Ajker Patrika

শেয়ারবাজারে এসেই হুলুস্থুল: বন্ড বিক্রির ঘোষণার পরই হারাল ৬০০ বিলিয়ন ডলার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ১২: ০১
শেয়ারবাজারে এসেই হুলুস্থুল: বন্ড বিক্রির ঘোষণার পরই হারাল ৬০০ বিলিয়ন ডলার
ছবি: সংগৃহীত

টানা তিন দিন ধরে শেয়ারবাজারে বড় পতনের মুখে পড়েছে ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো বিনিয়োগের উপযোগী করপোরেট বন্ড বিক্রি করার ঘোষণা দেওয়ার পরই পুঁজিবাজারে এই ধস নামে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বন্ড ছাড়ছে স্পেসএক্স।

গতকাল সোমবার মার্কিন শেয়ারবাজারে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ১৬ শতাংশ কমে ১৫৪ দশমিক ৬০ ডলারে নেমে আসে, যা প্রতিষ্ঠানটির লেনদেনের প্রথম দিনের পর সবচেয়ে কম। এর ফলে গত তিন দিনে স্পেসএক্সের শেয়ারের পতন হয়েছে ২৩ শতাংশ এবং বাজার থেকে মুছে গেছে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন (৬০,০০০ কোটি) মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ।

এই বড় পতনের পরও স্পেসএক্সের বাজার মূলধন বর্তমানে ২ ট্রিলিয়ন (২ লাখ কোটি) ডলারের ঠিক ওপরে রয়েছে। এই মূলধন নিয়ে এটি এখন বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম কোম্পানি।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্পেসএক্স তাদের প্রথম বন্ড ইস্যু বা বিক্রির মাধ্যমে বাজার থেকে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এ ছাড়া সোমবার কোম্পানিটি নিশ্চিত করেছে, তারা ‘রিফ্লেকশন এআই’ নামের একটি স্টার্টআপকে কম্পিউটিং রিসোর্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সরবরাহের জন্য বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইলন মাস্কের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’কে কিনে নেওয়ার পর থেকেই স্পেসএক্স মহাকাশ ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে নিজেদের জোরদার অবস্থান তৈরি করছে।

বাজারে গুঞ্জন রয়েছে, চলতি বছরই প্রযুক্তি খাতের অন্য দুই এআই জায়ান্ট ‘অ্যানথ্রোপিক’ এবং ‘ওপেনএআই’ প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার মূল্যায়ন নিয়ে আইপিওতে (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) অংশ নিতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের এই অগ্রযাত্রার মুখোমুখি হতেই মূলত স্পেসএক্স এই ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

স্পেসএক্সের রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলারের আইপিও বা প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার পর প্রথম দিনগুলোতে বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা যায়। বাজারে লেনদেনের জন্য প্রথম দিন মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ার উন্মুক্ত ছিল (যাকে পুঁজিবাজারের পরিভাষায় ‘লো ফ্লোট’ বলা হয়)। শেয়ারের সংখ্যা কম থাকায় সাধারণ বা খুচরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এটি কেনার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

‘ভান্ডা রিসার্চ’-এর তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্সের শেয়ার কেনাবেচায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল সাম্প্রতিক ইতিহাসের যেকোনো আইপিওর চেয়ে বেশি। লেনদেনের প্রথম পাঁচ কার্যদিবসেই তারা নিট ৪০৫ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার কেনে।

এমনকি গত সপ্তাহে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আমেরিকার বিখ্যাত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ (শীর্ষ সাতটি বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান) এর সব শেয়ার মিলিয়ে যা কিনেছে, তার চেয়েও বেশি স্পেসএক্সের শেয়ার কিনেছে। সোমবার শেয়ারের দাম কমলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিট ক্রেতা হিসেবেই ছিলেন, তবে ক্রয়ের পরিমাণ আগের সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা কম ছিল।

বিশ্লেষকেরা কী বলছেন?

শেয়ারবাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান জোন্স ট্রেডিংয়ের প্রধান বাজার কৌশলবিদ মাইকেল ও’রুরকে এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘বিক্রেতারা আবার বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছেন। বিশ্বের যার যার এই শেয়ার কেনার ইচ্ছা ছিল, তাঁরা ইতিমধ্যেই তা কিনে ফেলেছেন। তাই এখন নতুন ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার সংখ্যা বেশি।’

অন্যদিকে, ‘কিব্যাংক ক্যাপিটাল মার্কেটস’ স্পেসএক্সের শেয়ার রেটিংয়ে ‘সেক্টর ওয়েইট’ (শেয়ারটি ধরে রাখার পরামর্শ বা হোল্ড র‍েটিং) দিয়েছে। ব্লুমবার্গের ট্র্যাক করা তথ্য অনুযায়ী, এটিই স্পেসএক্সের জন্য প্রথম কোনো সাধারণ বা নিরপেক্ষ রেটিং।

কিব্যাংকের বিশ্লেষক মাইকেল লেশকের নেতৃত্বে একটি দল এক নোটে লিখেছে, মহাকাশ গবেষণা, রকেট উৎক্ষেপণ এবং এর আশপাশের অন্যান্য খাতে স্পেসএক্স অবশ্যই নেতৃত্ব ধরে রাখবে। তবে এই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যেই বর্তমান শেয়ারের উচ্চমূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘স্পেসএক্সের সামনে প্রবৃদ্ধির দারুণ ও বৈপ্লবিক কিছু পথ খোলা রয়েছে। তবে আমাদের মনে হয়, কোম্পানির বর্তমান বাজার মূল্যায়নে তা ইতিমধ্যেই প্রতিফলিত হয়ে গেছে এবং বর্তমান অবস্থায় বিনিয়োগের ঝুঁকি ও লাভ বেশ ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় আছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত