ছয়টি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া ও জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বন্ধ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের একাধিক ইউনিট, রাউজানের দুটি ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্র ও জুডিয়াকের ৫৪ মেগাওয়াট কেন্দ্র রয়েছে। অন্যদিকে সচল কেন্দ্রগুলো থেকেও সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন হচ্ছে, যা সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে সময় লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। চকবাজার, বহদ্দারহাট, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।

এ ছাড়া লোডশেডিংয়ের প্রভাবে বাসাবাড়িতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ওয়াসার পানি সংগ্রহে বিঘ্ন ঘটায় অনেক এলাকায় মানুষকে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রাম কলেজ রোডের বাসিন্দা নুসরাত জাহান বলেন, রাতে বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গরমে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। বিদ্যুৎ গেলে দুই-তিন ঘণ্টা থাকে না। এভাবে চললে বাসায় থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি এলাকার বাসিন্দা উম্মে হাবিবা বলেন, ‘দিনে অফিস, রাতে বাসায় এসেও শান্তি নেই। বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে পারি না। পরের দিন কাজের ওপরও প্রভাব পড়ছে।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়টিতে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। তবে চলমান জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে এই চাপ তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। অফিস সময় কমানো ও শপিং মল দ্রুত বন্ধ রাখার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির চট্টগ্রামের সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডেটা অ্যাকুইজিশন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া ও জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

ফাহমিদা জামান আরও বলেন, সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা ওঠানামা করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত